Connect with us

ধর্মকর্ম

বামনিয়া শ্রীমা সারদা সেবাশ্রমের বাৎসরিক অনুষ্ঠান

এই উপলক্ষ্যে রবিবার সকাল দশটায় এক ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল।

Published

on

ইন্দ্রাণী সেন বোস, বাঁকুড়া: রবিবার পালিত হল বামনিয়া শ্রীমা সারদা সেবাশ্রমের বাৎসরিক অনুষ্ঠান। এ বছর করোনাবিধি মেনে বাৎসরিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় বলে জানান আশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিমল মহারাজ।

বিমল মহারাজ বলেন, প্রতি বছর ঠাকুরের জন্মতিথির আগে বা পরে একটি রবিবার দেখে এই সাধারণ বাৎসরিক উৎসবের আয়োজন করা হয়। সোমবার ঠাকুরের ১৮৬তম জন্মতিথি ছিল। তাই এ বছর তার আগের দিন রবিবার এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। করোনাবিধি মেনে এই বছর অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে। তাই অনান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভক্তদের আগমন সীমিত রাখা হয়েছিল।

Loading videos...

প্রসঙ্গক্রমে বিমল মহারাজ জানান, তাঁদের সেবাশ্রমে ২০১৫ সাল থেকে বাৎসরিক অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। এ বার ছিল এই অনুষ্ঠানের সপ্তম বছর।

বাৎসরিক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে প্রতি বছর ওই দিনটিতে চার-পাঁচ হাজার ভক্ত দুপুরে প্রসাদ পান। কিন্তু করোনার জন্য এ বছর প্রায় ৫০০ জন ভক্ত দুপুরে প্রসাদ পেয়েছেন।

এই উপলক্ষ্যে রবিবার সকাল দশটায় এক ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ধর্মসভায় আলোচনা করেন বর্ধমানের স্বামী তদকৃপানন্দ মহারাজ। এ ছাড়াও চলে পূজার্চনা। বেদ, গীতা, চণ্ডী-সহ নানা ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।

ধর্মকর্ম

Religious Places in Bengal: কালীক্ষেত্র কালীঘাট

কালীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা ও মন্দির নির্মাণ নিয়ে বারবার যে পরিবারের নামটি উঠে এসেছে তা হল সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

কালীঘাট – কল্লোলিনী তিলোত্তমার এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান তথা একান্ন সতীপীঠের অন্যতম। পীঠমালা অনুসারে কালীঘাটে সতীর দক্ষিণ পদাঙ্গুলি পড়েছিল, তাই এটি পীঠস্থান হিসাবে চিহ্নিত। এখানকার দেবতা কালী ও পীঠরক্ষক ভৈরব নকুলেশ্বর।

Loading videos...

বস্তুতপক্ষে কোন সময়ে এই কালীপীঠের আবির্ভাব হয়েছে সে সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। শোনা যায়, প্রাচীন কালে এক ভয়ংকর অরণ্যে বিরাজ করতেন দেবী কালিকা এবং ভৈরব নকুলেশ্বর। পরবর্তী কালে এই কালীবিগ্রহ যখন সাধারণের সামনে এল তখন সেই স্থানের নাম হয় কালীঘাট।

প্রাচীন কালে বাংলার রাজারা দেবীর পূজা দিতে এখানে আসতেন বলে অনুমান করা যায়। এই কালীক্ষেত্রের অবস্থান ভাগীরথীর তীরে। তাই বণিকরা বাণিজ্যযাত্রার সময় এই পীঠে নেমে মহামায়ার পূজা দিতেন। বণিকরা ছাড়াও অন্য সমুদ্রযাত্রীরাও ভাগীরথী দিয়ে যাতায়াতের সময় কালীদেবীর পুজো দেওয়ার সুযোগ ছাড়তেন না। তা ছাড়া মাঝিমাল্লারা এই পীঠের যে ঘাটে নৌকা নোঙর করতেন তাকে বলা হত ‘কালী দেবীর ঘাট’। সেখান থেকেই নাম ‘কালীঘাট’।

খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বল্লাল সেনের আমল থেকেই বহু মানুষ তাঁদের অপরাধ খণ্ডনের জন্য কালীঘাটের গঙ্গায় স্নান করতে আসতেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দিল্লির সিংহাসনে যখন পাঠান রাজারা সমাসীন, সে সময় কালীঘাটের কিছুটা দূরে বহু মানুষের জনবসতি ছিল বলে সাহিত্যগত উপাদান থেকে জানা যায়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, পীঠস্থান হিসাবে পরিচিত হওয়ার বহু আগে থেকেই এই সতীপীঠ ছিল। এমনকি এখানে ভৈরবী, কাপালিকদেরও যাতায়াত ছিল। এই গভীর অরণ্যে নরবলি দিয়ে দেবীর পুজো হত বলেও শোনা যায়।

মা কালীর বিগ্রহ।

প্রসঙ্গত এই কালীক্ষেত্র কালীঘাট নিয়ে নানা কাহিনি প্রচলিত আছে। তবে কালীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা ও মন্দির নির্মাণ নিয়ে বারবার যে পরিবারের নামটি উঠে এসেছে তা হল সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার।

কালীক্ষেত্রের কালীমূর্তি কী ভাবে এল? এ বিষয়ে নানা কাহিনি রয়েছে। বর্তমান কালীমন্দিরের অনতিদূরে এক পর্ণকুটীরে এক ব্রাহ্মণ বানপ্রস্থে থেকে তপস্যা করছিলেন। একদিন ভাগীরথীতে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যাবন্দনা করছেন, এমন সময় অনতিদূরে এক আলোকজ্যোতি দেখতে পেলেন। সেই আলোকজ্যোতি দেখে ব্রাহ্মণের কৌতূহল হল এবং সেই জ্যোতির পথ অনুসরণ করে গিয়ে দেখলেন এক জায়গা  থেকে ওই দিব্য আলো বেরোচ্ছে। পরে মা কালীর প্রত্যাদেশে জানতে পারলেন, সুদর্শনচক্রে ছিন্ন হয়ে তাঁর অঙ্গ ওই স্থানে পড়েছিল। ব্রাহ্মণ সেই জায়গা থেকে পাথরের সতীঅঙ্গ খুঁজে পান এবং অদূরেই স্বয়ম্ভু নকুলেশ্বরের সন্ধান পান। পাথরের সতীঅঙ্গ যত্নের সঙ্গে রেখে কালীমূর্তি ও নকুলেশ্বরের পূজা শুরু করেন ওই ব্রাহ্মণ।

অন্য মতে, সাবর্ণ গোত্রীয় রায় চৌধুরীদের কুলমাতা মা ভুবনেশ্বরীর রূপ দেখে ১৫৭০ সালে শ্রীশ্রীব্রহ্মানন্দ গিরি এবং শ্রীআত্মারাম ঠাকুর মহামূল্যবান কষ্টিপাথরে দক্ষিণাকালিকা মাতার রূপদান করেছিলেন। ওই শিলার মধ্যেই দেবী কালিকা আবদ্ধা আছেন। কালীঘাট পুণ্য পীঠস্থান রূপে আত্মপ্রকাশের মূলে রয়েছেন মহাতপস্বী দুই সাধক শ্রীআত্মারাম ঠাকুর এবং শ্রীশ্রীব্রহ্মানন্দ গিরি। আর রয়েছে সাবর্ণ গোত্রীয় জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় তথা কামদেব ও পদ্মাবতীদেবীর সাধনা ও স্বপ্নাদেশ।

এ-ও শোনা যায়, সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের প্রাণপুরুষ লক্ষ্মীকান্তের বংশধর কেশবরাম রায় চৌধুরী গঙ্গাতীরে বসে জপতপ করতেন। কালীঠাকুরানির প্রত্যাদেশমতো কালীর প্রস্তরখোদিত মুখমণ্ডল পেয়ে তিনি বর্তমান কুণ্ডুর পশ্চিম তীরে স্থাপন করেন। কালীর সেবার জন্য উক্তস্থানের জমি নির্দিষ্ট করে দিয়ে মনোহর ঘোষাল নামক এক ব্যক্তিকে পরিচারক নিযুক্ত করেন।

কালীঘাট, ১৮৮০।

সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের সূচনা গৌড়ের অধিপতি আদিশূরের সময় থেকে। তাঁর আহ্বানে কান্ব্যকুব্জ তথা কনৌজ থেকে পাঁচ জন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ গৌড়ে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বেদগর্ভ, যিনি সাবর্ণদের আদিপুরুষ। বেদগর্ভের পুত্র গঙ্গগ্রামের জমিদারি পেয়েছিলেন এবং সেই থেকে গঙ্গগ্রামের উপাধ্যায়রা হয়ে উঠলেন ‘গঙ্গোপাধ্যায়’, যেটি সাবর্ণদের পদবি। প্রসঙ্গত, এই বংশের সন্তান জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় (পরে কামদেব ব্রহ্মচারী) ছিলেন কালীঘাটের প্রধান পুরোহিত আত্মারাম ব্রহ্মচারীর শিষ্য। জিয়া ও তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতীদেবী কালীক্ষেত্রে সাধনা করতে এসেছিলেন পুত্রসন্তান লাভের জন্য। পদ্মাবতীদেবী একদিন স্বপ্নাদেশে জানতে পারেন, কালীকুণ্ডের জলেই রয়েছে সতীর দেহাংশ। সেই খবর জিয়া পৌঁছে দেন গুরু আত্মারাম ব্রহ্মচারীকে। আত্মারাম ব্রহ্মচারী কালীকুণ্ডে নেমে উদ্ধার করেন সেই দেহাংশ। ৯৭৭ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে স্নানপূর্ণিমা তিথিতে একটি লাল পট্টবস্ত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত হলেন দেবী কালিকা। শুরু হল সতীর নিত্য পূজাপাঠ।

দেবীর আশীর্বাদে ওই বছরেরই কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার দিন পদ্মাবতী জন্ম দেন এক পুত্রসন্তানের। লক্ষ্মীপূর্ণিমার দিন জন্ম বলে তাঁর নাম হয় লক্ষ্মীনারায়ণ বা লক্ষ্মীকান্ত। লক্ষ্মীকান্তের জন্মের পর তার মা পদ্মাবতী মারা গেলেন। লক্ষ্মীকান্তকে কালীঘাটে রেখে জিয়া বেরিয়ে পড়লেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি কাশীতে ছিলেন এবং কামদেব ব্রক্ষ্মচারী রূপে ভারতবিখ্যাত সাধক হন। লক্ষ্মীকান্ত বড়ো হতে থাকেন আত্মারাম ঠাকুরের কাছে। কালক্রমে তিনি হয়ে ওঠেন সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের প্রাণপুরুষ।

লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় (রায় চৌধুরী) মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে জায়গির পাওয়ার পর কালীঘাটে মন্দির নির্মাণ করেন ও দেবীর সেবার ব্যবস্থা করে দেন। এর জন্য লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরী ৫৯৫ বিঘা ৪ কাঠা ২ ছটাক জমি দান করেছিলেন।

পরবর্তী কালে কেশবরাম রায় চৌধুরী কালীঘাটের বন কেটে কালীর ইমারত নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। যে স্থানটিকে এখন কালীঘাট বলা হয় তা পূর্বে সাবর্ণ চৌধুরীদের জমিদারি-ভুক্ত চাঁদপুর গ্রাম বলে পরিচিত ছিল। পরে কেশবচন্দ্রের ভাই কাশীশ্বর রায় চৌধুরী ওই স্থানে একটি ক্ষুদ্র মন্দির নির্মাণ করেন বলে শোনা যায়। কালীঘাটের মন্দিরের পাশে ৫৫ বিঘা ৪ ছটাক জমি কালীর দেবোত্তর সম্পত্তি বলেই পরিচিত। এই দেবোত্তর সম্পত্তি দান করেছিলেন বড়িশার কেশবরাম রায় চৌধুরী।

