আগরপাড়া: মঙ্গলবার দুর্ঘটনায় মৃত আগরপাড়া টেক্সম্যাকোর শ্রমিকের মৃতদেহ ঘিরে বিক্ষোভের অবসান হল দু’দিন পর। সুকুমার জানা নামে একজন ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে গত দু’দিন ধরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল আগরপাড়ার টেক্সম্যাকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ এনআরএস বিভাগের গ্যাস পাইপে পা জড়িয়ে তিনি আছড়ে পড়েন কয়েকটি লোহার টুকরোর ওপর। তাতে তিনি বুকে আঘাত পেয়ে মারা যান বলে শ্রমিকদের দাবি।তার মৃত্যুর পর গত ২২ ডিসেম্বর দুপুর থেকেই কারখানার স্টাফ গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল ছিলেন টেক্সম্যাকোর শ্রমিকরা ও মৃত শ্রমিকের পরিবার। ওই শ্রমিকের পরিবার দাবি জানান, অন্তত ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনের চাকরি দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ‘‘কারখানায় কাজের কোন নিরাপত্তা নেই। কাজ চলাকালীন দুর্ঘটনা আগেও ঘটছে। ম্যানেজমেন্ট কোনো রকম নিরাপত্তা দিতে পারছে না। কারখানায় দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করে যাচ্ছে। মৌখিকভাবে ক্ষতিপূরণের কথা বলেও বহুক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি”।

শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রথমে কারখানা-কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাজনিত কারণে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে মানতে চাননি। হার্ট অ্যাটাকে তিনি মারা গিয়েছেন বলে তাঁরা জানিয়েছিলেন। তাদের আরও অভিযোগ এই অজুহাতেই মৃত শ্রমিকের দেহ খুব দ্রুত কারখানার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরা তা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেহ আটকে রাখেন। মৃতের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে কারখানায় চলে আসেন এবং তারা এই বিক্ষোভে সামিল হন।

sankar-jana
সুকুমার জানা

ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ২৩ ডিসেম্বর সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে দেন টেক্সম্যাকো কারখানার সমস্ত শ্রমিক। ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে বারবার আলোচনায় বসেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে ম্যানেজমেন্ট প্রথমে রাজি হয়নি। কারণ হিসাবে তারা জানান যে ঠিকা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে কোন নিয়ম নেই। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণের দাবিতেই অনড় থাকেন এবং ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বকে এব্যাপারে চাপ দিতে থাকেন। অবশেষে শ্রমিকদের এই দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ, বলে সাংবাদিকদের জানান ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্ব।

এরপরই শ্রমিকেরা মৃত সুকুমার জানার দেহ পুলিশের হাতে তুলে দিতে রাজি হন।শুক্রবার দুপুর তিনটে নাগাদ পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে যায় ময়নাতদন্তের জন্য।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে শনিবার সকালে সুকুমার জানার মা হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। মৃত সুকুমার জানার বাড়িতে বর্তমানে আছেন বৃদ্ধ বাবা পাঁচুচরণ জানা, স্ত্রী (মুনমুন জানা), মেয়ে সুমনা (‌১০) ছেলে সুমিত (‌৭)‌।

সুকুমারের বাড়ি দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জ সাইবনা এলাকায়। সুকুমার ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। ১৫ বছর ধরে তিনি টেক্সম্যাকো কারখানায় কাজ করেছেন। কিন্তু এতদিন পরও তিনি স্থায়ী শ্রমিক হিসাবে হননি। সুকুমারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার গভীর সংকটে পড়ল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here