ডিভিসির ছাড়া জলে বর্ধমানে কৃষিজমি প্লাবিত, বীজতলা জলের নীচে, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

0
834

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হলেও দামোদরের জলে প্লাবিত হয়ে ক্ষতির মুখে পূর্ব বর্ধমান জেলার বহু গ্রাম। পূর্ব বর্ধমান জেলায় বুধবার রাতের পর থেকে বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। কিন্তু ডিভিসির জলাধারগুলি থেকে টানা জল ছাড়ার ফলে জলের তলায় চলে গিয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। গৃহহীন হয়েছেন বহু মানুষ। যার জন্য খুলতে হয়েছে ত্রাণশিবির।

পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ ডিভিসি ২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০০ কিউসেক হারে জল ছাড়তে শুরু করে। যদিও এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ ডিভিসি থেকে জল ছাড়া হয়েছে ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৫০ কিউসেক হারে। এ দিনই রায়নায় মুণ্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ ভেঙে বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ও দিকে দামোদরের বাঁধ ভেঙে জামালপুর ও রায়না ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

প্লাবিত এলাকা থেকে মানুষজনকে উদ্ধারের কাজ  শুরু  হয়েছে। সমস্ত জায়গায় প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা  দেওয়া হয়েছে বলে জেলাশাসক  জানিয়েছেন। এ দিন দুপুরের দিকে দামোদর, অজয় ও ভাগীরথীর জল কমতে  শুরু করেছে। যদিও বেশ কিছু জায়গায় অতিবৃষ্টিজনিত কারণে জল জমে থাকায় নদীর জল নামতে পারছে না। গোটা বিষয়টির ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। তিনি জানান, জামালপুরে দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরীর বাঁধ মেরামতির  কাজ শুরু হয়েছে।

পূর্ব বর্ধমান জেলাপ্রশাসনের দেওয়া রির্পোট অনুযায়ী এই জেলায় এখনও পর্যন্ত ১১টি ব্লক এবং দু’টি পুরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪৩টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। ৭০৭১ জন মানুষ দুর্দশায় পড়েছেন। ৩৮৯টি বাড়ি পুরোপুরি এবং ১৯৬৮টি কাঁচা বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কাটোয়ায় ১টি, রায়না-২-এর ১টি  এবং বর্ধমান সদরে ১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কিন্তু সব থেকে দুশ্চিন্তায় ‘ধানের গোলা’ বর্ধমানের চাষিরা। টানা চার দিন বৃষ্টির সঙ্গে দামোদরের জলের দরুন জমির ফসলের বীজতলা এখন জলের তলায়। বিশেষ করে দক্ষিণ দামোদরের গ্রাম রায়না, বড় বৈনান, গোঁতান ও আরুই সহ জামালপুরের অধিকাংশ এলাকার চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়াও কালনা ১ ও ২ এবং কাটোয়ার বেশ কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্ত। বর্ধমান কৃষি দফতর সূত্রে বলা হয়েছে, এমনিতেই গত তিন দিন ধরে জলের নীচে ধানের বীজতলা। ৬ থেকে ৭ দিন ফসলের বীজতলা যদি জলের নীচে থাকে তা হলে ফসলের বীজতলা পচতে শুরু করে। এ অবস্থায় চাষে ক্ষতি কী ভাবে সামাল দেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা।

 

 

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here