কালীঘাটে আদিগঙ্গার ঘাট, ১৯৩০।

কালীঘাটের বর্তমান মন্দির তৈরির সূচনা করেন কেশবরামের পুত্র সন্তোষ রায় চৌধুরী। ১২০৯ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৮০২-০৩ খ্রিস্টাব্দের দাখিলি ভূমির তায়দাদে দেখা যায় যে ১১৫৭ বঙ্গাব্দ তথা ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে মনোহর ঘোষাল ও কালীঘাটের তদানীন্তন সেবায়েত গোকুলচন্দ্র হালদারকে সন্তোষ রায় চৌধুরী তাঁর জমিদারির নানা স্থানে বিস্তর ভূমি দান করেন। ২৪ পরগণায় সন্তোষ রায়ের অসীম প্রভুত্ব ছিল। সেই সময়ে সমাজ-অধিপতি ছিলেন তিনি। নিজের জীবদ্দশার শেষ দিকে কালীঘাটে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন সন্তোষ রায়। তাঁর মৃত্যুর ৫-৬ বছর পরে ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ওই কাজ শেষ করেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র রাজীবলোচন রায় চৌধুরী।

মা কালীর সেবায়েতগণের মধ্যে ভুবনেশ্বর চক্রবর্তী কুলব্রহ্মচারীর নাম পাওয়া যায়। ভুবনেশ্বর যোগ সাধনায় রত থাকতেন এবং নির্জন কালীঘাটের গঙ্গাতীরে বাস করে কালীর সেবা করতেন। একদিন এক গরিব বিধবা ব্রাহ্মণী মন্দিরে দেবীদর্শনে আসেন। সঙ্গে অষ্টাদশী অবিবাহিত কন্যা। নাম যোগমায়া। ভুবনেশ্বরগিরি এই কন্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ভৈরবী রূপে গ্রহণ করেন। তন্ত্রে ভৈরবী রাখার নির্দেশ আছে। কিছু দিন পরে যোগমায়া এক কন্যার জন্ম দিলেন। কন্যার নাম রাখা হল উমা। ভুবনেশ্বরগিরি ধ্যানমগ্ন অবস্থায় অদ্ভুত দৈববাণী পেলেন – “বৎস ভুবনেশ্বর, এ বার উমার বিয়ে দে। সন্ন্যাসীদের রেহাই দিয়ে আমার পূজা সংসারীর হাতে তুলে দে।”

সেই আদেশমতো খন্যাননিবাসী ভবানীদাস চক্রবর্তীর সঙ্গে উমার বিয়ে দিয়ে ভুবনেশ্বর গিরি জামাতাকে নিয়ে এলেন কালীঘাটে এবং দক্ষিণাকালিকার পূজা-আরতির ভার দিলেন তাঁর হাতে। তখন থেকেই শুরু হল গৃহীভক্তের হাতে মা কালীর পূজার্চনা। সন্ন্যাসী ভুবনেশ্বর গিরিই কালীঘাটের শেষ মোহান্ত। ভবানীদাস চক্রবর্তী হালদার গোষ্ঠীর ব্রাহ্মণ।

কালীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে শ্যামরায় মন্দির এবং দোলমঞ্চ। ভবানীদাস চক্রবর্তী ছিলেন বৈষ্ণব। তিনিই শ্যামরায় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭২৩ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদাবাদের জনৈক কানুনগো কালীঘাটে শ্যামরায়ের জন্য একটি ছোটো মন্দির নির্মাণ করে দেন। ১৮৪৩-এ বাওয়ালির জমিদার উদয়নারায়ণ মণ্ডল শ্যামরায়ের সেই মন্দির সংস্কার করে বর্তমান মন্দির তৈরি করেন। শ্যামরায়ের প্রধান উৎসব দোলযাত্রা। আগে শ্যামরায়ের দোলমঞ্চ ছিল না, তাই মন্দিরেই দোল পালন করা হত। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে সাহানগর নিবাসী মদন কোলে নামক এক ব্যক্তি শ্যামরায়ের দোলমঞ্চ নির্মাণ করে দেন।

কালীঘাটের মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত মা কালীর মুখমণ্ডল পরবর্তী কালে সোনার তৈরি দামি অলংকারে সজ্জিত হয়েছে। এই সমস্ত অলংকার বহু ধনী ব্যক্তির দান। প্রথমে খিদিরপুরের দেওয়ান গোকুলচন্দ্র ঘোষাল চারটি রুপোর হাত গড়িয়ে দেন। এখনকার চারটি স্বর্ণনির্মিত হাত দান করেন কলকাতার প্রসিদ্ধ বাবু কালীচরণ মল্লিক। চার হাতের চারগাছি সোনার কঙ্কণ দিয়েছেন চড়কডাঙা নিবাসী কালীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতামহ রামজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সোনার জিভ দান করেন পাইকপাড়ার রাজা ইন্দ্রচন্দ্র সিংহবাহাদুর। কলকাতার বেলিয়াঘাটার রামনারায়ণ সরকার কালীর সুবর্ণখচিত মুকটটি দান করেন। কালীর মাথার ওপর রুপোর ছাতাটি তৈরি করে দেন নেপালের রাজার প্রধান সেনাধ্যক্ষ জং বাহাদুর।  

নকুলেশ্বর।

কালীঘাটের নকুলেশ্বর ভৈরব হলেন স্বয়ম্ভু লিঙ্গ, কালীর মন্দির থেকে কিছুটা দূরে ঈশাণ কোণে অবস্থিত। কালীঘাট জনগণের কাছে পরিচিত হওয়ার বহু পরেও এই নকুলেশ্বরের কোনো আলাদা মন্দির ছিল না। কালীর মন্দির, ভোগঘর, শ্যামরায়ের মন্দির হওয়ার পর নকুলেশ্বরের মন্দির হয়েছে। তারা সিংহ নামে এক পঞ্জাবি ব্যবসায়ী ১৮৫৪ সালে নকুলেশ্বরের মন্দির নির্মাণ করে দেন। শিবরাত্রি, নীলষষ্ঠী ইত্যাদি পুজোয় বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই নকুলেশ্বর মন্দিরে।

এ বার কালীঘাট মন্দিরের আনুষঙ্গিক কিছু নির্মাণ সংক্রান্ত কিছু তথ্য:

কালীমন্দিরের সামনে গঙ্গার ঘাট – নির্মাণ করেন পঞ্জাববাসী সৈনিক হজুরি মল্ল ১৭৭০-৭১ খ্রিস্টাব্দে।

দু’টি ভোগঘর, তোরণদ্বার ও নহবতখানা – নির্মাণ করেন গোরক্ষপুরনিবাসী টীকা রায় ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে।

নাটমন্দির – নির্মাণ করেন আন্দুলের জমিদার কাশীনাথ রায় ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে।

তৃতীয় ভোগঘর – নির্মাণ করেন শ্রীপুরনিবাসী জমিদার রায় তারকচন্দ্র চৌধুরী ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে।

অবশিষ্ট ভোগঘর – নির্মাণ করেন ছাপরানিবাসী গোবর্ধন দাস আগরওয়াল ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে।

তথ্যসূত্র:

১. কালীঘাটের পুরাতত্ত্ব – সূর্যকুমার চট্টোপাধ্যায়

২. Administration Report of the Suburban Municipality 1872-73

৩. Statistical Accounts of Bengal by Dr. W. W. Hunter

৪. ৫১ পীঠ- হিমাংশু চট্টোপাধ্যায়

৫. কালীরূপের তাৎপর্য – প্রদীপ রায় চৌধুরী

 ৬. অমৃততীর্থ কালীঘাট – শৌভিক গুপ্ত

 ৭. কলিকাতা সেকালের ও একালের – হরিসাধন মুখোপাধ্যায়

 ৮. সম্বন্ধ নির্ণয় – লালমোহন বিদ্যানিধি

 ৯. প্রাচীন কলিকাতা – শিবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়

 ১০. লক্ষ্মীকান্ত – অতুলকৃষ্ণ রায়

 ১১. পীঠমালা -শিবচন্দ্র ভট্টাচার্য

 ১২. কালীঘাট-ইতিবৃত্ত – উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়

 ১৩. পশ্চিমবঙ্গের কালী ও কালীক্ষেত্র – দীপ্তিময় রায়

 ১৪. কলকাতা বিচিত্রা – রাধারমণ রায়

 ১৫. কালীক্ষেত্র দেবীপিকা – সুকুমার চট্টোপাধ্যায়

আরও পড়ুন: Religious Places in Bengal: কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বোড়ালে ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির

Continue Reading

ধর্মকর্ম

Religious Places in Bengal: কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বোড়ালে ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির

সম্ভবত শ্রীত্রিপুরসুন্দরী মন্দিরের প্রথম প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ত্রয়োদশ শতকে। সেন বংশের কোনো রাজা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Published

on

শ্রীত্রিপুরসুন্দরী মন্দির।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলিতে গড়িয়ার কাছে বোড়ালে দশমহাবিদ্যার তৃতীয় মহাবিদ্যা ষোড়শীর (শ্রীত্রিপুরসুন্দরী) এক প্রাচীন পীঠস্থান রয়েছে। এই মন্দিরের মাহাত্ম্য এবং ঐতিহ্য দু’টোই বহু দিনের।

Loading videos...

আদিশক্তি মহামায়া তাঁর দশ রূপ (কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী, কমলা) দেখিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবকে মহিমান্বিত করেন। এই দশমহাবিদ্যার তৃতীয় রূপ ষোড়শী দেবীর নামান্তর শ্রীবিদ্যা বা শ্রীত্রিপুরসুন্দরী – এই তন্ত্রোক্ত অভিমত।

বোড়াল গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীত্রিপুরসুন্দরী। এই দেবীর ভৈরব শ্রীশ্রীপঞ্চাননদেব। দেবীর বর্তমান মন্দিরটি বয়সে নবীন হলেও, বোড়াল গ্রামে শ্রীত্রিপুরসুন্দরী যে প্রাচীন কাল থেকেই প্রতিষ্ঠিতা, তার একাধিক প্রমাণ আবিষ্কৃত হয়েছে। সম্ভবত শ্রীত্রিপুরসুন্দরী মন্দিরের প্রথম প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ত্রয়োদশ শতকে। সেন বংশের কোনো রাজা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহালয়ের পক্ষ থেকে ১৯৪০ সালে ত্রিপুরসুন্দরী মন্দিরের প্রাচীন ধ্বংসস্তূপ খনন করা হয়। খনন করে মন্দিরের ভিত্তির কয়েকটি স্তর পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্তরের গঠনশৈলী ও কারুকার্যের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। ঐতিহাসিকদের মতে, এই মন্দিরের গঠনভঙ্গিতে বিভিন্ন যুগের ছাপ রয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন যুগে যাঁরা এই মন্দিরের সংস্কার করেছিলেন তাঁরা তাঁদের রুচি ও স্থাপত্যশিল্পের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সেই কাজ করেছিলেন।  

মূল মন্দির।

মন্দিরের স্তূপ এবং পার্শবর্তী স্থান খনন করে নানা রকমের ঐতিহাসিক উপাদান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খ্রিস্টীয় সপ্তম-অষ্টম শতকের দু’টি অপূর্ব সুন্দর বিষ্ণুমূর্তি, পাথরে খোদাই অঙ্কুশ চিহ্নিত বিষ্ণুর পাদপদ্ম, ত্রয়োদশ শতকের চিত্রিত বিভিন্ন আকৃতির ইট। ইটগুলির উপর খচিত রয়েছে দেবদেবীর মূর্তি, মঙ্গলঘট, আঙুরের স্তবক, পদ্মফুল প্রভৃতি কারুকার্য। স্তূপ খননের সময় প্রাচীন মন্দির-ভিত্তির আশেপাশে খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতকের পোড়ামাটির বিভিন্ন আকৃতির পাত্র, পুতুল ইত্যাদি পাওয়া যায়।

বর্তমান ত্রিপুরসুন্দরী মন্দিরের উত্তর-পশ্চিম দিকে ছিল বিরাট উঁচু মাটির ঢিবি। ১৯৪১ সাল নাগাদ স্থানীয় ইটখোলার পক্ষ থেকে ওই ঢিবি ভেঙে ফেলা হয়। এর ফলে ওখানে তৈরি হয় বড়ো বড়ো পুকুর। এই মাটি কাটার ফলে বিভিন্ন ধরনের বিস্ময়কর সব পুরাবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে। বিশিষ্ট পুরাতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, ওই সব পুরাবস্তুর বয়স খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে শুরু করে খ্রিস্টাব্দ সপ্তম-অষ্টম শতক পর্যন্ত। ওই সব পুরাবস্তুর মধ্যে রয়েছে শুঙ্গযুগের পোড়ামাটির ফলক, গুপ্তযুগের পোড়ামাটির অপ্সরামূর্তি, রাক্ষসের মুখ, নারী-পুরুষের মিথুনমূর্তি, ফলকে উৎকীর্ণ জাতক-কাহিনি, মহিষ ও হরিণের শিলীভূত শিং, মাটির মাল্যদান, বড়ো বড়ো পাথরের জালার অংশ, বিভিন্ন প্রকারের মৃৎপাত্র ও প্রস্তরপাত্রের ভগ্নাংশ ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রকারের পাত্রের মধ্যে পিঙ্গল রঙের পাত্রগুলি শুঙ্গ-কুষাণ যুগের, লাল আবরণের পাত্রগুলি গুপ্তযুগের, কালো রঙের পাথরের পাত্রগুলি পাল-সেন যুগের বলে অনুমান।

ত্রিপুরসুন্দরী বিগ্রহ।

১৯৫৪ সালে সেনদিঘি সংস্কারের সময় দিঘির পশ্চিম দিকে মাটির তলা থেকে লাল বেলেপাথরের একটি অপূর্ব তারামূর্তি পাওয়া যায়। মূর্তিটি আনুমানিক ত্রয়োদশ শতকের। ওই তারামূর্তিটি ত্রিপুরসুন্দরী মঠে রক্ষিত আছে। এ ছাড়াও বোড়াল গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় খননকার্য চালিয়ে আরও যে সব বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদান পাওয়া গেছে, তাতে এই অঞ্চলের সুপ্রাচীনত্ব প্রমাণিত হয়। এই সেনদিঘিরই পশ্চিম দিকে ত্রিপুরসুন্দরীর ভৈরব নামে খ্যাত লৌকিক দেবতা পঞ্চানন্দের মন্দির।             

এক সময়ে বোড়ালের মন্দির-সীমানার পূর্ব দিকে আদিগঙ্গা প্রবাহিত ছিল। কথায় বলে, ‘গঙ্গার পশ্চিম কূল বারাণসী সমতুল’। এই দেবীর মন্দিরও আদিগঙ্গার  পশ্চিম দিকে অবস্থিত। সেই সময়ে এই দেবীমন্দির থেকে কিছুটা দূরেই ছিল বন্দর। ছোটো জাহাজ, নৌকা বন্দরে আসত। দেশ-দেশান্তর থেকে বহু তীর্থযাত্রী নৌকাযোগে আসত তীর্থস্থান দর্শন করতে। পাল ও সেন রাজাদের সময় বা বলা যেতে পারে তারও আগে সওদাগররা নৌকাযোগে আদিগঙ্গার এই প্রবাহপথ ধরে গড়িয়া, বোড়াল প্রভৃতি অঞ্চল অতিক্রম করে তমলুকের প্রধান বন্দরে যেতেন। সেই সময় তাঁরা এই ত্রিপুরসুন্দরী মন্দিরে পুজো দিতেন ও রাত্রিবাস করতেন। তাঁরাই মন্দিরের সংস্কার করেছিলেন এবং এই দেবীপীঠের উন্নতি সাধন করেছিলেন।

অতীতে ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির নানা কারণে জনশূন্য হয়ে পড়ে। পরে সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে জগদীশ ঘোষ (পূর্ববঙ্গের ধনাঢ্য জমিদার) নৌকাযোগে তীর্থভ্রমণ বেরিয়ে এই পীঠস্থানে আসেন এবং দেবীর নির্দেশেই তিনি মন্দির সংস্কার করে বোড়াল গ্রামেই বসবাস শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে জগদীশ ঘোষ দিল্লির সম্রাটের অধীন সুবেদারের কাছ থেকে বোড়াল গ্রামের পত্তনি নিয়ে এখানে বসতি স্থাপন করেন। তিনি গ্রামে ব্রাহ্মণ, কুলীন কায়স্থ, ধোপা, নাপিত, কুম্ভকার, মালাকার প্রভৃতিদের ভূসম্পত্তি দান করে তাঁদের বসবাসের ব্যবস্থা করেন। জগদীশ ঘোষ জঙ্গলাকীর্ণ ইটের স্তূপ খনন করে ধ্বংসপ্রাপ্ত ত্রিপুরসুন্দরী মন্দিরটির সংস্কার করেন এবং সেখানে পূজাপাঠের ব্যবস্থা করেন।

মন্দিরের প্রবেশফটক।

তারাপীঠের মতো বোড়ালের এই পীঠেও বহু সাধক এসে মায়ের সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছেন। আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে এই দেবীপীঠের কাছেই এক বিস্তৃত কেয়াবন ছিল। বহু সাধক সেই বনের মধ্যে নির্জনে ছোটো ছোটো কুটীর তৈরি করে তপস্যা করতেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাধক শ্রীমৎ স্বামী শিবচৈতন্য গিরি। সাম্প্রতিক কালে দেবীর সাধনা করে শ্রীমৎ স্বামী হরানন্দ সরস্বতী ও জগদগুরু শঙ্করাচার্য্য ১১০৮ শ্রীমৎ স্বরূপানন্দ গিরিও সিদ্ধ হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জগদীশ ঘোষ মহাশয়ের সঙ্গে বড়িশার প্রতাপশালী সাবর্ণ রায় চৌধুরী জমিদারগণের ও ভূকৈলাশ রাজবংশের সুসম্পর্ক ছিল। তিনি বড়িশা ও বোড়াল গ্রামের সঙ্গে একান্ত ঘনিষ্ঠতা স্থাপন করেন এবং তাঁদেরও দেবীর সেবাকার্যে অনুপ্রাণিত করেন। এর পরবর্তীকালে ঘোষ বংশীয় জমিদার হীরালাল ঘোষ বিদেশ থেকে বোড়ালে ফিরে দেবীর মন্দিরের সংস্কার করেন। তিনি গ্রামের কয়েক জন ব্যক্তিকে নিয়ে সেবায়েতমণ্ডলী তৈরি করেন। সেবায়েতগণের মধ্যে সত্যনারায়ণ ভট্টাচার্য, ভূতনাথ মুখোপাধ্যায়, বসন্ত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রকুমার মিত্র প্রভৃতিরা ছিলেন।

হীরালাল ঘোষ বার্ধক্যের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ফরতাবাদ ও অন্যান্য স্থানের সম্পত্তিগুলি দেখাশোনার অভাবে বেদখল হতে শুরু করে। সেই সময় আইনের বলে ১৩৪১ বঙ্গাব্দে এক সাধারণ সভায় ৭ জন ব্যক্তিকে নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এই কমিটি মন্দিরের বহু উন্নতিমূলক কাজ করে। বিশেষ করে প্রায় চার হাজার টাকা ব্যয়ে দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তি তৈরি করা হয়। এই মূর্তি তৈরি করেন কলকাতার বিখ্যাত জি পাল মহাশয়। বিগ্রহটির ওজন ছয় মণ পঁচিশ সের, কেবলমাত্র দেবীর ওজন প্রায় দুই মণ। এই মূর্তি নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন কলকাতার বিখ্যাত ছাতুবাবু লাটুবাবুর সুযোগ্য বংশধর নীরজেন্দ্র নাথ দেব। নবনির্মিত বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হয় ২৩ মাঘ ১৩৪১ বঙ্গাব্দ (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ) শুক্লা তৃতীয়ার দিন। বিভিন্ন স্থান থেকে তান্ত্রিক ব্রাহ্মণ এসে পূজাপাঠ করেন এবং পাঁচজন বেদপাঠী ব্রাহ্মণ সারা দিন বেদপাঠ করেন।

ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির চত্বর।

১৯৪৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের অ্যাডভোকেটদের পরামর্শে ট্রাস্টি বোর্ডের পরিবর্তে প্রতি বছর পরিবর্তন সাপেক্ষে কমিটি নিয়োগ করার প্রথা চালু হয়। দেবীর নতুন নবরত্ন মন্দির নির্মাণ করা হয়। নয় চূড়াবিশিষ্ট মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৫২ ফুট। মন্দিরের সম্পূর্ণ নকশা করেন মার্টিন অ্যান্ড বার্ন কোং-এর ইঞ্জিনিয়ার ঢাকুরিয়া নিবাসী সরোজ কুমার চট্টোপাধ্যায়। মন্দির সংলগ্ন নাটমন্দিরটি বেশ বড়ো। মূল মন্দিরের পূর্ব দিকে রয়েছে নারায়ণ ও শিবমন্দির।  

এখন দেবীপীঠের চার দিকে দেওয়াল দেওয়া হয়েছে এবং একটি তীর্থযাত্রী নিবাস তৈরি করা হয়েছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেবীর নিত্য সেবাপূজার জন্য তহবিল তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে একটি সংগ্রহশালা তৈরি করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে এবং বিশেষ বিশেষ নিদর্শনগুলি আশুতোষ মিউজিয়ামে রাখা আছে।

কথা হচ্ছিল ত্রিপুরসুন্দরী সেবা সমিতির সদস্য স্বপন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, আপাতত শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে মন্দিরে ভক্তদের পুজো নেওয়া হচ্ছে। ভক্তরা মূল মন্দিরের বাইরে থেকে পুজো দিচ্ছেন। স্যনিটাইজারের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। কিন্তু যে ভাবে কোভিড বাড়ছে তাতে আরও কড়া বিধিনিষেধ চালু করা হবে কিনা তা মন্দির কমিটি বৈঠক করে ঠিক করবেন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মন্দির খোলা থাকে সকাল ৬টা থেকে দুপুরে ভোগ নিবেদনের আগে পর্যন্ত। বিকাল ৫টায় মন্দির আবার খোলে, আরতির পর ৭টায় বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র:

১। শ্রীশ্রীত্রিপুরাসুন্দরী দেবীপীঠের প্রাচীন ইতিহাস এবং দেবী মাহাত্ম্য – ত্রিপুরাসুন্দরী সেবা সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত

২। বৃহত্তর গড়িয়ার ইতিবৃত্ত – সুধাংশু মুখোপাধ্যায় – শিশুমেলা, কলকাতা ৭০০০৪৭

Continue Reading

ধর্মকর্ম

আজ থেকে বলদেবের রাসযাত্রা বেলেঘাটা মিত্রবাড়িতে, এ বছর সীমাবদ্ধ পরিবারের মধ্যেই

মিত্রদের ঠাকুরবাড়ি রাজা পীতাম্বর মিত্রের প্রতিষ্ঠিত। এই ঠাকুরবাড়ি আজ এক প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান।

Published

on

বলদেব ও রেবতীরানির বিগ্রহ।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

অতীতের শুঁড়া, আজকের বেলেঘাটা, কলকাতার পূর্বপ্রান্তে। এই বেলেঘাটাতেই রয়েছে রাসবাগান। এই রাসবাগানই মিত্রদের ঠাকুরবাড়ি, যেখানে রাস হয়ে আসছে অন্তত সোয়া ২০০ বছর ধরে, পীতাম্বর মিত্রের আমল থেকে। এই রাস শ্রীকৃষ্ণের নয়, এই রাস বলদেবের। এই মিত্র বংশেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন এশিয়াটিক সোসাইটির কর্ণধার এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমসাময়িক তথা বাংলায় বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। এখন এই রাসবাগান মিত্রবাড়ি যে রাস্তায় সেই রাস্তা রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র রোড নামে পরিচিত।

Loading videos...

মিত্রদের ঠাকুরবাড়ি রাজা পীতাম্বর মিত্রের প্রতিষ্ঠিত। এই ঠাকুরবাড়ি আজ এক প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান। প্রতি বছরের মতন এ বছরও এই ঠাকুরবাড়িতে বলদেবের রাসযাত্রা পালিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে রাসযাত্রা, চলবে তিন দিন। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে উৎসবকে পরিবারের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাইরের কোনো ভক্ত এ বছর প্রবেশ করতে পারবেন না বলেই জানা যাচ্ছে পরিবার সূত্রে।

ঠাকুরদালানে ব্যাস্ত বাড়ির কুলবধূরা। রাসযাত্রার আগের দিন।

কথা হচ্ছিল রাজা পীতাম্বর মিত্রের অষ্টম বংশধর দ্বৈপায়ন মিত্রের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এ বছর ঠাকুর রাসমঞ্চে যাবেন না, তাই বাড়ির অন্দরে ঠাকুরদালানেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী রাসমঞ্চ। বাড়ির কুলবধূরাও চূড়ান্ত ব্যস্ত পুজোর জন্য। তাঁদের কথায়, মন্দিরে আলপনা দেওয়া থেকে শুরু করে নৈবেদ্য সাজানো সবটাই তাঁরা করেন। এ বছর করোনার কারণে সমস্ত শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই তাঁরা পুজোর জোগাড় করেছেন।

মিত্রবাড়ির প্রাণপুরুষ পীতাম্বর মিত্র ছিলেন দিল্লি দরবারে অবধ-এর (অযোধ্যা) নবাবের উকিল। দিল্লির বাদশাহ তাঁকে ৩০০০ অশ্বারোহী সৈন্যের মনসবদারি, দোয়াবের অন্তর্গত কোড়া প্রদেশ জায়গির ও রাজাবাহাদুর খেতাব দেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে কাশীর চৈত সিংহের বিদ্রোহের সময় পীতাম্বর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজের সৈন্যসামন্ত নিয়ে ইংরেজের পক্ষে লড়াইয়ে মাতলেন। চৈত সিংহ পরাজিত, রামনগর দুর্গ জয় হল। দুর্গ থেকে পাওয়া গেল চারটে সিন্দুক। না, সোনাদানা নয়, তা থেকে মিলল অন্য মণিমাণিক্য – ফারসি ও সংস্কৃত পুথি। সেই পুথি ও অযোধ্যার নবাবের কাছে পাওনা ৯ লক্ষ টাকা নিয়ে ১৭৮৭ সালে কলকাতায় ফিরে আসেন পীতাম্বর।

সেই সময় কলকাতায় মিত্রদের বসত ছিল মেছুয়াবাজারে। কলকাতায় ফিরে রাজা পীতাম্বর মিত্র রাজমুকুট ত্যাগ করে সমস্ত সম্পত্তি দেবতার পায়ে সমর্পণ করে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিরিবিলিতে ধর্মচর্চা করার জন্য মেছুয়াবাজারের বাড়ি ছেড়ে দিয়ে শুঁড়ার বাগানবাড়িতে বাস করতে থাকেন।

ঠাকুরবাড়ি ঢোকার মুখে পুরোনো ফলক।

পীতাম্বর মিত্র এক সময় বৃন্দাবনে যান। সেখানে থাকাকালীন তিনি এক দিন স্বপ্নে নিমকাঠ ভেসে আসতে দেখেন। নিমকাঠ দিয়ে কৃষ্ণ এবং শ্রীরাধার যুগল বিগ্রহ বানাবেন বলে স্থির করেন। কিন্তু তিনি যত বার ওই বিগ্রহ বানাতে যান তত বারই বলরাম এবং রেবতীরানির দারুবিগ্রহ তৈরি হয়ে যায়। তাই তিনি স্থির করেন যে তিনি বলদেব এবং রেবতীরানির বিগ্রহই প্রতিষ্ঠা করবেন। সেই বিগ্রহ নিয়ে পীতাম্বর মিত্র বৃন্দাবনেই প্রথম রাসযাত্রা পালন করেন। পীতাম্বরের সেই বাড়ি আজও রয়েছে বৃন্দাবনে।

তার পর পীতাম্বর সেই দারুবিগ্রহ নিয়ে আসেন কলকাতার ঠাকুরবাড়িতে এবং তখন থেকেই এই বিগ্রহের সেবা হচ্ছে বেলেঘাটার মিত্রবাড়িতে। বেলেঘাট অঞ্চলের এই সাবেকি বাড়ির চার দিক পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, যার কেন্দ্রে রয়েছে বলদেব ও রেবতীরানির ঠাকুরবাড়ি। এ ছাড়াও বিরাট মাঠ, খিড়কি পুকুর, রাসমঞ্চ, বাগানও রয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ঠাকুরবাড়ির মন্দিরের কোনো চূড়া নেই। কারণ সেই সময় কালাপাহাড় হিন্দু মন্দির ধ্বংস করছিলেন। তাই তিনি যাতে এই মন্দিরের খোঁজ না পান সেই কারণেই এই মন্দিরে চূড়া তৈরি করা হয়নি।

