সৌমিত্র খান বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী, এটাই আমার কাছে অ্যাডভান্টেজ: শ্যামল সাঁতরা

0
Shyamal Santra

তিনি রাজ্যের মন্ত্রী। একই সঙ্গে অধ্যাপক তথা এলাকার বিধায়ক শ্যামল সাঁতরাকে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে এ বারের লোকসভায় প্রার্থী করছে তৃণমূল। বিধানসভার থেকে লোকসভার লড়াইয়ে ফারাক কতটা, কী ভাবেই বা নিচ্ছেন প্রস্তুতি? প্রচারের মাঝেই তাঁর মুখ থেকে সে সব প্রশ্নের উত্তর শুনে নিলেন খবর অনলাইনের প্রতিনিধি ইন্দ্রানী সেন।

বিধানসভায় জিতে রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন কিন্তু তুলনামূলক ভাবে লোকসভা ভোটের ভিন্ন প্রেক্ষাপট। ফারাকটা কী ভাবে দেখছেন?

আমি মনে করি, ২০১৪ সালে উপ-নির্বাচনে যখন দাঁড়িয়েছিলাম, ওটা ছিল আমার রাজনৈতিক জীবনের মাধ্যমিক পরীক্ষা। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আর এ বারের লোকসভা নির্বাচনে গ্র্যাজুয়েশন। বড়ো সিলেবাস পাশ করতে হবে। ৭টা বিধানসভা, তাই পড়াশোনা বেশি করতে হবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই তৃণমূল কর্মীরা নেমে পড়েছেন কোমর বেঁধে। ৩৬৫ দিন তৃণমূল মানুষের পাশে বিপদে-আপদে পাশে থেকেছে। তাই এটা কোনো ‘টাফ জায়গা’ নয়।

লোকসভা ভোটে জাতীয় স্তরের ইস্যুর বাইরে একান্ত ভাবে বিষ্ণুপুরের মানুষের জন্য কোন কোন কাজের কথা তুলে ধরছেন?

প্রথমেই বিষ্ণুপুরে টুরিজ্যম ডেভেলপমেন্ট দরকার। রাজ্য সরকার বিষ্ণুপুরকে পর্যটন মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। দিদির অনুপ্রেরণায় এলাকার পর্যটন শিল্প ও কুটির শিল্পের আরও বিকাশ ঘটাতে চাই। এ ছাড়াও বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেললাইন দ্রুত চালু করতে হবে। বাঁকুড়া-মশাগ্রাম-হাওড়া সরাসরি ট্রেন চালু। কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ-সহ সেচ ব্যবস্থার উন্নতি। এ ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন বিষয়ের দিকেও বিশেষ নজর রয়েছে।

জাতীয় স্তরের কোন ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন?

সম্প্রীতি আর শান্তির বাতাবরণ তৈরি করা হল আমাদের দলের প্রধান ইস্যু। ভারতবর্ষের কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন করে উন্নত ভারতবর্ষ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ভারতবর্ষ সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশ। সমগ্র দিক থেকে ভারতবর্ষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলা। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। আমাদের দল দেশবাসীকে এমনই একটি দেশ উপহার দেওয়ার জন্য লড়াই করছে।

বিষ্ণুপুরের বিদায়ী সাংসদ এই কেন্দ্র থেকেই বিরোধী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এটা কতটা ভাবাচ্ছে আপনাকে বা আপনার দলকে?

এই বিষয়ে কোনো কথা বলতেই ইচ্ছা করে না। এটা কোনো ভাবনার মধ্যেই নেই, উলটে এটা আমার অ্যাডভান্টেজ। এলাকার মানুষকে উনি শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন। কোনো কাজের কাজ করেনি। এলাকায় কয়েকটি লাইট ছাড়া কিছুই চোখে পড়বে না ওনার নামে। দলের নাম করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। কিন্তু কাউকেই টাকা দেননি। উলটে এ বিষয়ে দলকে বারংবার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

রাজনীতিতে কবে এলেন? অনুপ্রেরণাই-বা কে?

১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিই। আদর্শ এক জনই – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অপেক্ষাকৃত ভাবে বিধানসভা ভোটে যে ‘ক্ষত’ রয়েছে সেগুলো কী ভাবে মেরামত করবেন?

যে বুথে যে পাড়াতে কম ভোট পেয়েছি, সেই এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিজে উপস্থিত থেকে সুবিধা-অসুবিধাগুলো বেশি করে জানার চেষ্টা করেছি। সব সময়ই মানুষের পাশে আছি। মানুষের থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি, ওই বুথগুলির ভোট লোকসভা ভোটে একশো শতাংশ পাব বলে আশা করছি। সব মিলিয়ে সাতটি বিধানসভায় উনিশ-বিশ রেজাল্ট হবে আমাদের।

প্রচারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

ব্যাপক। সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় থাকছেন, আনন্দ সহকারে উচ্ছ্বাসে ফুল-মালা, মিষ্টি মুখ করিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের ভাই-বোনেরা সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। মানুষ ১২ মে-র অপেক্ষায় আছেন। কবে ওই দিনটা আসবে, আর তাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেবেন।

তরুণ প্রজন্মের নতুন ভোটাদের তো সোশ্যাল মিডিয়া দেখে বেড়ে ওঠা। সেই যুব সমাজকে আপনি কী বার্তা দেবেন?

সোশ্যাল মিডিয়া সাধারণ ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করছি। যুব সমাজ এগিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা-আদর্শে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুফল ভোগ করছে যুব সমাজ। তাই তারা নিজেরা এখন নিজের থেকে ঠিক-ভুল বুঝতে পারছে। এক দিকে প্রচার ও অন্য দিকে ভুয়ো খবরের দিকেও সমান নজর রয়েছে তাদের। সব দিক থেকে বলতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যেই খুব সহজেই যুব সমাজের যে তৃণমূলের প্রতি আস্থা রয়েছে, তা তারা জন মানসে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

নিজের জয়ের বিষয়ে কতটা আশাবাদী?

আমি, আমার দল সারা বছর ধরেই মানুষের পাশে আছি। তাই এ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মানুষ আমাদের পাশে আছেন। সর্বোপরি দিদির আর্শীবাদের হাত মাথার উপর আছে, ফলে মানুষের সেবায় নিজেকে আরও বেশি করে নিয়োজিত করতে পারব।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here