amit-sah

কলকাতা: পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দু’দফায় মোট চার দিন পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে আসার কথা ছিল। আগামী ৮ ও ৯ এপ্রিল এবং ১৯ ও ২০ এপ্রিল দু’দফায় রাজ্যে আসবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যা খবর, তিনি সম্ভবত রাজ্যে আসতে পারেন আগামী ৮ মে-র পর।

অমিত বাংলায় আসবেন বলে আগেভাগেই সমস্ত পরিরল্পনা সেরে রেখেছিল রাজ্য বিজেপি। রবিবার ৮ এপ্রিল তাঁর সভা করার কথা ছিল উত্তরবঙ্গে। সেই মতো দলের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আহ্বায়ক মুকুল রায় যাবতীয় বন্দোবস্ত করে এসেছেন। বেশ কয়েক বার শিলিগুড়ি গিয়ে বুথ স্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। দলের সর্ব ভারতীয় সভাপতির সভায় ঠিক যে ধরনের জাঁকজমকের প্রয়োজন, তার সব আয়োজনই প্রায় করা হয়ে গিয়েছিল।

অমিতের ৯ এপ্রিল আসার কথা ছিল কলকাতায়। এখানে অবশ্য তাঁর সভাস্থল নিয়ে ব্যাপক বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্য সরকারের সঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্ব চেয়েছিলেন, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অমিত সভা করুন। সেই মতো রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষরা স্টেডিয়াম পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানান, ওই দিন স্টেডিয়াম আগে থেকেই বুকিং হয়ে রয়েছে। দিলীপবাবুরা তা সহজে মানেননি। না দেওয়ার ছক বলে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে দেখে নেওয়ার হুমকিও তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু খোদ প্রধান বক্তা না আসায় এখন আর তাঁর সে বক্তব্যের কোনো মূল্য রইল না বলেই মনে করা হচ্ছে।

অমিত কেন এ রাজ্যে আসছেন না, এমন প্রশ্নের উত্তরে এক বিজেপি নেতা বলেন, ৯ এপ্রিল মনোনয়ন জমা করার শেষ দিন। তার পর চলবে পুরো দমে স্থানীয় স্তরে প্রচারের কাজ। ফলে এমন পরিস্থিতিতে তিনি বাংলায় এলে নির্বাচনের প্রচারে ছেদ পড়বে। বিঘ্নিত হবে এলাকার প্রচারের কাজ। যে কারণে আপাতত তিনি আসছেন না। তবে ৮ মে পঞ্চায়েতের ফলাফল ঘোষণার পর তিনি আসবেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে বিজেপি যাই বলুক, রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতের থেকে কর্নাটকের বিধানসভা ভোট নিয়ে অনেক বেশি আগ্রহী অমিত। উত্তরপ্রদেশ ও বিহার উপনির্বাচনের ক্ষতে প্রলেপ দিতে হলে কর্নাটকে কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করতেই হবে।  যে কারণে তিনি কোনো রকমে অন্যত্র সময় অপচয় করতে চান না। তা ছাড়া বিজেপি বুঝেই গিয়েছে, পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে যতই দাপাদাপি হোক, সিংহভাগ জেলা পরিষদ দখলে থাকছে তৃণমূলেরই।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন