ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীরের প্রত্যন্ত গ্রামের গুলশনা খাতুন সেনা জওয়ানদের কী ভাবে ধন্যবাদ দেবেন ভেবেই পাচ্ছেন না। কারণ জওয়ানরা না থাকলে তাঁর দুই যমজ কন্যাসন্তান পৃথিবীর আলো দেখত কি না সন্দেহ।

গত কয়েক দিন ধরেই প্রবল তুষারপাত হয়েছে কাশ্মীরে। তুষারপাতের দাপট এতটাই বেশি যে কিছু কিছু জায়গায় রাস্তাঘাট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

রাজ্যের বন্দিপুরা জেলার এমনই একটা গ্রামেই থাকেন গুলশনা। তিনি গর্ভবতী ছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। অবিলম্বে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যাবেন কী ভাবে? রাস্তাঘাট তো বন্ধ। অন্তত আড়াই কিলোমিটার হেঁটে না গেলে কোনো বড়ো সড়ক পাওয়া যাবে না, যেটা দিয়ে গাড়ি চলছে।

নিরুপায় হয়ে সেনার শরণাপন্ন হন গুলশনার স্বামী। বন্দিপুরার পানার সেনাক্যাম্পে ফোন করে সাহায্য চান। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গুলশনার বাড়ি পৌঁছে যান কয়েক জন জওয়ান।

এর পর প্রায় কোমরসমান বরফের মধ্যে দিয়ে স্ট্রেচারে করে গুলশনা নিয়ে আড়াই কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন জওয়ানরা। মূল সড়কে উঠে সেনার অ্যাম্বুলেন্সে প্রথমে বন্দিপুরার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুলশানা যে গর্ভবতী, সেটা ওখানকার চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন জোরদার শীতের কবলে গোটা রাজ্য, তবে স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়

কিন্তু অস্ত্রোপচার করা ছাড়া সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়, বন্দিপুরা হাসপাতাল থেকে এটা জানানো হলে, তৎক্ষণাৎ গুলশনাকে শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

সেখানেই দুই যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন গুলশনা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here