maldah

ওয়েবডেস্ক: এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলা সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা পরিষদের দখল নিয়ে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর নেপথ্যে তৃণমূলের যুবনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। তবে শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, পার্শ্ববর্তী মালদহ জেলাতেও দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন শুভেন্দুবাবু। পঞ্চায়েতের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি জানিয়েছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ বার তিনি মালদহ উপহার দিতে চান।

১৯৫২ সাল থেকে ‌ মালদহে আধিপত্য বজায় রেখেছে জাতীয় কংগ্রেস। মাঝে বছর দশেক বামপন্থীরা মালদহের রাশ হাতে নিলেও কংগ্রেসের প্রবাদপ্রতীম নেতা আবু বরকত আতাউর গনি খানচৌধুরীর হাত ধরে তা পুনরুদ্ধার করার পর থেকে ‌টানা প্রায় চার দশক সময়ে জাতীয় কংগ্রেস ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দলই সেভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এমনকী, ২০১১-এর পরিবর্তনের ঝড়েও সামান্যমাত্র বদল ঘটেনি কংগ্রেসের এই ‘ঐতিহাসিক’ দখলদারিতে। বর্তমানে জেলার দু’টি লোকসভা কেন্দ্রই কংগ্রেসের দখলে। তবে ইদানীং মালদহের রাজনৈতিক মানচিত্রে পরিবর্তনের ছোঁয়াচ লেগেছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনঘন মালদহ সফরে সে জেলাতেও ঘটে গিয়েছে অভাবনীয় অদলবদল।

২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় দায়িত্ব জিতে নেয় কংগ্রেস। ৩৮ জেলা পরিষদ আসনের মাদলহে কংগ্রেস ছিতেছিল ২০টি আসন। অন্য দিকে বামফ্রন্টের দখলে যায় ১১টি এবং পশ্চিমবঙ্গ সমাজবাদী পার্টি ১টিতে জয়লাভ করে। সেই জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস সে বার জেতে মাত্র ৬টি জেলা পরিষদ আসনে। কিন্তু তারপর জেলা পরিষদ থেকে ১৪ জন কংগ্রেস ও বাম সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেসের কর্তৃত্ব খর্ব হয়ে যায়। ২০ সদস্য নিয়ে পরিষদ বর্তমানে তৃণমূলেরই দখলে। স্বাভাবিক ভাবেই এ বারের নির্বাচনে তৃণমূলের পাল্লা অনেকটাই ভারী। এমনিতে হাতে থাকা জেলা পরিষদ অন্য দিকে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ক্ষয়ে বিজেপির তাৎক্ষণিক উত্থান, দুইয়ে মিলে তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here