indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: টানা সাতচল্লিশ দিনের পরিশ্রম শেষ। এ বার বিদেশ যাত্রার অপেক্ষা। এ যেন নিজের ঘরের মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর তোড়জোড়। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের পাল পরিবারে উৎসবের আমেজ। প্রথমবার একলাখি বালুচরীর বিদেশ যাত্রা। পাঁচ দশ, তিরিশ, আর পঞ্চাশের পর একলাখের বালুচরী তৈরি করে ফেলেছেন বিষ্ণুপুরের বালুচরী শিল্পী অমিতাভ পাল।

তবে একলাখের বালুচরীর নতুন নামকরণ ‘নবাবি শাড়ি’ কিন্তু কি এমন আছে এই একলাখি বালুচরী শাড়িতে? শিল্পী অমিতাভ পাল বলেন,”সাধারণ বালুচরী শাড়িতে যেখানে দু’খানা পাড় থাকে, সেখানে এই শাড়িতে রয়েছে পাঁচ খানা পাড়। যে পাড়ে টিয়া পাখি, হাতি আর পদ্মফুলের সমাহার। আর গায়ে ৭৪০টি লুডোর ছক আর মিশরের পিরামিডের আকারে ছবি রয়েছে। আর আঁচলে তিন রঙের নবাবি আমলের ছবির ব্যবহার হয়েছে। সে কারণে এই শাড়ির নামকরণও ‘নবাবি শাড়ি’ রাখা হয়েছে”।

রাজ্য সরকারের সংস্থা ‘তন্তুজে’র উদ্যোগে এই বালুচরী তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে এই শিল্পী ‘রিভাইবেল অব বালুচরী’ প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা দামের বালুচরী শাড়ি তৈরি করেছেন। যা ইতিমধ্যে বিদেশের বাজারে যথেষ্ট সমাদৃত। সেই থেকে শিক্ষা নিয়ে পরে তিরিশ ও গত বছর পুজোর সময় ৫০ হাজারি শাড়ি তৈরি করেন। যা ফ্রান্সে যায়।

বালুচরী শাড়ি তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে অমিতাভবাবু বলেন, “আমি আমার মা ও মামার কাছ থেকে বালুচরীর কাজ শিখেছি। ১৯৯০ সাল নাগাদ এই কাজ আমি যখন শুরু করি তখন এক একটি শাড়ির দাম ছিল ১২০০-১২০০ টাকা। ‘রিভাইবেল অব বালুচরী’ নামে একটি প্রকল্পে ২০ হাজার টাকার শাড়ি তৈরি করি। মুম্বইয়ের পৈঠানি শাড়ি যদি ৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয় তবে বালুচরী কেন এক লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে না, এই ভাবনার বাস্তবায়নই একলাখি ‘নবাবি শাড়ি”।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংস্থা তন্তুজের মাধ্যমে এই শাড়ি বিদেশে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডিজাইনার অনিন্দিতা পুরকাইত ও আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ রায়ের অকুন্ঠ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই কাজ করা সম্ভব হতো না বলেও তিনি স্পষ্টতই স্বীকার করেন।

শিল্পী অমিতাভ পালের স্ত্রী ঝুমু পাল বলেন, “আজ খুব খুশির দিন। আমার স্বামীর তৈরীি এক লাখি শাড়ি বিদেশে যাচ্ছে। এই কাজে আমি ছাড়াও পরিবারের সকলেই কম বেশি সহযোগিতা করেছন”। আর এই ধরনের বিশেষ কাজে অংশ নিতে পেরে খুশির হাওয়া বিষ্ণুপুরের পাল পরিবারে। এখন এটাই দেখার, শেষ পর্যন্ত একলাখি বালুচরী বিদেশের বাজারে কতটা সমাদৃত হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here