শুধু পুরোহিত, ইমামরাই নন, বাল্যবিবাহ রোধ নিয়ে আলোচনাসভায় ছিলেন ক্যাটারার, বাজনাদারেরাও

0
457

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : সামনের সারিতেই পুরোহিত, ইমাম, কাজিসাহেব। ছিল সেই নাবালক ছাত্রছাত্রীরা, যারা ‘শিকার’ আর তাদের অভিভাবকরা। বাদ যায়নি ক্যাটারার বা বাজনাদারেরাও।

বাল্যবিবাহ রোধে এদের নিয়েই সচেতনতা কর্মসূচি পালন করল জলপাইগুড়ির বারোপেটিয়া-নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েত। আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে এই কর্মসূচিতে শামিল করা হয়েছিল।

বাল্যবিবাহ রুখতে এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি নতুন নয়। তবে সাধারণত এই ধরনের কর্মসূচিতে সরকারি আধিকারিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিই যোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানটির বিশেষত্ব এখানেই। আজকের কর্মসূচিতে একই সঙ্গে তাদেরও রাখা হয়েছিল, যারা এর সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

ছিল তারাও যারা এই বাল্যবিবাহের প্রধান শিকার, সেই নাবালক ছাত্রছাত্রীরাও। ছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। অনুষ্ঠানটিকে এমন ভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়, যারা এই বিবাহ নামক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপারটির সঙ্গে জড়িত। যেমন ডেকোরেটর, ক্যাটারার, এমনকি বাজনাদারেরাও। একটা বিয়ের সঙ্গে এদের সম্পর্ক একবারে অঙ্গাঙ্গী।

বারোপাটিয়া-নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়তের প্রধান কৃষ্ণ দাসের মাথায় প্রথম এই ভাবনা আসে। তাতে সায় দেয় জেলা প্রশাসনও। মঙ্গলবার সেইমতো গ্রাম পঞ্চায়েত দফতরেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছিলেন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও তাপসী সাহা, কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার।

পঞ্চায়েত প্রধান কৃষ্ণ দাস জানিয়েছেন, আইন করেও বাল্যবিবাহের মতো কুপ্রথা সম্পূর্ণ রোখা যাচ্ছে না। তাই এই উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে হাজির পুরোহিত, ইমাম, কাজিসাহেবদের অনুরোধ জানানো হয়েছে তাঁরাও যেন এই ব্যাপারে সজাগ থাকেন। একটা বিয়েতে একজন পুরোহিত বা কাজীর ভূমিকা সব চেয়ে বেশি। তাঁদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে প্রশাসন। তাঁদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে যদি তাঁদের মনে হয় পাত্র বা পাত্রীর বয়সে গরমিল আছে তা হলে তাঁরা যেন বয়সের প্রমাণপত্র যাচাই করে দেখেন। সেখানেও যদি গরমিল পাওয়া যায়, তা হলে বাড়ির অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন। তাতেও যদি কাজ না হয়,  তখন প্রশাসনের কাছে যেন সেই খবর তাঁরা পৌঁছে দেন,  তার আবেদনও জানান জলপাইগুড়ির বিডিও(সদর) তাপসী সাহা। ক্যাটারার বা বাজনাদারেরাও কাছেও একই সাহায্য চেয়েছেন তাঁরা।

বোঝানো হয় স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের। গ্রামাঞ্চলে কম বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে অভিভাবকদের মধ্যে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বাল্যবিবাহের কুফল ব্যাখ্যা করা হয়েছে তাদের কাছেও।

এই ধরনের একটা উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পুরোহিত ও কাজীসাহেবরা। স্থানীয় কাজী আবু তালাহা জানিয়েছেন, তাঁরা নিশ্চিত ভাবে এই বাল্যবিবাহ রুখতে প্রশাসনের আবেদনে সাড়া দেবেন। তাঁরাও সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার।

তবে শুধু এটাই নয়, আজকের কর্মসূচিতে নারীপাচার নিয়েও আলোচনা হয়। অনেক সময় এই বাল্যবিবাহের আড়ালেই নারীপাচারের মতো অসাধু উদ্দেশ্যও থাকে। সেই ব্যাপারেও আজকের অনুষ্ঠান থেকে সচেতনতার ডাক দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে জেলায় প্রথম এমন একটা সফল কর্মসূচির অঙ্গ হতে পেরে সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, এর পর জেলার অন্যান্য প্রান্তেও এই ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here