উদ্যোগ প্রধান শিক্ষকের, ৬২ বছর পর হল রাস্তা, এল বিদ্যুৎ

0
496
ইন্দ্রাণী সেন, বাঁকুড়া

সবুজ মাঠ, গাছ গাছালি আর কচিকাঁচাদের কলতান। এ দৃশ্য একাধারে চোখের আরাম, অন্যদিকে মনের শান্তি। শহরে থাকা মানুষদের কাছে এ ছবি যেন স্বপ্ন বিলাসিতা। চারিদিকে সবুজ মাঠ, পাশ দিয়ে বইছে সংকীর্ণ খাল। সেই মাঠের মাঝেই বুড়ো বটের ঠিক পাশে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের পাকা বাড়ি।
বাস্তবে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্কুলের দর্শন মিলবে বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের বক্তারপুর প্রাইমারি স্কুলে। ১৯৫৫ থেকে ২০১৭, সময়টা নেহাত কম নয়, ৬২ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে এই স্কুলে যাওয়ার জন্য ছিল না কোনো স্থায়ী রাস্তা, ছিল না বিদ্যুৎ-এর ব্যবস্থাও । পড়ুয়া-শিক্ষক সবার কাছে এখানে রাস্তা বলতে জমির আল। স্কুলে যাওয়া-আসার একমাত্র ভরসা ছিল আল। বর্ষার সময়ে স্কুলে যাওয়ার পথে ক্ষুদেরা জলে পড়ে যেত, আবার কখনও শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ত বিষধর সাপ। কিন্তু সেই ছবি এখন অতীত।

এই স্কুলে এখন বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়েছে। কাজ হচ্ছে পাকা রাস্তারও। যাঁর উদ্যোগে এইসব সম্ভব হয়েছে, তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপকুমার রায়। মাত্র ছ’মাস হল প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়েছেন দিলীপবাবু। এখানে এসেই ছাত্র-ছাত্রীর সমস্যার সমাধানে নেমে পড়েছেন। স্কুলের জন্য স্থায়ী রাস্তা ও বিদ্যুৎ পরিষেবা চালুর জন্য স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও বিডিও-র কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন । দ্রুততার সঙ্গে আবেদন মঞ্জুর করেন ইন্দাসের বিডিও সুচেতনা দাস। এ প্রসঙ্গে সুচেতনাদেবী বলেন, “আমার ব্লকে এই স্কুলের জন্য রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই, এই খবর আমার জানা ছিল না। খবরটা পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুলের জন্য স্থায়ী রাস্তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিই। এটা করে খুবই ভাল লাগছে।”

স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া তনুশ্রী দুলের কথায়,”এরপর আর বৃষ্টির সময় আল পেরিয়ে স্কুলে আসতে হবে না আর গরমেও পাওয়া যাবে পাখার হাওয়া। এখন স্কুলে আসার আনন্দটাই আলাদা।” রাস্তায় তৈরির কাজ প্রায় শেষ হওয়ার মুখে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ।

বর্তমানে স্কুলের ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা ষাট। রয়েছে তিনজন স্থায়ী শিক্ষক এবং একজন পার্শ্ব শিক্ষিকা। স্কুলের জন্য এতটুকু করতে পেরে বেশ খুশি দিলীপবাবু। এবার তাঁর লক্ষ একটি শ্রেণিকক্ষ বাড়ানো। তার জন্য আবেদনও করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here