রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দ্রুত রিপোর্ট তলব অমিত শাহের

0
Amit Shah
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: মাত্র মাস ছয়েকের ব্যবধান। তারই মধ্যে আমূল বদলে গিয়েছে সম্প্রতি উপনির্বাচন হয়ে যাওয়া তিন কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ। এর নেপথ্যে শুধুই কি এনআরসি, না কি রয়েছে অন্য কোনো কারণ? সে বিষয়েই বঙ্গ-বিজেপি নেতৃত্বের কাছ থেকে দ্রুত রিপোর্ট তলব করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

গত ২৫ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হয় উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ, নদিয়ার করিমপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদরে। ২৮ নভেম্বর ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, তিনটিতেই ভরাডুবি হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। অথচ, মে-এপ্রিলের লোকসভা ভোটে কালিয়াগঞ্জ এবং খড়গপুর সদরে অনেকটাই এগিয়ে ছিল বিজেপি। উপনির্বাচনের ইস্যু ভিন্ন হলেও গেরুয়া শিবিরের ভোট ব্যাঙ্কে ফাটল কী কারণে এতটা চওড়া হল, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

জেলা নেতৃত্বর কাছ থেকে রিপোর্ট জমা পড়ার পর এ বিষয়ে শনিবারই বৈঠকে বসেছেন রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং রাহুল সিনহা ও মুকুল রায়ের মতো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এমনটাও জানা গিয়েছে, আগামী ৭ ডিসেম্বর কলকাতায় আসতে পারেন অমিত। সে দিন তিনি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠতও করতে পারেন। তার আগেই এ দিনের বৈঠকেই স্থির করা হবে, দিল্লিকে কী রিপোর্ট দেবে রাজ্য।

প্রাথমিক ভাবে দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এনআরসি চেয়ে বিজেপির প্রচারকে ভালো ভাবে নেননি ভোটাররা। যার প্রতিক্রিয়া ধরা পড়েছে ভোটের বাক্সে। এমনকী ফলাফল ঘোষণা চলাকালীন কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কমলচন্দ্র সরকার সংবাদ মাধ্যমের কাছে মন্তব্য করেন, লোকসভার ফলের রেশ ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ এনআরসি।

একই সঙ্গে বিজেপির পক্ষে দাবি করা হয়েছে, উপনির্বাচনে কারচুপি করেছে রাজ্য প্রশাসন। উপনির্বাচন যেহেতু রাজ্য প্রশাসন পরিচালনা করে থাকে, তাই তৃণমূলকে জেতাতে যে কোনো ধরনের কারচুপি করা হতে পারে অভিযোগ করেছেন রাহুল সিনহা। কিন্ত ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন তাঁর মুখেই শোনা যায়, এনআরসি নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে তৃণমূল।

পশ্চিমবঙ্গের ৩ কেন্দ্রের উপনির্বাচনের বিস্তারিত ফলাফল এখানে ক্লিক করে দেখুন

গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভার অধিবেশনে বলেন, “দেশজুড়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি প্রয়োগ করা হবে। তবে এর জন্য কোনো ধর্মের কোনো ব্যক্তিরই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই”। এখন দেখার, বিজেপির রাজ্য নেতৃ্ত্ব ফলাফলে বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে সেই এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন কি না?

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন