আকাশবাণীতে লড়াই শুরু, ছাঁটাই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একজোট ঘোষকরা

0
322

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রসারভারতী সম্প্রতি নীতি নিয়েছে,অস্থায়ী কর্মীরা যাতে কখনও স্থায়িত্বের দাবি তুলতে না পারেন সেই কারণে মাঝে মাঝেই তাঁদের বসিয়ে দেওয়া। এই নীতির ফলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা অস্থায়ী কর্মীরা প্রবল অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। অনেকেরই সংসার চালানোর টাকার একটা অংশ প্রসারভারতী থেকেই আসে। কিন্তু এই সরকারি সংস্থার আচমকা ফতোয়ায় গোটা দেশজুড়ে কয়েক হাজার অস্থায়ী কর্মী অসুবিধার মুখে পড়েছে।

সাম্প্রতিক গন্ডগোলের সূত্রপাত আকাশবাণী কলকাতার অস্থায়ী ঘোষকদের নিয়ে। এই পদে রয়েছেন ৬৪ জন। এঁরা কলকাতা ক,কলকাতা খ, এফ এম গোল্ড, এফ এম রেনবো, আকাশবাণী মৈত্রী সহ যাবতীয় চ্য‌ানেলগুলিতে ঘোষণার কাজ সামলান। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্দেশে বলা হয়, এঁদের প্রত্য‌েককেই পরীক্ষায় বসতে হবে। এই ঘোষকদের কেউ কেউ দশ বছর বা বিশ বছর ধরে আকাশবাণীতে কাজ করে আসছেন। তাঁদের কন্ঠস্বর শ্রোতাদের খুবই পরিচিত। এঁদের অনেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এ হেন পরিচিত নামগুলি আকাশবাণীর এই ফতোয়ায় অবাক হয়ে গিয়েছেন। বেশিরভাগ অস্থায়ী ঘোষকই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা পরীক্ষায় বসবেন না। এটা তাঁদের কাছে অপমানজনক। তাঁরা মনে করছেন আসলে পরীক্ষার নাম করে আকাশবাণীতে অস্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রয়োজন।

২০১২ সালে প্রথম এ ধরনের ফতোয়া জারি করা হয়। তাতে বলা হয়েছিল বহু অস্থায়ী ঘোষকের কন্ঠস্বর আর উপযুক্ত নয়। ফলে পরীক্ষার মাধ্য‌মে বেছে নিতে হবে কারা কাজ করার যোগ্য‌। আকাশবাণী কলকাতার ঘোষকদের আশ্বস্ত করে কর্তৃপক্ষ বলেছিল চিন্তার কোনও কারণ নেই, এই কেন্দ্রে বাদ দেওয়ার মতো লোক নেই। কার্যক্ষেত্রে কিন্তু সেবার অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বাদ পড়া ঘোষকরা যে অযোগ্য‌ এমনটা কেউই মনে করেন না, আসলে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী হিসাবে কাজ করার ফলে স্থায়ীকরনের যে দাবি সামনে এসে যায় তাকে সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ বলে অস্থায়ী ঘোষকদের ধারণা। আসলে প্রসারভারতীর এই পদক্ষেপের আগেই কেরল হাইকোর্টে একটি মামলা হয়। তাতে আদালত নির্দেশ দেয় যখন তখন অস্থায়ী কর্মীদের ছেঁটে ফেলা যাবে না। হাইকোর্টের এই রায়কে বুড়ো আঙুল দেখানোর জন্য‌ নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। যার জেরে এই নতুন ফতোয়া।

এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, ৬৪ জন অস্থায়ী ঘোষকের মধ্য‌ে ৪৩ জন পরীক্ষায় বসেননি। কর্তৃপক্ষ অবশ্য‌ তাঁদের আরেকটা সুযোগ দিতে চান। তাই আরও একবার পরীক্ষার ব্য‌বস্থা করা হয়েছে। সেই পরীক্ষায় ক’জন বসেন সেটাই দেখার। তবে এঁদের একটা বড় অংশই চাইছেন প্রসার ভারতীর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করতে। সেদিকে তাকিয়েই কোমর বেঁধেছেন তাঁরা। উল্লেখ্য‌, আকাশবাণীর অস্থায়ী কর্মী বর্তমানে মাসে ৬ দিন হিসাবে বছরে ৭২ দিন কাজ পান। কিন্তু অনেকেই ৭২ দিনের টাকা হাতে পেয়েও এর চেয়ে বেশি ডিউটি করে দেন। ২০১২ সালের পর থেকে তাঁদের কোনো বেতন সংস্কারও হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি আকাশবাণীর প্রতি তাঁদের এতদিনের দায়বদ্ধতাকে কর্তৃপক্ষ স্বীকৃতি দিতে নারাজ?

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here