নিজস্ব প্রতিনিধি,বর্ধমান: শুনতে অবাক লাগলেও ছোটো কুকুরের মৃত্যুর যথাযথ তদন্ত চেয়ে সরব হলেন বর্ধমানের কয়েকজন পশুপ্রেমী । কুকুর তথা অবলা প্রাণীদের হত্যা করা তেমন কোনো ব্যাপার নয় অনেকের কাছেই । এমন ঘটনা আকছারই শোনা যায় । তবে তার জন্য কুকুরের দেহ ময়নাতদন্ত করাতে হবে এমন দাবি বিরল ।

বর্ধমানের লক্ষ্মীপুর মাঠ জোড়ামন্দির এলাকায় বসবাস করেন রমা ব্যানার্জি ।  একজন  সাধারণ পরিবারের গৃহবধূ । তবে সকল প্রাণীর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা। স্থানীয় কতগুলি কুকুরকে খুবই কাছের করে নিয়েছিলেন তিনি । নিজের গাঁটের টাকা খরচ করেই তাদের খাবারেরও ব্যবস্থা করতেন সকাল বিকাল ।  ওই জোড়ামন্দিরেই  স্থানীয় কিরণ প্রভা রেসিডেন্সি নামে একটি আবাসনে চার-পাঁচটি কুকুর থাকে। তাদের নিয়মিত খাওয়ান রমাদেবী। যদিও এ নিয়ে আপত্তি ছিল ওই আবাসনের বাসিন্দাদের। কিছুদিন আগে সেখানকার একটি কুকুরকে ইট ছুঁড়ে মারা হয়েছিল বলেও দাবি রমাদেবীর। শুক্রবার সকালে সেখানে তাদের খাওয়াতে গেলে তিনি দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছর দেড়ের এক কুকুর ছানা । পাশে পড়ে রয়েছে একটি শক্ত গাছের ডাল ।  তারপরই এদিনের  ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট করে কুকুর খুনের অভিযোগ তোলেন। এমন ভাবে যদি কোনো মানুষের মৃত্যু হত, তাহলে কেমন প্রতিক্রিয়া হত- সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। সেই পোষ্ট দেখে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বর্ধমানের টিকরহাটের বাসিন্দা সোয়েতা  কর ও অনির্বাণ ব্যানার্জি। দুজনই উত্থান নামে এক পশুপ্রেমী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।  তাঁরা সিন্ধান্ত নেয় কুকুরটির দেহ ময়নাতদন্ত করানোর । ঠিক কীভাবে কুকুরটি মারা গেল তার সঠিক  তদন্ত চেয়ে বর্ধমান থানাতেও যায় তারা । তবে থানা থেকে তাদের বর্ধমান বন দফতরে পাঠানো হয়। যথাযথ তদন্তের জন্য দেহটি বরফ দিয়ে রাখা হয়েছে । আগামী দিনে পশু অধিকার আই্নে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় হয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here