Amit Shah And Mamata Banerjee

কলকাতা: বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ দু’দিনের বাংলা সফরে এসে পুরুলিয়ার সভা থেকে কেন্দ্রের বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ না করার গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। গত ২৮ জুনের ওই সভার পরদিনই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে লিখিত ভাবে। জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজে বরাদ্দকৃত অর্থ কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে স্কুলশিক্ষা খাতেও বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসে গেল।

মমতার বক্তব্য, তিনি জেনেছেন চলতি ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে জাতীয় সড়ক প্রকল্পে কেন্দ্রের বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ কমিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ১৫৩ কো‌টিতে। এর আগের ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরেও তার আগের বারের তুলনায় বরাদ্দে কাটছাঁট করে কেন্দ্র। ওই দুই বছরে এই প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে ১৬০৫.৮৫ কোটি এবং ২০৫৯.৭ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকেই এই খাতে সব থেকে কম অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

একই ভাবে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে স্কুলশিক্ষার বিভিন্ন খাতেও বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ এক ঝটকায় অনেকটা কমানো হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের নীতি অনুযায়ী, সর্বশিক্ষা মিশন, রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক অভিযান এবং শিক্ষক শিক্ষণের মতো প্রকল্পগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে। ওই খাতে এ বার কেন্দ্রের তরফে বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ৪,৩০০ কোটি টাকা। যেখানে রাজ্যের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল ৭,০০০ কোটি টাকার।

স্কুলশিক্ষার এই খাতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণেও হ্রাস ঘটেছে গত ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের তুলনায়। জানা গিয়েছে, গত বছর এই খাতে ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠালে রাজ্যের জন্য অনুমোদন হয় ৪,৫৪০ কোটি টাকা। ফলে এই হিসাব থেকেই স্পষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পগুলিতে কী ভাবে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ কমাচ্ছে কেন্দ্র।

উল্লেখ্য অমিত শাহ পুরুলিয়া সভা থেকে মন্তব্য করেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা তৃণমূলের সিন্ডিকেট খেয়ে নিচ্ছে”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাঁর সেই মন্তব্যের পরই স্পষ্ট হতে শুরু করল কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে রাজ্যের প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের উদাসীনতার চিত্র।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here