BDO indas
মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন বিডিও মানসী ভদ্র চক্রবর্তী। নিজস্ব চিত্র
ইন্দ্রাণী সেন।

বাঁকুড়া: ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে। শীতের আমেজে হালকা গরম জামা গায়ে চাপিয়ে দৈনন্দিন প্রাতঃকৃত্য সারতে একে একে সবাই মাঠঘাটের দিকে। হঠাৎই গ্রামের লাল রাস্তায় ধোঁয়া উড়িয়ে হাজির দু’টো গাড়ি। ভিতর থেকে ধুপধাপ করে নামছে মানুষ, তাদের মধ্য আবার পুলিশও।

ব্যাস আর যায় কোথায়, এক যুবক সাইকেল নিয়ে জঙ্গল থেকে দে ছুট। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই যুবককে ঘিরে ফেলল কয়েক জন। তাদের মধ্য থেকেই এক মহিলা চিৎকার করছেন, “আরে ভাই দাঁড়াও দাঁড়াও খুব ভালো কাজ করেছ, মিষ্টি মুখ করো। তোমার ছবি তুলে ব্লক অফিসে বাঁধিয়ে রাখা হবে” – ওই মহিলা আর কেউ না, স্বয়ং ইন্দাস ব্লকের বিডিও মানসী ভদ্র চক্রবর্তী।

মানসীদেবী বলেন, “’মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পে জেলা জুড়ে নির্মল সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি চলছে। বাঁকুড়া জেলায় ৯ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে প্রতিটি মানুষকে শৌচালয় ব্যবহারের কার্যকারিতা বোঝানো হবে।” এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আঁকার প্রতিযোগিতা, সাইকেল র‍্যালি, মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

আরও পড়ুন “আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন”, মৃত শবরের শ্রাদ্ধে বিজেপি নেতাকে দেখেই ক্ষোভ পরিবারের, দেখুন ভিডিওয়

শুক্রবার সাত সকালে ইন্দাসের রোল গ্রামে এই কাজে তাই ‘গান্ধীগিরি’র আশ্রয় নিলেন বিডিও মানসীদেবী। গ্রামে পৌঁছেই খোঁজ নিয়ে তিনি পৌঁছে যান স্থানীয় মানুষের প্রতিদিনকার শৌচকর্মের জন্য ব্যবহৃত গ্রামের ঝোপ-ঝাড়যুক্ত মাঠে। বাড়িতে শৌচাগার নেই বলে সবাই খোলা মাঠে আসছে, এমনটা নয়। অনেকেই অভ্যাসবশত সকাল সকাল হাজির হয়েছেন মাঠেঘাটে।

তবে শুক্রবার এই ঘটনার পর রোল গ্রামের উপস্থিত সবাই এক বাক্যে বিডিওর কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন, আর খোলা মাঠে শৌচকর্ম নয়। প্রত্যেকে শৌচাগার ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here