ওয়েবডেস্ক: ভক্তিরসে ভেসে যাচ্ছে বীরভূম। চার হাজার খোল আর আট হাজার করতালের হরিনামে মাতিয়ে দিয়ে বীরভূম যেন নবদ্বীপ!

কীর্তনীয়াদের হাতে বিনামূল্যে খোল-করতাল তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি বেশ কয়েক মাস ধরেই নিয়ে চলেছে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তবে বিজেপির রথযাত্রা কর্মসূচির পাল্টা হিসাবে অধিক পরিচিতি পেলেও তৃণমূল কিন্তু সেই যুক্তিকে আমল দেয় না।

বিজেপির রথযাত্রা কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, আগামী ৭ ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে। যা শুরু হওয়ার কথা ছিল ৫ ডিসেম্বর, বীরভূমের তারাপীঠ থেকে। বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক কারণে সেই নির্ঘণ্ট বদল হয়েছে। কিন্তু বদলায়নি তৃণমূলের খোল-করতাল বিতরণ কর্মসূচি। বুধবার নির্ঘণ্ট মেনেই চার হাজার খোল এবং আট হাজার করতাল তুলে দেওয়ার আগে থেকেই ‘কীর্তন’ কিন্তু চলছে অনেক আগে থেকেই।

বিজেপি রথযাত্রার নির্ঘণ্ট বদলালেও কথা রেখেছেন অনুব্রত। তিনি পূর্ব ঘোষণা মতোই খোল-করতাল বিলি করেছেন। হরির নামকে সামনে রেখে তিনি যে কোনো মতেই কথার নড়নচড়ন করতে চান না, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। এতে হরি কতটা তুষ্ট হলেন, তা বোঝা সাধ্যের বাইরে থাকলেও প্রাপকরা যে বেজায় খুশি, সেটা জলের মতোই পরিষ্কার।

আচমকা কীর্তনে কেন এতটা জোর, প্রশ্নে অনুব্রত জানিয়েছেন,  অনুব্রত বলেন, “আমাদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম কীর্তন করতে রামের মন্দির লাগে না। আমাদের রাম ঘরে ঘরে। জন্মালে হরে কৃষ্ণ হরে রাম। মরলে রাম নাম। অন্য কারও কাছে কিছু শিখব না”।

যাঁরা দল বেঁধে পালা গান করেন অথবা একা কীর্তন করেন, তাঁরাই পেলেন এই খোল-করতাল। ফলে বীরভূমে আগের থেকে আরও বেশি জোরালো হল ভক্তিরসের ঢেউ।

উল্লেখ্য, একাংশের ঐতিহাসিকদের মতে, বীরভূমের ময়নাডাল গ্রামেই এক সময় দেশের প্রথম কীর্তন গান শেখার স্কুল চালু করেছিলেন বৈষ্ণব পণ্ডিতেরা। সেই পরম্পরাকেই হয়তো স্মরণ করিয়ে দিলেন অনুব্রত!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here