ঠাকুরবাড়িতে জগন্নাথ বিগ্রহ।

প্রতি বছর রাসযাত্রার সময় পীতাম্বর মিত্র বৃন্দাবন থেকে কলকাতায় আসতেন এবং উৎসব শেষ হলে আবার ফিরে যেতেন বৃন্দাবনে। মৃত্যুর পর সেখানেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

পীতাম্বর মিত্রের পর এই বংশের আরও এক সুসন্তান হলেন তাঁর পৌত্র জন্মেজয় মিত্রের পুত্র রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র, পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি আলাদা করে ‘রাজা’ উপাধি পেয়েছিলেন। মিত্রবাড়ির আরও এক সুসন্তান হলেন ডঃ পঞ্চানন মিত্র, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত অ্যানথ্রোপোলজি বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে মিত্রবাড়ির বিগ্রহের কোনো দিন নবকলেবর হয়নি। শুধুমাত্র প্রতি বছর অঙ্গরাগ হয়। দোলযাত্রার পর অঙ্গরাগ শুরু হয়, অঙ্গরাগের পর বিগ্রহের অভিষেক হয়।

ঠাকুরবাড়িতে গোপালের দারুবিগ্রহ।

বলদেবের রাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাসবাড়ি সংলগ্ন অঞ্চলে মেলা বসে। তবে করোনার জন্য সেই মেলা এ বার আর বসছে না। কথায় কথায় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেল, এই মেলা কলকাতার সব থেকে পুরোনো মেলা বলেই পরিচিত। এই মেলার আগে অতীতে এখানে রথযাত্রায় মেলা বসত কিন্তু যে হেতু রথযাত্রার সঙ্গে মিত্রবাড়ির কোনো যোগসূত্র নেই তাই রথযাত্রার সেই মেলা এখান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অন্যত্র চলে যায়।

আজ শুরু হয়েছে বলদেবের রাসযাত্রা। সকালে মঙ্গলারতির পর বাল্যভোগ। তাতে থাকছে নানা রকমের ফল, মিষ্টির নৈবেদ্য। তার পর দুপুরে অন্নভোগ নিবেদন করা হবে। ভোগে থাকবে সাদাভাত, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি।

প্রতি বছর পরিবারের সদস্যরা এক সঙ্গে ভোগ খেলেও এ বছর সেই ব্যবস্থা নেই বলেই জানালেন তাঁরা। ঠাকুরবাড়িতে যাঁরা ভোগ রান্না করতে এসেছেন তাঁরাও বংশপরম্পরায় আসছেন। দ্বৈপায়নবাবুর কথায়, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক এবং অবশ্যই স্যনিটাইজার সঙ্গে রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর এই ভাবে উৎসব পালিত হলেও আগামী বছর ধুমধাম করেই বলদেবের রাসযাত্রা পালন করা হবে বলেই বিশ্বাস রাখেন মিত্রবাড়ির সদস্যরা।

তথ্যসূত্র:

১। কলিকাতা দর্পণ, দ্বিতীয় পর্ব, রাধারমণ মিত্র; ২। কলকাতার রাজকাহিনী, পূর্ণেন্দু পত্রী।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণাপুজো: ১৭৫ বছরে পা দিল খিদিরপুরের দাসবাড়ির পুজো

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
ক্রিকেট17 mins ago

ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার কেন? অদ্ভুত যুক্তি দিলেন টিম পেইন

মুর্শিদাবাদ30 mins ago

অনাস্থার আগেই মুর্শিদাবাদের জেলা সভাধিপতির পদ থেকে পদত্যাগ শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠর

রাজ্য42 mins ago

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্রজ রায়

Coronavirus Delhi
দেশ1 hour ago

Coronavirus Second Wave: সংক্রমণের হার ১৪ শতাংশে, সংক্রমণ নামল ১০ হাজারে, অভাবী রাজ্যগুলিকে অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য করতে চায় দিল্লি

delhi pollution
পরিবেশ1 hour ago

পরিবেশগত ভাবে সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের ২০ শহরের মধ্যে ১৩টি ভারতে

ধর্মকর্ম2 hours ago

Religious Places in Bengal: কালীক্ষেত্র কালীঘাট

দেশ3 hours ago

Corona Lockdown: বিহারে লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে ২৫ মে, ঘোষণা নীতীশ কুমারের

শিল্প-বাণিজ্য3 hours ago

জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক অবিলম্বে ডাকা হোক, নির্মলা সীতারমনকে চিঠি অমিত মিত্রের

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার2 days ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

বিজ্ঞান2 days ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

দেশ2 days ago

Covid Crisis: সংক্রমণের ধার কমাতে একটি বিশেষ ওষুধে ছাড়পত্র দিল গোয়া, খেতে হবে সবাইকে

বিজ্ঞান2 days ago

রক্তের গ্রুপের উপর কি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, গবেষণায় জানাল সিএসআইআর

প্রযুক্তি2 days ago

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোভিড অ্যাপ, সহজে জানা যাবে যাবতীয় তথ্য

শরীরস্বাস্থ্য1 day ago

করোনার এই দুঃসহ সময়ে অক্সিজেন বিপর্যয়ের সহজ সমাধান দিলেন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল

দেশ2 days ago

Corona Update: দৈনিক সংক্রমণকে ছাপিয়ে গেল সুস্থতা, দু’মাস ধরে টানা বৃদ্ধির পর অবশেষে কমল সক্রিয় রোগী

দেশ2 days ago

Covid Crisis: অক্সিজেনের অভাবে ১১ কোভিডরোগীর মৃত্যু অন্ধ্রপ্রদেশের হাসপাতালে

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে