yogi adityanath amit shah
প্রচারে ঝড় তুললেন যোগী-অমিত।

ওয়েবডেস্ক: এক দিকে যখন মেরুকরণের তাস খেললেন অমিত শাহ, তখন রাহুল গান্ধীর অন্য নাম নিয়ে সরব হলেন যোগী আদিত্যনাথ। এর পাশাপাশি এনআরসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এক হাত নেওয়া এবং বেকারত্ব নিয়ে সরব হওয়া তো ছিলই। তবে নির্বাচন কমিশনের ধাক্কা খেয়েই সম্ভবত কিছুটা কম আগ্রাসী ছিলেন যোগী।

মেরুকরণের ‘পোস্টার বয়’ হিসেবেই দেখা হয় যোগী আদিত্যনাথকে। কিন্তু এ দিন তাঁর থেকে বেশি করে মেরুকরণের তাস খেললেন অমিত। উলুবেড়িয়ার সভায় তাঁর বক্তৃতা থেকে সাফ বোঝা গেল, কী ভাবে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকেই হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি।

সোমবার সকালেই কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন অমিত। সেখানে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে একদফা তোপ দাগার পর শুরু করেন তাঁর ম্যারাথন জনসভা-যাত্রা। প্রথমেই ছিল উলুবেড়িয়া। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত লোকসভা উপনির্বাচনের ফলাফলের বিচারে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করেছে এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘুদের বেশ কিছু ভোট বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। তা-ও মেরুকরণেই ভরসা করলেন শাহ।

আরও পড়ুন কলকাতায় রোড শো’য়ে মোদী-শাহ-আদিত্যনাথ?

উলুবেড়িয়ার কাছেই ধুলাগড়। ২০১৬-এর ডিসেম্বরে এখানে গোষ্ঠী সংঘর্ষ বেঁধে গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে আনেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় সাংসদের উপস্থিতিতেই ধুলাগড়ে সংঘর্ষ বেঁধেছিল। উল্লেখ্য, তখন এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন প্রয়াত সুলতান আহমেদ। এর পাশাপাশি ইমামভাতা নিয়ে সরব হন শাহ। ইমামরা ভাতা পেলে পুরোহিতরা কেন পাবেন না, সেই প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।

রাজ্যে রামনবমীর বাড়বাড়ন্ত বছর দুয়েক হল বেড়েছে। বেড়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি, বেপরোয়া বাইক মিছিল। কিন্তু তা-ও শাহ মনে করেন, এ রাজ্যে রামনবমী পালন করতে বাধা দেওয়া হয়। দুর্গাপুজোও এ রাজ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে মনে করেন শাহ।

তবে উলুবেড়িয়ার সভায় মেরুকরণের তাস যতটা খেলেছেন তিনি, কৃষ্ণনগর, রামপুরহাট এবং বর্ধমানের সভায় অতটা মেরুকরণের তাস খেলেননি। তবে এনআরসি এবং শরণার্থী প্রসঙ্গে নিজেদের পুরোনো অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, পাঁচ বছরের মধ্যে সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন নরেন্দ্র মোদী।

অন্য দিকে মেরুকরণের তাস বেশি খেলেননি যোগী। তাঁর মুখে ‘আলি-বজরংবলি’ও শোনা যায়নি। তিনি বরং বেশি সরব ছিলেন রাজ্যে দুর্নীতি নিয়ে। বনগাঁর সভায় রাজ্যে বেকারত্ব নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। অন্য দিকে বহরমপুরের সভায় যোগী বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে মুর্শিদাবাদ বাংলাদেশে চলে যেত। আবার কালনার সভায় এসে তাঁর দাবি, নাগরিকপঞ্জি নিয়ে রাজ্যবাসীকে ভুল বোঝাচ্ছেন মমতা। এই সভায় আবার উল্লেখযোগ্য ভাবে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার কথা শোনা যায় যোগীর মুখে।

আরও পড়ুন কলম্বোয় বিস্ফোরণে নিহত ভারতের চার রাজনীতিক, নিখোঁজ ৩

যোগীর দাবি, বিজেপি বিরোধী সরকার যে রাজ্যে থাকে সেখানে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ দেখা যায়। উত্তরপ্রদেশের মসনদে বসার পর সে রাজ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই বলেই দাবি করেন তিনি। তবে এরই মধ্যে রাহুল গান্ধীর নতুন নাম দিয়ে বসেন যোগী। হুগলির সভা থেকে তিনি বলেন, “ভারতে তাঁর নাম রাহুল গান্ধী কিন্তু ব্রিটেনে রাউল ভিঞ্চি।”

তবে আদিত্যনাথের এই অভিযোগ আগেই উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাহুলের মনোনয়নে কোনো ভুল নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল তারা। তাতেও অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি যোগী। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার জমে উঠল দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির প্রচার।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here