কলকাতা: কিছুদিন আগেই হাসপাতালের আয়াকে টাকা না দেওয়ায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় খবরের শিরোনামে এসেছিল আরজিকর হাসপাতাল। ফের আয়া রাজ-এর অভিযোগ উঠলো আরজিকর হাসপাতালে। টাকা না দিলে রোগীকে দেখতে দেওয়া যাবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন আয়ারা। চলছে টাকা নিয়ে দর কষাকষিও। ১০০০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে আয়াদের ‘রেট’। লেবার রুমে যাবার জন্যেও আলাদা করে দিতে হচ্ছে টাকা। একই অভিযোগ হাসপাতালের লিফট ম্যানদের বিরুদ্ধেও। একবার লিফটে করে যাওয়ার জন্য ১০০ টাকা রেট ঠিক করে নিয়েছেন নিজেরাই। টাকা না দিলে হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়েই উঠতে হচ্ছে রোগীকে।

উত্তর ২৪ পরগনার গুমার বাসিন্দা আরজিনা বিবি তার পুত্রবধূ ফতেমা বিবিকে আরজিক হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন সপ্তাহ খানেক আগে। ২৫ ডিসেম্বর ফতেমা সন্তানের জন্ম দেয়। আরজিনা বিবির অভিযোগ, আয়াদের টাকা দিতে না পারায় মঙ্গলবার লেবার রুমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি ফতেমার পরিবারের কাউকেই। এমনকী আয়াদের বিরুদ্ধে আরিজানা বিবির গায়ে হাত তোলার অভিযোগও ওঠে। টাকা না দিলে রোগীর পরিচর্যা হচ্ছেনা, এমন অভিযোগ এসছে একাধিক রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকেই।

এর আগেও আয়া-রাজের ঘটনা সোরগোল ফেলে দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবনে। দালাল-রাজ রুখতেই সম্প্রতি প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর থেকে। সরকারি হাসপাতালে দালালদের রমরমা বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আরজিকর সহ রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে লাগানো হয়েছে বড় বড় হোর্ডিং। আয়া কিংবা দালাল সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে রোগীদের জন্য সম্প্রতি চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্প লাইন নাম্বারও। এত কিছু সত্ত্বেও কাজের কাজ যে কিছুই হয়নি, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল মঙ্গলবারের ঘটনা।

এই বিষয়ে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ শুদ্ধোধন বটব্যাল বলেন, “এই বিষয়ে রোগীর পরিবারের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে হাসপাতালের তরফে সবরকম তদন্ত করা হবে”।   

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here