দুর্গাপুজোর সময় থেকেই বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি চলছে জলপাইগুড়িতে। দশমীর দুপুর থেকে শুরু হয়েছে লাগাতার বৃষ্টিকখনও ঝিরঝিরে, কখনও মূষলধারে বৃষ্টি চলছেই। এরই মধ্যে ঝুকি নিয়েই লক্ষ্মী প্রতিমার গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন জলপাইগুড়ির মোহিত নগর, পাল পাড়ার শিল্পীরা। এঁরা প্রত্যেকেই দরিদ্র শিল্পী। বড় দুর্গা বা কালী প্রতিমা গড়ার ক্ষমতা এঁদের নেই। লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতীর মত ছোটো ছোটো প্রতিমা গড়েই এঁদের দুটো পয়সা রোজগার হয়। এবারও সময় মত প্রতিমা গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন তাঁরা। আগামী শনিবারই কোজাগরী পুর্ণিমা। ঘরে ঘরে হবে ধন-সম্পত্তির দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা। তাই তড়িঘড়ি প্রতিমা বানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দিনরাত এক করে কাজ করতে শুরু করেছিলেন এই দরিদ্র প্রতিমা শিল্পীরা। এমনই একজন মোহিত নগরের সুভাষ পাল। একমাত্র ছেলে, স্ত্রী এবং সুভাষ বাবু তিন জনে মিলে প্রতিমা গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন। নানা সাইজের প্রতিমার “অর্ডার”ও ভালই আসছিল। কিন্তু বাধ সাধল প্রকৃতি। আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর লাগাতার বৃষ্টিতে নাজেহাল শিল্পী সুভাষ পাল। চাহিদা থাকলেও নতুন প্রতিমার বায়না নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ এই বৃষ্টি ভেজা মরুশুমে প্রতিমা কী ভাবে শোকাবেন, কী ভাবে রঙ করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। যে গুলি তৈরি হয়ে গিয়েছে সেগুলি রোদে না দিতে পারায় “ফিনিশিং টাচ” দেওয়া যাচ্ছে না। তাই আর নতুন বায়না নিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে চাননি সুভাষ পাল। বায়না একবার নিয়ে নিলে খদ্দের-এর হাতে প্রতিমা তো তুলে দিতেই হবে। একই অবস্থা পাল পাড়ার সরা শিল্পী সরস্বতী পালেরও। ছাঁচে ফেলে লক্ষ্মীর সরার তৈরি কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সুর্যদেবের দেখা না পাওয়ায় তা শোকানো যায়নি। কাঁচা রঙ যে কোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তা হলে সমস্ত পরিশ্রমই মাটি হয়ে যাবে। আজ বাদে কাল পুজো, মাঝখানে মাত্র একটি দিন। তারপরেই প্রতিমা নিয়ে বাজারে যেতে হবে বিক্রির জন্যযেগুলির বায়না নেওয়া আছে তাও পৌঁছে দিতে হবে ক্রেতাদের কাছে। কিন্তু এই অসম্পুর্ণ প্রতিমা দিয়ে তো আর পুজো সম্ভব নয়। তাই কী ভাবে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না লক্ষ্মী-প্রতিমা শিল্পীরা। মোহিত নগরের চুনু পাল ইতিমধ্যেই ২৫ প্রতিমা তৈরি করে ফেলেছেন। কিন্তু এই ভাবে বিরামহীন বৃষ্টি চলতে থাকলে প্রতিমাগুলি নিয়ে কী ভাবে বাজারে যাবেন তাও বুঝে উঠতে পারছেন না চুনু দেবী সব মিলিয়ে এই ছোটো ছোটো প্রতিমা শিল্পীদের রাতে ঘুম উড়ে গিয়েছে। অনেক টাকা পুঁজি লাগিয়ে তাঁরা প্রতিমা তৈরি কাজ শুরু করেছেন। এখন যদি এই প্রতিমা বিক্রি করতে না পারেন তাহলে আর্থিক ক্ষতির বোঝা কী ভাবে সামলাবেন তা নিয়ে ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন