নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : বাড়িতে অনুষ্ঠান রয়েছে। মোটা অঙ্কের নগদ টাকার প্রয়োজন।তাই সোমবার জলপাইগুড়ি শহরের ক্লাব রোডে স্টেট ব্যাংকের প্রধান শাখায় টাকা তুলতে এসেছিলেন বাহাদুর অঞ্চলের মনিরুল হক। কিন্তু এসে দেখেন ব্যাংক বন্ধ। অথচ কোনো সরকারি ছুটির দিন নয়, তা হলে? কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য কারণটা জানতে পারেন বন্ধ ব্যাংকের দরজায় সাঁটানো নোটিশে। সেখানে লেখা, নির্বাচনী প্রশিক্ষণের জন্য অধিকাংশ কর্মীদের নিয়ে যাওয়ায় কর্মীর অভাবে সোমবার কোনো পরিষেবা দেওয়া যাবে না, তাই ব্যাংক বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পর বাধ্য হয়ে এটিএমে গিয়ে দাঁড়ান তিনি। যদিও ব্যাংক বন্ধের কারণেই সেখানেও লম্বা লাইন। আর যাঁদের এটিএম কার্ড নেই, তাঁদের খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়েছে। অন্য কোনো কাজকর্ম হয়নি ব্যাংকে।

notice to customers informing closure of bank
ব্যাংক বন্ধের নোটিশ।

জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কের ৯০% কর্মীকেই নির্বাচনী প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার ফলেই ব্যাংক হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও হয়রানির শিকার কয়েক হাজার গ্রাহক এতে প্রচণ্ড ক্ষুদ্ধ। রংধামালি থেকে আসা শিখা অধিকারী নামে এক গ্রাহক জানিয়েছেন, আগেই এই বন্ধের নোটিশ দেওয়া উচিত ছিল, তা হলে এই ভাবে হয়রান হতে হত না। যদিও ব্যাংকের ম্যানেজার রাজীব মিশ্র এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।

Loading videos...

তবে শুধু স্টেস্ট ব্যাংক নয়, একই কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে অন্য ব্যাংকগুলিতেও। সেই সব ব্যাংক খোলা থাকলেও কর্মী প্রায় না থাকায় পরিষেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইণ্ডিয়া জলপাইগুড়ির ‘লিড’ ব্যাংক। সেখানে গিয়ে দেখা গেল বেশির ভাগ কাউন্টারের চেয়ার ফাঁকা। চিফ ম্যানেজার অনাদি বিশ্বাস জানালেন, “১৯ জনের মধ্যে ১৩ জনকে দু’দিনের প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছে। ফলে মাত্র ৬ জনকে নিয়ে পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।” অফিসিয়াল কাজকর্ম ছেড়ে চিফ ম্যানেজারকেও কোনো কোনো সময় ক্যাশ কাউন্টারে বসে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এর ফলে কিছু জরুরি সরকারি কাজকর্মও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

no staff in bank
ব্যাংক খোলা, কর্মী নেই,

সমাজপাড়ার ইউকো ব্যাংকেও একই চিত্র।২০ জনের মধ্যে ১৩ জনকে দু’দিনের জন্য নেওয়া হয়েছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে দু’জন চাপরাশি, এক জন সুইপার। তাঁদের দিয়ে আর্থিক কাজকর্ম করানো সম্ভব নয়। ফলে ব্যাংকের দরজা খোলা থাকলেও পরিষেবা প্রায় তলানিতে। কোনো কোনো সময় গ্রাহকদের সঙ্গে এই কারণে বচসাও হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউকোর ম্যানেজার মণিশকুমার।

ওভারসিজ ব্যাংক, ব্যাংক অফ ইণ্ডিয়া, এলাহাবাদ ব্যাংক সহ সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বা অধিগৃহীত ব্যাংকের একই অবস্থা। এবং তা শুধু জলপাইগুড়ি শহর নয়, জেলার সব প্রান্তের ব্যাংকগুলির একই চিত্র।

ব্যাংকগুলির তরফে জানা গিয়েছে, এর আগের নির্বাচনে ব্যাংককর্মী নিয়োগ হলেও তার সংখ্যা থাকত অনেক কম। তাই অসুবিধে হয়নি। কিন্তু এ বারে অনেক বেশি সংখ্যক কর্মী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের দিনের জন্য নেওয়া হয়েছে। তাই সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও জলপাইগুড়ি জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক শিল্পী গৌরিসারিয়া ব্যাংকের এই সমস্যার কথা জানেন না বলেই জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে কোনো ব্যাংক কর্তৃপক্ষই এই কর্মী সমস্যার ব্যাপারে জানায়নি। জানালে তিনি ব্যাংক থেকে এত কর্মী না নিয়ে অন্য দফতর থেকে কর্মী নিয়োগ করতে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.