Asur Puja
জঙ্গল মহলে এ ভাবেই হয় অসুরপুজো। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে

সমীর মাহত, ঝাড়গ্রাম: জঙ্গল মহলের সিংহভাগ ভোটার তপশিলি জাতি, উপজাতি ও আদি জনজাতি কুড়মিরা যেমন দুর্গা পুজার বিরুদ্ধে নয়, তেমনি পরিপূরকও নয়। এরা নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়েই মেতে থাকে। সাঁওতাল গোষ্ঠীদের “সারিধরম” ও কুড়মি গোষ্ঠীদের “সারনা “ধর্মীয় সংস্কৃতি রয়েছে। ফলে দুর্গা পুজার আর্থিক সরকারি সাহায্য এই এলাকায় কোনও রেখাপাতই করবে না বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।

এর আগেও বিভিন্ন ক্লাব গুলিকে ২ লক্ষ অনুদান হিসেবে সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়েছে। দু’টাকা রেশনের চাল দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। তা সত্ত্বেও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গল মহল এলাকায় বেগ পেতে হয়েছে শাসক শিবিরকে। পাশাপাশি এই এলাকায় সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বের লড়াই বহু আগে থেকেই চলে আসছে। বাম আমলে ‘রাবণ পোড়া’র বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ‘৮৫ -‘৮৬ সাল নাগাদ ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি এলাকায় পুলিশের নজরবন্দি হয় একাধিক সমাজ কর্মীর। দেশের জাতীয় সংহতি রক্ষার স্বার্থে এলাকায় ‘রাবণ পোড়া’ বন্ধের জন্য প্রশাসনকে লিখিত আবেদন জানানো হয়। ফল স্বরূপ বাঁকুড়া জেলায় পুরোপুরি বন্ধ হয় দুর্গাপুজোর সময়ের ‘রাবণ পোড়া’ অনুষ্ঠান।

অন্য দিকে জঙ্গল মহলে সন্ত্রস্ত পরিবেশ কাটতে না কাটতেই দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তপশিলি জাতি-উপজাতি ছাত্ররা মহিষাসুর পুজোয় তৎপর হন। ক্রমশ তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে জঙ্গল মহল এলাকায়। আদি জনজাতিদের রাজা “হুদূড় দুর্গা” বা মহিষাসুরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে এই এলাকাতেও শুরু হয় তার পুজো। দুর্গাপুজোর সময়ই সমারোহের সঙ্গে জঙ্গল মহলে হুহু করে এই পুজো বেড়ে চলেছে।

পাশাপাশি, আদি জনজাতিদের সংস্কৃতির উপর সরকারের পক্ষপাত দুষ্ট ভূমিকা আছে বলে অভিমত সামাজিক সংগঠনগুলির একাংশের। তারা সামনে তুলে ধরছে, এখানে সরকারি ভাবে হুল দিবস পালনের অনুষ্ঠান হলেও কুড়মিদের ধর্মীয় মহান করম পরব অনুষ্ঠান সরকারি ভাবে হয় না। গত বছর অবশ্য করম পুজোর জন্য সরকার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রবীণ সমাজ কর্মী অশোক মুতরুয়ার বলেন, আদি জনজাতিদের সংস্কৃতি ও মহান পরবগুলিতেও সরকারের অর্থ সাহায্য করা দরকার।


আরও পড়ুন: উপাচার্য-সহ দুই ডিনের কুশপুতুল দাহ করলেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানরত পড়ুয়ারা

তবে জঙ্গল মহলে বহুযুগ ধরেই জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপুজোও হয়ে আসছে। মুখ্যমন্ত্রীর ১০ হাজার টাকা অনুদান সেই সমস্ত পুজোগুলির উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে বলেই অনুমান।

তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঝাড়গ্রামে ১২ সেপ্টেম্বর বলেন, “দুর্গাপুজোকে পুজো না ভেবে সংস্কৃতি ভাবা দরকার। অন্যান্য জনজাতিরাও শামিল থাকে। অনেকেই ক্লাব, সমন্বয় মঞ্চের নামে টাকা তোলে, আমরা কি কিছু বলেছি”?

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন