bankura dm on cycle
সাইকেল সফরে জেলাশাসক। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের ‘সহমর্মী’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে ফের সাইকেল-সফরে বেরোলেন জেলাশাসক। এ বারের গন্তব্য আর বাঁকুড়া শহর নয়, শহরের গণ্ডি ছড়িয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন বাঁকুড়া-২ ব্লকের তিলাবেদ্যা-পুরন্দরপুর গ্রামে। কী এই ‘সহমর্মী’ প্রকল্প, অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে। এই বিষয়ে খোদ জেলাশাসক বলেন, জেলাপ্রশাসনের একটি অভিনব প্রকল্প হল এই ‘সহমর্মী’। শুধুমাত্র জেলাশাসক নন, এই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন এসডিও, বিডিও সহ অন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। উদ্দেশ্য একটাই, একদম মানুষের খুব কাছে থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।

আরও পড়ুন রাজ্যের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলা শুরু ঘূর্ণিঝড় ‘গজা’র

বুধবার সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে সাইকেল আরোহী জেলাশাসককে নিজেদের গ্রামে দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের অলি-গলি ঘুরে মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশে খুশি গ্রামবাসীরা। স্থানীয় এক প্রতিবন্ধী যুবকের কথায়, “২০০০ সালে প্রতিবন্ধী কার্ড করানোর পর নানা কারণে সরকারি ভাতা পাইনি। আজ স্বয়ং জেলাশাসককে নিজের সমস্যার কথা জানালে উনি দায়িত্ব নিয়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলেন।” একই সঙ্গে এ দিন জেলাশাসক পৌঁছে যান গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ক্ষেত্র চাষের জমিতে। কথা বলেন স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গেও। কৃষকদের কথামতো চাষের সুবিধার্থে সাবমারসিবল বসানোরও প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও পড়ুন ভোল পালটাচ্ছে শিয়ালদহ স্টেশনের, নতুন কী হবে? জেনে নিন

জেলাশাসকের এ দিনের গ্রাম-সফরে শৌচাগার সমস্যা, পানীয় ও সেচের জলের সমস্যা, রাস্তাঘাট, বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে নানান গ্রামীণ সমস্যার দিকে আলোকপাত করেন গ্রামবাসীরা। নিজেদের গ্রামে সাতসকালে জেলা প্রশাসনের সর্ব্বোচ্চ পদাধিকারীকে পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন তাঁরা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আপামর গ্রামবাসী।

bankura dm talking
কথা বলছেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক। নিজস্ব চিত্র।

জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেন, অনেক সময় মানুষ প্রশাসনের কাছে পৌঁছোতে পারে না। তাই ধারাবাহিক ভাবে সাধারণ মানুষের জন্য এই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে সপ্তাহে দু’দিন করে। সমস্ত ব্লক জুড়েই চলবে এই কর্মসূচি। অফিস শুরুর আগেই প্রশাসনিক আধিকারিকরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন, যাতে মানুষ আরও বেশি করে প্রশাসনের কাছে আসতে পারেন। অন্য দিকে জেলাশাসক জেলার অন্যান্য অভাব-অভিযোগ জানানোর জন্য সদ্য চালু হওয়া টোল ফ্রি নম্বরের কথাও বলেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here