নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সরস্বতী পুজো নাকি বাঙালির ভ্যালেন্টাইন’স ডে। বিতর্ক দীর্ঘ দিনের।তবে এরই মাঝে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চিরাচরিত ভাবে টিকে রয়েছে ভালোবাসার এক অনন্য রীতি। সরস্বতী পুজোকে সামনে রেখে ছাত্রীদের হোস্টেল থেকে ছাত্রদেরদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ। সঙ্গে থাকে তত্ব রূপে নানা উপহার।এদিনও তার অন্যথা দেখা গেল না। অনেকটা বিয়ে বাড়ির কনেযাত্রীর মতোই। বিশ্ববিদ্যলয়ের গোলাপবাগে ছাত্রদের ৬টি হোস্টেল আর তারাবাগে ছাত্রীদের জন্য ৬ টি গার্লস হোস্টেলে চলল প্রেমদিবস উদ্‌যাপন।

সকাল হতেই ফুলের বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা তারাবাগের পথ থেকে ছাত্রীদের দলগুলি একে একে প্রবেশ করে গোলাপবাগের ছাত্রদের হোস্টেলে।নানা মুখ নানা শাড়ি একেবারে রঙিন পরিবেশ। সকলের হাতেই সাজানো তত্বের ডালি। একে একে হোস্টেলভিত্তিক ছাত্রীরা প্রবেশ করে ছাত্র হোস্টেলে।অন্যদিকে প্রিয় বান্ধবীদের জন্য ছাত্ররা প্রত্যেকেই পাঞ্জাবিতে অপেক্ষারত। হোস্টেলে প্রবেশ মাত্রই ছাত্ররা ফুলের পাপড়ি বর্ষণের মাধ্যমে স্বাগত জানান বান্ধবীদের ।

তারপর একে একে ছাত্রীদের তত্বগুলি গ্রহন করে।তত্বে থাকে নানা রকমের মিষ্টি, ফল, চকোলেট।

মঙ্গলবার সকালে গার্গী, নিবেদিতা, প্রীতিলতার ছাত্রীরা সারিবদ্ধ ভাবে একে একে প্রবেশ করে রবীন্দ্র, নেতাজীর মতো বয়েজ হস্টেলগুলিতে।

মুলত নিজেদের মধ্যে আরও ভাব বিনিময়ের জন্য চলে পরিচয়পর্ব,  খাওয়াদাওয়া। তবে সিঙ্গলদের জন্য থাকে সুবর্ণ সুযোগ। পছন্দের বান্ধবী থাকলেই সুযোগ দেওয়া হয় মনের কথা বলার। তবে সবটাই নিছক মজার।

নিবেদিতা হোস্টেলের বিদ্যাজোতি বসু এবছর নতুন, গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী জানান,“সরস্বতী পুজোয় বাঙালির ভ্যালেন্টাইন ডের আবেগ কাজ করে মনের মধ্যে, এ বছর আমি নতুন এই রীতি আর কোথাও নেই, তাই খুবই আগ্রহী আছি সকাল থেকে”।

রবীন্দ্র হোস্টেলের সিনিয়র ছাত্র হুমায়ুন জানায়,“এই দিনটা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের, সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই সরস্বতী পুজোর জন্য। প্রত্যেকে নানা রকম থিম তৈরি করি। তা দেখতে আসে সকলে।তাছাড়াও শুধুমাত্র এই দিন ছেলেরা মেয়েদের আর মেয়েরা ছেলেদের হোস্টেলে যাওয়ার সুযোগ পায়। সব মিলিয়ে একটা মজা ও নতুন বন্ধুত্ব”।

একই রকম ভাবে ছাত্রীদের পর্ব শেষ হলেই ছাত্ররাও বেড়িয়ে পরে বরযাত্রী হয়ে ছাত্রীদের হোস্টেলগুলিতে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন