বাঁকুড়ার গ্রামে কিছু বইমুখী মানুষের উদ্যোগে গড়ে উঠল পাঠাগার

0

ইন্দ্রাণী সেন বোস

বাঁকুড়া: আজকের দিনে একে এক বিরল উদ্যোগ বলা যায়। বর্তমান প্রজন্ম ক্রমশ বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। যতটুকু আছে, তা-ও সেটা ছাপা বই পড়ার অভ্যাস নয়। তারা ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছে ই-বুকের দিকে। ফলে আজ দেশে বিভিন্ন পুরোনো পাঠাগারের অবস্থা বেশ শোচনীয়। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে পাঠাগার গড়া একটা বিরল উদ্যোগ বই-কি। সেই উদ্যোগেই শামিল হল বাঁকুড়ার জামবেদ্যা গ্রাম।      

ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকায় একটি পাঠাগার স্থাপন করে গ্রামবাসীদের উপহার দিলেন গ্রামের কিছু বইমুখী মানুষ। বুধবার বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের জামবেদ্যা গ্রামে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পথ চলা শুরু করল ‘জামবেদ্যা মা সারদা পাঠাগার’।

পাঁচশোরও বেশি পরিবারের বাস এই গ্রামটিতে। দীর্ঘদিন ধরে একটি পাঠাগারের অভাববোধ করছিলেন এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষজন। এ বার তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণ হল গোপাল কর, নিমাই রক্ষিত, শুভজিৎ রক্ষিতদের হাত ধরে।

এ দিন পাঠাগারটির উদ্বোধন করেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন আরক্ষাধ্যক্ষ ও বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডিসি সুখেন্দু হীরা। উপস্থিত সকলের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পাঠাগার হল আমাদের মনের অসুখ সারানোর ওষুধের দোকান। তবে এটি কেবল মনের অসুখই সারায় না, পাঠাগার একটি সুন্দর চরিত্রেরও জন্ম দেয়।”

এ ছাড়া ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক প্রসেনজিৎ কোলে, আড়ালি রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহিদাস বণিক প্রমুখ।

উদ্যোক্তাদের পক্ষে গোপাল কর ও মন্টুলাল খাঁ জানান, এই পাঠাগারের মধ্য দিয়ে এলাকার বহু মানুষ যন্ত্রমুখী থেকে বইমুখী হবে। বহু শুভানুধ্যায়ী মানুষের বইয়ের দানে এই পাঠাগার সমৃদ্ধ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনে এই পাঠাগারকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি সংস্কৃতমনস্ক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: ২০২২-এর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে কি?

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন