ঢাকা: মারাত্মক প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে সেটা আগামী তিন চার মাসেও ওড়িশার পক্ষে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করল বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতর।

বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে দেশের আবহাওয়া দফতরে কর্মরত আবহাওয়া বিজ্ঞানী ডঃ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, “মে’র শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে দু’টো গভীর নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। তার মধ্যে একটা ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে।”

বঙ্গোপসাগরের কোন অঞ্চলে এই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে, সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে মান্নান বলেন, “সেটা এখনই বলা অসম্ভব। তবে এটা বুঝতে পারছি যে মে’র শেষে অন্তত দু’টি গভীর নিম্নচাপ হবে।” নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ বাংলাদেশের দিকেই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ওড়িশার পাশাপাশি বাংলাদেশে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে ফণী। ব্যাপক বৃষ্টি, বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে দশ জনের। চাষাবাদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পরে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় হলে, তার অভিঘাত বাংলাদেশের পক্ষে সামলানো বেশ কষ্টকর হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় যদি না-ও হয়, দু’টো গভীর নিম্নচাপ যে তৈরি হবেই, সেই ব্যাপারে কার্যত নিশ্চিত মান্নান।

আরও পড়ুন ব্যস্ত সময়ে ফের বিভ্রাট মেট্রোয়, দুর্ভোগ যাত্রীদের

তবে ঘূর্ণিঝড়ের বদলে নিম্নচাপ তৈরি হলে সেটা ভালো ব্যাপার। সে ক্ষেত্রে ঝড়ের বদলে হবে বৃষ্টি। তাতে ভরে উঠবে চাষের জমি।

এই ব্যাপারে কী বলছে ভারতের সংস্থাগুলি?

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে এখনও এই ব্যাপারে কিছু না বলা হলেও বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, মে’র শেষে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার কথায়, “এমনিতেই এই সময়টা নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার জন্য খুবই অনুকূল। তার ওপরে ফণী চলে যাওয়ার ওর থেকে হাওয়ার ছন্দ বদলে যাওয়ায় ক্রমশ বাড়ছে পারদ। এর প্রভাবে সমুদ্রে জলের তাপমাত্রাও বাড়বে। ফলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here