asansol

কলকাতা: শনিবার রাজ্যপাল, রবিবার বিজেপির প্রতিনিধি দল, মঙ্গলবার কে?

আগামী কয়েক মাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল রাজনীতির পীঠস্থান হয়ে উঠতে চলেছে বলে মত রাজনীতির কারবারিদের । গত রবিবার রামনবমী উদযাপন উপলক্ষে উত্তেজনা ছড়ায় আসানসোল-রানিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘটনা পরম্পরা যে দিকে এগিয়েছিল, বর্তমানে তার দিক পরিবর্তন হয়েছে অনেকটাই। বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে শান্তি ফিরে আসছে পুলিশ-প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে। তবে গোষ্ঠী সংঘর্ষের অশান্তি ঘুচতে চললেও আসানসোলকে কেন্দ্র করে শুরু হতে চলেছে নতুন এক লড়াই। ওই লড়াই যে রাজনৈতিক জমি দখলের লক্ষ্যেই, তা সম্ভবত আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

শনিবার সকালেই আসানসোলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা শুক্রবারে জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। এর আগেও গত মঙ্গলবার তিনি আসানসোলে আহত পুলিশ আধিকারিককে দেখতে দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাজ্যের তরফে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। সংলগ্ন এলাকায় শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত রাজ্যপালের সফরের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা রাজ্যের পক্ষে সম্ভব নয় বলে সরাসরি জানিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে শনিবার তাঁর আসানসোল সফরের গুরুত্ব অন্যত্র। কারণ শুক্রবারই শোনা গিয়েছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর ‘টিম-আসানসোল’ পাঠানোর হুংকার। ঠিক আগের দিন দলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এলাকায় ঢুকতে গিয়ে বাধা পেতে হয়েছিল। সে কারণেই হয়তো কেন্দ্রীয় ভাবে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে।

ওই দিন অমিত আসানসোলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা ঘোষণা করেন। তার কয়েক ঘণ্টা বাদেই রাজ্যপালের অভিপ্রায় প্রকাশ। অমিতের টিম-আসানসোল অবশ্য আগামী রবিবার ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তার আগেই রাজ্যপালের পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিক্রিয়া নতুন কোনো আলোড়ন ফেললেও ফেলতে পারে।

তবে বিজেপির ওই প্রতিনিধি দল আসানসোল সফর করলে তার পরবর্তীকালে রাজ্যের শাসক দলের প্রতিনিধিরাও যে একে একে কলকাতা থেকে মাত্র ২০০ কিমি দূরের ওই আক্রান্ত্র স্থানটিতে পাড়ি দেবেন, তা আশা করাই যায়

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here