jaldapara national park

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: হাতির পর এ বার গন্ডারের হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। তা-ও সাধারণ মানুষ নয়, মৃত্যু হয়েছে এক বনাধিকারিকের। ডুয়ার্সের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ঘটনা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বনকর্মীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ছড়িয়েছে আতঙ্ক, উঠছে কিছু প্রশ্নও।

মৃত উত্তম সরকার (৫৭) আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের বাসিন্দা। তিনি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের শিল-তোর্ষা বিটের বিট অফিসার ছিলেন। বুধবার রাতে উত্তর জলদাপাড়া রেঞ্জ অফিস থেকে বাইক নিয়ে জঙ্গলপথে বিট অফিসে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও সেখানে না পৌঁছোনোয় বনকর্মীরা তাঁর খোঁজ করতে শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় হাসিমারা থানায়। ভোরে জঙ্গলের মধ্যেই তাঁর ছিন্নভিন্ন দেহ দেখতে পায় পুলিশ ও বনকর্মীরা। এর পর তাঁর দেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে রাতেই উচ্চপদস্থ বনাধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান।
beat officer uttam sarkar
বিট অফিসার উত্তম সরকার।

সূত্রের খবর, মৃত বিট অফিসারের বুক থেকে মুখ অবধি চিরে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত থেকে বন দফতরের অনুমান, গন্ডারের আক্রমণেই মৃত্যু হয়েছে ওই বিট অফিসারের। কারণ যে ভাবে বুক থেকে মুখ অবধি চিরে গিয়েছে তা একমাত্র গন্ডারের খড়গ দিয়েই সম্ভব। তা ছাড়া বনকর্মীরা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় কয়েক দিন ধরেই একটি পূর্ণ বয়স্ক গন্ডার ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এ দিকে দক্ষ অফিসার হিসাবে পরিচিত উত্তমবাবুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া বনকর্মীদের মধ্যে। শোকের ছায়া ছড়িয়েছে গোটা মাদারিহাট জুড়ে। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। শোকস্তব্ধ স্ত্রী ওই দুই মেয়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে গোটা এলাকা। উত্তমবাবুর বোন পুস্প মজুমদারের হাহাকার “যে বন্যপ্রাণীদের দাদা এত ভালোবাসত, তাদের হাতেই প্রাণ গেল দাদার”।
জলদাপাড়ার ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় বনাধিকারিক বিমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, বন দফতর মৃত অফিসারের পরিবারের পাশে আছে।
এ দিকে এই ঘটনার পর বনকর্মীদের নিরাপত্তা-সহ বেশ কিছু প্রশ্নও উঠেছে। কেন রাতের বেলায় জঙ্গলপথে অফিসের গাড়ি না নিয়ে বাইকে করে গেলেন উত্তম সরকার? কেন বিট অফিসার পদমর্যাদার এক জন অফিসারের সঙ্গে কোনো বনকর্মী ছিলেন না? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বনকর্মীর অভিযোগ, কর্মীসংখ্যা কম থাকাই এর জন্য দায়ী।
যদিও এ সবের সদুত্তর পাওয়ায় যায়নি বন দফতরের তরফে। জলদাপাড়ার ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় বনাধিকারিক বিমান বিশ্বাস শুধু জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন ওই দক্ষ অফিসার জঙ্গলপথে একা গেলেন তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও হাতির আক্রমণে মাহুত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জলদাপাড়ায়। গন্ডারের আক্রমণে বনকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এখানেই  প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশকর্মীরা। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এই ভাবেই চলতে থাকে তা হলে বনকর্মীরা কীসের ভরসায় জীবন বিপন্ন করে জঙ্গল পাহারা দেবেন? বনে আরও কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের সুরক্ষার দিকটিও দেখুক বন দফতর, দাবি রাজা রাউতের মতো পরিবেশকর্মীদের। কারণ জঙ্গল বাঁচাতে গেলে বনকর্মীদের বেঁচে থাকাটাও জরুরি, বলছেন পরিবেশকর্মীরা।
তিতাস পাল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here