নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বরের পর ফের ট্রেন চলল বর্ধমান থেকে কাটোয়া পর্যন্ত। তবে আর ন্যারোগেজ নয়, এবার ট্রেন চলা শুরু হল ব্রডগেজ লাইনে। শুরুটা আবশ্য হল দুর্বল পরিকাঠামো নিয়েই। শুক্রবার হাওড়া থেকে আসা কাটোয়া লোকাল দুপুর ২ টোয় বর্ধমান স্টেশন থেকে ছেড়ে কাটোয়ার উদ্দেশ্য রওনা দেয়। কাটোয়াতে ট্রেনটি পৌঁছয় বেলা সাড়ে ৩টে নাগাদ। ট্রেন কাটোয়া প্ল্যাটফর্ম ছুঁতেই আনন্দে মেতে উঠেন যাত্রীরা। ২০১২ সালে বর্ধমান-বলগোনা ব্রড়গেজ ট্রেন  চালু হয়। তারপর দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এই চালু হল বর্ধমান–কাটোয়া রুটের ট্রেন। দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হল যাত্রীদের।

কিন্তু বর্ধমান কাটোয়া রুটের ১৬ টি স্টেশনের মধ্যে ৯টি হল্ট স্টেশন। এই ১৬ টি স্টেশনের মধ্যে অনেক স্টেশনে মাইকের ব্যবস্থা নেই, প্লাটফর্মে জলের ভাল ব্যবস্থা নেই, দু তিনটি স্টেশনে কম্পিউটারাইজ টিকিট সিস্টেম থাকলেও তাও মাঝে মধ্যে লিঙ্ক ফেল থাকে। শৌচাগারগুলো তথৈবচ। বর্ধমান কাটোয়া ডেলি প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিনোদ যশ জানিয়েছেন, “আমাদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হলো। তবে অনেক স্টেশনেই পরিকাঠামোর অভাব আছে। সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত রেল কর্তৃপক্ষের। আমরা বহুবার পরিকাঠামো ও টাইম নিয়ে ডেপুটেশন দিয়েছি। কিন্তু ফল সেই ভাবে পাইনি”। বর্ধমানের স্টেশন ম্যানেজার স্বপন অধিকারী বলেন, “অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

রেল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে কাটোয়া থেকে বর্ধমান ৫৬ কিলোমিটার ন্যারোগেজ লাইনকে ব্রডগেজে উন্নীত করার কথা ঘোষণা করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। এই রেলপথ দিয়ে কাটোয়ার শ্রীখণ্ডে প্রস্তাবিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আনা হবে বলে রাজ্য সরকার রেলপথ তৈরির খরচের অর্ধেক টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ নিয়ে রাজ্য ও রেলের মধ্যে চুক্তিও হয়। গেজে পরিবর্তন হওয়ার পরে মুকুল রায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন বর্ধমান-বলগোনা লাইনের উদ্বোধন হয়। ওই রেলপথ দিয়ে বর্তমানে ৬ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করে। কিন্তু বলগোনা থেকে কাটোয়া ২৮ কিলোমিটার রেলপথে গেজ পরিবর্তনের কাজ পুরো শেষ তখনও হয়নি। তাই পুরো রেল পথে শুরু হয়নি ট্রেন চলাচল। পরে শ্রীখণ্ড পর্যন্ত একটি ট্রেন আসা-যাওয়া করত। কিন্তু শ্রীখণ্ডে বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে সমস্যার কারণে আটকে গিয়েছিল কাটোয়া পর্যন্ত (৮ কিলোমিটার) ট্রেন চলাচল। এদিন সেই পথে ট্রেন চালু হতেই আনন্দে মেতে উঠে কাটোয়াবাসী। রেল সূত্রে জানা গেছে, আপাতত একটি ট্রেন চলবে কাটোয়া পর্যন্ত। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এই লাইনের ‘মালিক’ ছিল ব্রিটেনের ম্যাকলিওড কোম্পাননি। তার পর থেকে আমোদপুর-কাটোয়া রেলপথের দায়িত্ব নেয় ভারতীয় রেল। লোকসানে চলা এই রেলপথ তুলে দেওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিত্যযাত্রীদের আন্দোলনের জেরে রেল কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত বারবার প্রত্যাহার করে নেয়। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ন্যারোগেজ লাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তরের কথা ঘোষণা করেছিলেনে। তা অনুমোদিত হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় রেলমন্ত্রী থাকার সময়ে।

বর্ধমান-কাটোয়া রুটে প্রত্যাশা পূরণ হলেও কাটোয়া-আমোদপুর লাইনের ট্রেন চলাচল শুরু না হওয়াতে কিছুটা হলেও হতাশ কাটোয়াবাসী। কাটোয়ার মনোয়ার হুসেন, মামলত হুসেনরা বলেন, “বর্ধমান-কাটোয়া রেল পথে ট্রেন চালু হওয়াতে আমরা খুশি। আমরা আশা করেছিলাম প্রায় একই সময় কাটোয়া-আমোদপুর রুটেও ট্রেণ চলবে। কিন্তু সেটা হল না”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here