বিজেপির বাড়বাড়ন্তে পাহাড়ে ক্ষতি কার? তুঙ্গে চর্চা

0
বিমল গুরুং না বিনয় তামাং। কার ক্ষতি বেশি পাহাড়ে?

দার্জিলিং: মাস ছয়েক আগেও পাহাড়ে মিছিল করার ক্ষমতাই ছিল না বিজেপির। সেই বিজেপিই এখন পাহাড়ে অন্যতম শক্তি হয়ে হাজির হয়েছে। একেই তো দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে বিশাল ব্যবধানে জিতে সাংসদ হয়েছেন বিজেপির রাজু বিস্তা। উপনির্বাচনে জিতে দার্জিলিংয়ের বিধায়ক হয়েছে নীরজ জিম্বা। সেই সঙ্গে দার্জিলিং পুরসভারও কার্যত দখল নিয়েছে বিজেপি।

এর আগের দু’দফায় পাহাড় বিজেপি সাংসদ পেলেও, এ বার বিজেপির উত্থান লক্ষণীয়। এই প্রথম দার্জিলিং পুরসভার দখল নিল সমতলের কোনো দল। বরাবর স্থানীয় গোর্খা দলগুলির হাতে থাকা এই পুরসভার বিজেপির দখলে আসা যথেষ্ট তাৎপর্যের। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে পাহাড়ে বিজেপির এই বাড়বাড়ন্তের ফলে আদতে কার ক্ষতি হচ্ছে। বিনয়পন্থী মোর্চা তথা তৃণমূলের না কি বিমলপন্থী মোর্চার?

Loading videos...

এটা কোনো ভাবেই অস্বীকার করা যায় না যে পাহাড়ে বিজেপির উত্থানের পেছনে রয়েছেন বিমল গুরুংই। তিনি যতই গা ঢাকা দিয়ে থাকুন, পাহাড়ের মানুষের মনের মধ্যে এখনও তিনি রয়েছেন, এবং সেটা ভোটবাক্সেই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমলপন্থী মোর্চার কর্মীসমর্থকদেরই বিজেপির দিকে ঘেঁষতে দেখা যাচ্ছে।

এক দিকে বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা আত্মগোপন করেই আছেন। ভোটের আগে দলের হাল ধরা বিপি বজগাইও এখন জেলে। বিমলপন্থী আর যে ক’জন নেতা রয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ঝুলে রয়েছে মামলা। ফলে প্রতিটি পদক্ষেপেই তাদের বিজেপির সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ। বিমলপন্থীদেরই নিরাপত্তা দিতে না পারায় দার্জিলিং পুরসভার ১৭ জন কাউন্সিলরকেও ধরে রাখতে পারা যায়নি বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব গিরিশ কারনাড প্রয়াত

ফলে বিনয় তামাং বিরোধী নেতারা এখন বিজেপির দিকেই ঝুঁকছেন বলে জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। আর তাই পাহাড়ে বিমল শিবির ভেঙেই পদ্ম শিবির গড়ার কাজ শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা। একই ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে বিনয় তামাংয়ের মুখেও। পাহাড়ে বিজেপির বাড়বাড়ন্তে বিমলকেই দুষছেন বিনয়। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির শক্তি বাড়ায় ক্ষতি হচ্ছে বিমল গুরুংদের। তাঁদের দলের একের পর এক নেতা, কর্মীরাই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। দার্জিলিং পুরসভার বিমলপন্থী কাউন্সিলররাই বিজেপির দিকে ঘেঁষছেন।”

বিজেপির শক্তিবৃদ্ধিতে দার্জিলিংয়ের মূল দাবির আদৌ কোনো সমাধান হবে কি না সেই চিন্তাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিমলপন্থীদের। আগের দশ বছর বিজেপির পক্ষে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে মান্যতা দেওয়া অনেক সোজা ছিল, কারণ তখন বাকি রাজ্যে তাদের কার্যত কোনো প্রভাবই ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অন্য। লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূলের ঘাড়ের ওপরে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। ২০২১-এ রাজ্য দখল করার স্বপ্নও দেখতে শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই আবহে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে নতুন করে মান্যতা দেওয়া মানে বাকি রাজ্যের মানুষের বিরাগভজন হওয়ারও আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

ফলে পাহাড়ে বিজেপিকে সমর্থন করে আদৌ কতটা লাভ হল সেই নিয়েই এখন চিন্তায় বিমলপন্থী মোর্চা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.