leopard Jalaiguri

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শুরু হয়েছিল রাতের অন্ধকারে, শেষ হল দিনের আলোয়। এই কয়েক ঘণ্টায় ন’জনকে জখম করে আতঙ্ক ছড়িয়ে শেষে ঘুমপাড়ানি গুলি খেয়ে রণে ভঙ্গ দিল মূর্তিমান আতঙ্ক, একটি চিতাবাঘ।

জলপাইগুড়ি সংলগ্ন কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ির ঘটনা।

হলদিবাড়ির পার মেখলিগঞ্জ এলাকায় চিতাবাঘটি প্রথম হানা দেয় সোমবার রাতে। বাঁশঝাড়ের আড়ালে একটি গর্তে ওত পেতে বসেছিল সে। প্রথমে এলাকার তিন জন বাসিন্দা তাকে দেখতে পায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে ভড়কে গিয়ে আক্রমণ চালায় চিতাটি। জখম হয় পার্থ সেন নামে এক জন। এর পর লাঠিসোটা নিয়ে প্রচুর মানুষ তাড়া করায় চিতাবাঘটি একটি পুকুরের পাশে বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আসে মেখলিগঞ্জ রেঞ্জের রেঞ্জার জোৎস্না সুব্বা এবং বনকর্মীরা আসেন। আসে দেওয়ানগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। কিন্তু রাতে আর সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সকালে ফের চিতাবাঘটিকে এলাকায় দেখা যায়। ভিড় জমে যায় উৎসাহী মানুষের। তারা চিতাটিকে লক্ষ করে ঢিল ছুড়তে শুরু করে। কেউ কেউ লাঠিসোটা নিয়ে পিছু ধাওয়া করে। উত্যক্ত হয়ে পালটা আক্রমণ শানায় চিতাবাঘটি। একে একে জখম হয় আরও ন’ জন। এর পরেই তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে। এ বার মেখলিগঞ্জের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি থেকেও ‘ পাঠানো হয় প্রশিক্ষিত বনকর্মীদের। তবে তাঁরাও সেটিকে বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পরেও বাগে আনতে না পেরে চিতাবাঘটিকে লক্ষ করে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়েন বনকর্মীরা। তার পর সেটিকে একটি জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। অভিযোগ, এর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হয় চিতাবাঘটির ওপর। দমাদম লাঠির বাড়ি পড়তে থাকে তার ওপর। সেই সময় চিতাটি জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়। যদিও বেশি দূর যেতে পারেনি সে, ঘুমপাড়ানি গুলির রেশ থাকায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে সংজ্ঞাহীন হয়ে লুটিয়ে পড়ে। এর পর বনকর্মীরা সেটিকে উদ্ধার করেন।

কোচবিহার বনবিভাগের বনাধিকারিক বিমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসার পর আগামীকাল বুধবার চিতাবাঘটিকে গরুমারার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ দিকে এই চিতাবাঘটি ওই এলাকায় কী ভাবে এল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ কাছাকাছি এলাকায় কোনো বনাঞ্চল নেই। তবে বনাধিকারিকদের অনুমাণ, গরুমারার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে তিস্তার চর পার করে খাবারের খোঁজে এই এলাকায় ঢুকে পড়ে সে।

চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলেও তার আতঙ্কের রেশ যায়নি এখনও। হলদিবাড়ি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম ন’ জনের মধ্যে আট জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এক জন চিকিৎসাধীন। অর্পণ রায় নামে জখম এক ব্যাক্তি জানিয়েছেন, এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তাঁর প্রথম। চিতার দাপাদাপি না থাকলেও তার আতঙ্কের রেশ যে এখনও রয়ে গিয়েছে তা এলাকায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন