prakash karat and sitaram yeachuri

ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে সিপিএমের পলিটব্যুরো বৈঠক। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ভাবে সিপিএম ঠিক কোন নীতিকে অবলম্বন করে সামনের দিকে এগোবে, তার একটা পূর্বাভা্স মিলবে এই দু’দিনের বৈঠক থেকে। কিন্তু যত দূর জানা গিয়েছে, বৈঠকের আগে থেকেই সদস্যরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছেন বিজেপি-বিরোধিতার কৌশল প্রসঙ্গে। প্রকাশ কারাত গোষ্ঠী আগামী লোকসভা নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলায় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে সম্মিলিত লড়াইয়ে নামতে না চাইলেও সীতারাম ইয়েচুরি গোষ্ঠী এ বিষয়ে পুরোপুরি ভিন্নমত পোষণ করছে।

কারাত গোষ্ঠীর যুক্তি, বিজেপিকে কেন্দ্র থেকে হঠাতে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলির হাত ধরা যেতেই পারে। তাই বলে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে দলকে নীতিগত সংকটে ফেলা যাবে না। তারা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বোঝাতে চাইছে, ২০১৬ সালে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে আদতে বামেদের কোনো লাভ হয়নি। উলটে ভোটের আগে ফ্রন্টের অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকে জোটের গুরুত্ব বোঝাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। আবার নির্বাচন-পরবর্তী পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ হার নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে বসে সিপিএমকে ভর্ৎসিত হতে হয়েছে শরিক দলগুলির কাছে। উল্লেখ্য, কারাতের দৃ্ষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহমত পোষণ করছেন কেরল ও তামিলনাড়ুর সিপিএম নেতৃত্ব।

সীতারামপন্থীরা অবশ্য এই স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে এগোতে চান না। তাঁরা চান, সারা দেশ জুড়ে যে ভাবে সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে সে দিকে নজর রেখেই যে কোনো বিজেপি-বিরোধী দলের সঙ্গে চলতে। এ ব্যাপারে কংগ্রেসকে অচ্ছুত করে রাখার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নির্দিষ্ট জোট গড়ে আসন ভাগাভাগি সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। কিন্তু যৌথ প্রচার অভিযানে শামিল না হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না ইয়েচুরি-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব।

জানা গিয়েছে, পলিটব্যুরোর বৈঠক থেকে উঠে আসা খসড়া প্রস্তাবটি দলের সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ওই খসড়া প্রস্তাবের উপর আলোচনা হবে এবং ২০১৯-এর সাধারণ নির্বাচনে দলের কৌশল নির্ধারিত হবে।

তবে বাংলা থেকে পলিটব্যুরো সদস্যরা দিল্লিতে হাজির হলেও এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না সিপিএমের রাজ্য সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কোনো ম্যানেজার। এক নেতার কথায়, এ বিষয়ে আলাদা করে তাঁদের কিছু করার বা বলার নেই। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, সে ভাবেই লড়াই-আন্দোলন চলবে। যদিও ২০১৬-এর অভিজ্ঞতা যে একেবারে মুছে ফেলা সম্ভব নয়, সে কথাও স্বীকার করছেন তাঁরা। তাই আপাতত তাঁরা নীরবতা অবলম্বনকেই শ্রেষ্ঠ পথ হিসাবে মেনে নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here