দার্জিলিং: যতক্ষণ না কেন্দ্র ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকছে, ততক্ষণ পাহাড়ে বন্‌ধ তোলা হবে না। শনিবার সাফ জানিয়ে দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং।

তবে এর পাশাপাশি সুর কিছুটা নরম করে গুরুং জানিয়েছেন, ১২ তারিখ শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় রাজ্যের ডাকা বৈঠকে তাঁর দল যোগ দিতে যাবে। নিজের অজ্ঞাতস্থান থেকে হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি বলেন, “গোর্খাল্যান্ডের ব্যাপারে রাজ্যের অবস্থান জানার জন্যই আমাদের দলের নেতারা ওই বৈঠকে যোগ দেবেন।” মনে করা হচ্ছে, ক্রমশ চাপে পড়ে রাজ্যের প্রতি তাঁর সুর কিছুটা নরম করতে বাধ্য হয়েছেন গুরুং।

তবে বন্‌ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, “বন্‌ধ তোলার কোনো প্রশ্নই নেই। কেন্দ্র আগে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকুক, তার পর বন্‌ধ তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।” তবে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকার কোনো এক্তিয়ার যে কেন্দ্রের নেই, সে কথা বারবার বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। অন্য দিকে গত ২৯ আগস্ট নবান্নে বৈঠক করার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, আলাদা রাজ্যের ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর এক্তিয়ারে পড়ে না।

২৯ তারিখের বৈঠকের পর বারো দিনের জন্য বন্‌ধ শিথিল করার ঘোষণা করেছিলেন মোর্চার চিফ কো-অর্ডিনেটর বিনয় তামাং। এতেই ক্ষুব্ধ হন মোর্চা সুপ্রিমো। বিনয়কে দল থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি বন্‌ধ যে চলবে সে কথাও সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। অন্য দিকে ক্রমশ চাপ বাড়ছে গুরুং-এর ওপর। পাহাড়ে একাধিক বিস্ফোরণের জন্য গুরুং-এর বিরুদ্ধে ইউএপিএ  ধারায় মামলা শুরু করেছে পুলিশ। সন্দেহ করা হচ্ছে, রাজ্যের পুলিশের তাড়া খেয়ে সিকিমে কথাও লুকিয়েছেন গুরুং। সেখান থেকেই তিনি পাহাড়ের রাজনীতির ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছেন। যদিও গুরুং-এর এই একনায়কতন্ত্র না-পসন্দ জিএনএলএফ, জন আন্দোলন পার্টি-সহ পাহাড়ের বাকি দলগুলির।

এই অবস্থায় পাহাড়ের পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, বা পুজোর আগে আদৌ স্বাভাবিক হবে কি না সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here