marina nursing home

তিতাস পাল

জলপাইগুড়ি:-ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্টের ধারায় করা মামলায় আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হল নার্সিংহোম মালিক, চিকিৎসকের। সম্ভবত এটাই রাজ্যে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট’২০১৭ধারায় করা প্রথম মামলা। তিনজন চিকিৎসক সহ বেসরকারি নার্সিংহোমের ৫জনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করলেন জলপাইগুড়ি জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।

গত ৪ এপ্রিল জলপাইগুড়ি শহরের একটি (মেরিনা)নার্সিহোমে ভর্তি হন রেসকোর্স পাড়ার বাসিন্দা মীনা ছেত্রী। ১১এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকেরা অভিযোগ তোলেন ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপ থাকায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ ছিল ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপের ঘটনা তাদের কাছে চেপে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় নার্সিংহোম কতৃপক্ষের দিকে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন তারা। কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্যদফতর এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অভিযোগ জানান তারা।  একটি কমিটি গড়ে তদন্ত শুরু করে স্বাস্থ্যদফতর। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পরই ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেণ্ট ধারায় মোট ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ,তার সঙ্গে দেওয়া হয় অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা(আইপিসি৩০৪)।অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নার্সিংহোমের মালিক, দুই চিকিৎসক, একজন টেকনিশিয়ান, একজন নার্স ও নার্সিংহোমের ম্যানেজার।


মামলা হওয়ার পর আগাম জামিনের জন্য এরা আদালতের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয় জেলা বিচারকের এজলাসে। সরকারি আইনজীবী সোমনাথ পাল জানিয়েছেন, ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কতৃপক্ষের যে গাফিলতি রয়েছে তা যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ সহ তুলে ধরা হয়।সওয়াল জবাব শোনার পর নার্সিংহোম মালিক ও দুই চিকিৎসক সহ পাঁচজনের জামিন না মঞ্জুর করেন বিচারক। শুধুমাত্র একজন নার্সের জামিন মঞ্জুর হয়।

রায় শোনার পর মৃতা মীনা ছেত্রীর ছেলে উদয় ছেত্রী জানিয়েছেন,তারা আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছেন।

যদিও অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী সন্দীপ দত্ত জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।

বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আইনের সংশোধন করে সম্প্রতি নতুন ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেণ্ট আইন’২০১৭ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।উদ্দেশ্য, প্রতিনিয়ত বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সুষ্ঠু  নিস্পত্তি করা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here