teacher

কলকাতা: জি ডি বিড়লা স্কুলে অভিভাবকদের বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করল পুলিশ। এঁদের নাম অভিষেক রায় এবং মহম্মদ মফিজুল। পস্কো (দ্য প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্স্যুয়াল অফেন্সেস) আইনের চার ও ছ নম্বর ধারা অনুসারে এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। যৌন নিগ্রহের শিকার শিশুছাত্রীটি স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে অই দু’ জনকে শনাক্ত করার পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

শুক্রবার কলকাতার অই স্কুলে অভিভাবকদের বিক্ষোভ চরম আকার নেয়। শিশুছাত্রীর যৌন নিগ্রহ-কাণ্ডে কেন সমস্ত প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না এবং কেনই বা তাদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে, এই অভিযোগকে সামনে রেখে অভিভাবকরা সটান ঢুকে পড়েন প্রিন্সিপালের ঘরে। এমনকি স্কুলের বাসগুলিকেও আটকে দেওয়া হয়। এতে পঠন-পাঠনের কাজ শিকেয় ওঠে। এক অভিভাবকের দাবি, যেখানে শিশুর কোনো নিরাপত্তা নেই সেখানে পড়াশোনার কোনো পরিবেশ থাকতে পারে না। আগে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের সঠিক শাস্তি দেওয়া হোক। কারণ এই ধরনের ঘটনা এর আগেও এখানে ঘটেছে বলে নতুন করে অভিযোগ উঠছে।

চার বছরের এক শিশুকন্যাকে স্কুলের মধ্যে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল গতকাল। নির্যাতিতার স্কুলেরই এক পিটি শিক্ষক ঘটনায় অভিযুক্ত বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল। ঘটনায় যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার।

রিজেন্ট পার্ক এলাকার এই নামী ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের নার্সারির ছাত্রী এই নির্যাতিতা শিশুকন্যাটি। বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর বাড়ি এলে তার মায়ের নজরে আসে এই ঘটনা। তার যৌনাঙ্গে ও জামাপ্যান্টে রক্ত দেখতে পাওয়া যায়। শিশুটি তখন বেশ আতঙ্কের মধ্যে ছিল।

পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনায় থানায় এফআইআর দায়ের করতে গিয়েও তাদের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। প্রথমে তারা বাঁশদ্রোণি থানায় যায়। সেখান থেকে তাদের যাদবপুর থানায় পাঠানো হয়। যাদবপুর থানায় গিয়ে তারা অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের অভিযোগ না নিয়ে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আগে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষার পরে বুঝতে পারেন শিশুটির ওপরে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যন্ত্রণাকাতর নির্যাতিতাকে ফের থানায় নিয়ে আসার পর অভিযোগ দায়ের হয়। তার পর তাকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। (ছবিতে অভিযুক্ত মহম্মদ মফিজউদ্দিন ও অভিষেক রায়)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here