নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: আর শোনা যাবে না সংগীতশিল্পী দেবব্রত সিংহ ঠাকুরের কণ্ঠ। বাংলা তথা পূর্ব ভারতের অদ্যাবধি বেঁচে থাকা একমাত্র সংগীত ঘরানা হল বিষ্ণুপুরের ধ্রুপদ। সেই ধ্রুপদ ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী দেবব্রত সিংহঠাকুর প্রয়াত হলেন।

বিষ্ণুপুর রামশরণ সংগীত মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ দেবব্রতবাবু শুক্রবার বিকেলে বিষ্ণুপুরে নিজের বাড়িতে প্রয়াত হন। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। দেবব্রতবাবু রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে।

বিষ্ণুপুর রাজপরিবারের কুচিয়াকোল বংশের সন্তান দেবব্রত সিংহঠাকুর। তাঁর গুরু ছিলেন স্বয়ং ‘স্বরসরস্বতী’ গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়াও সেতার, এস্রাজ ও রবীন্দ্রসংগীতের তালিম নেন পদ্মশ্রী সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।

দেবব্রত সিংহঠাকুর শুধু সংগীতশিল্পীই ছিলেন না, সংগীত নিয়ে তাঁর অহরহ সাধনা ও গবেষণা করে গিয়েছেন। দেবব্রতবাবু রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে ধ্রুপদে এমএ এবং ১৯৮১ সালে ডক্টরেট পান।

সংগীত, বিশেষত বিষ্ণুপুরী ধ্রুপদ সংগীত ঘরানা নিয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘বিষ্ণুপুর ঘরানার উৎপত্তির ইতিহাস’, ‘ভারতীয় সঙ্গীতের বৈশিষ্ট্য’, ‘যদুভট্ট’, ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতে বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রভাব’, ‘বিষ্ণুপুর ঘরানা’ (ঈংরেজি ভাষায়) ইত্যাদি। ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতে বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রভাব’ বইটির জন্য ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় ফেলোশিপ পান দেবব্রতবাবু।

তাঁর প্রয়াণে বিষ্ণুপুরী সংগীত ঘরানায় যে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

আরও পড়ুন: Bengal Corona Update: ১৮ শতাংশে নেমে এল সংক্রমণের হার, টেস্ট প্রচুর বাড়ার পরেও কমল দৈনিক সংক্রমণ

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন