raksha kali in bamneya
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: সময় বদলেছে। বিজ্ঞান অগ্রগতির যুগে মানুষ আজ অনেক অসাধ্য সাধন করেছে। কিন্তু প্রচলিত বিশ্বাস আর আধ্যাত্মিক ভাবধারা অটুট রয়েছে এখনও। সেই কারণে এখনও বাঁকুড়া-বর্ধমান সীমান্তের গ্রাম বামনিয়াতে রক্ষাকালীর পুজোতে অংশ নেয় কয়েক হাজার মানুষ।

শীত শেষ। বাংলার ঋতুচক্রে বসন্তের আগমণ। এই বসন্ত কাল যেমন উৎসবের সময়, তেমনই রোগভোগেরও। এখনই গুটি বসন্ত, পক্স, হাম বা স্থানীয় ভাষায় মায়ের দয়া রোগের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমান যুগে চিকিৎসা পদ্ধতির আধুনিকীকরণে এই সমস্ত বসন্তকালীন রোগ প্রতিরোধ করা অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে । কিন্ত আজ থেকে তিন-চারশো বছর আগে গ্রামের পর গ্রাম যখন কলেরা মহামারীর কবলে পরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত তখন গ্রামের সাধারণ মানুষ ওলাইচন্ডী, শীতলামা, কালী মায়ের স্মরণাপন্ন হতেন রোগ মুক্তির জন্য। সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও ভগবানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আজও অটুট। তাই তো বাঁকুড়ার ইন্দাসের আকুই হোক বা বামনিয়ার বারোয়ারী পুজো হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে।

প্রচলিত লোক কথা হলো, আজ থেকে প্রায়  তিন-চারশো বছর আগে বাঁকুড়ার ইন্দাসের বামনিয়া গ্রামে কলেরা মহামারীর আকার নেয়। বহু মানুষ মারা যান। মহামারীর হাত থেকে গ্রামকে  রক্ষা করতে পূর্ব বর্ধমানের  রায়না গ্রামের সাধক পরিবার শোভাকরদের স্মরণাপন্ন হন গ্রামের মানুষ।

তাঁরা গ্রামকে রক্ষা করার জন্য গ্রামে মা রক্ষা কালীর বেদি প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন। কলেরার হাত থেকে রক্ষা পেতে বামনিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হন মা কালী।  গ্রামের মানুষের আকুতিতে রক্ষাকালী মা-কে প্রতিষ্ঠা করেন শোভাকর পরিবারের সদস্যরা। মহামারীর হাত থেকে  রক্ষা পায় গোটা বামনিয়া গ্রাম।

সেই থেকেই প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শুক্ল পক্ষের প্রথম মঙ্গলবার মায়ের বাৎসরিক পুজো হয়। যা স্থানীয় বারোয়ারী পূজো বা বামনিয়া বারোয়ারী পূজো  বলেই লোক মুখে পরিচিত। এ দিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে পুজো উপলক্ষ্যে। সকাল থেকে চলে বিশেষ পুজো পাঠ। জাতি-ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে সকলেই এই পুজোয় অংশ নেন। দুপুরে পুজো কমিটির উদ্যোগে প্রায় দশ হাজার মানুষ অন্নকূটে উৎসবে অংশ নেন ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here