pradesh-congress

কলকাতা: আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ জোট নিয়ে তোড়জোড় শুরুর আগেই পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। এআইসিসির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ বাংলা থেকে দিল্লি ফিরে যাওয়ার পর আগামী ৬ জুলাই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ্প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের বৈঠকে বসার সূচি নির্ধারিত হয়েছিল। তবে ওই বৈঠক যে মসৃণ পথে এগোবে না, তার ইঙ্গিত মিলেছে নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মতানৈক্যে।

গত ২৮ জুন, যে দিন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পুরুলিয়ায় সভা করছেন, সে দিন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেসের সাংসদ আবু হাসেম খানচৌধুরী এবং বিধায়ক মইনুল হক। দীর্ঘ আলোচনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা জানান, আগামী লোকসভা ভোটে জোটের প্রসঙ্গে কথা বলতেই তাঁদের ওই অভিযান। এখানেই থেমে না থেকে ওই সাংসদ দিল্লিতে সনিয়া গান্ধীর কানেও সেই বার্তা পৌঁছে দেন।

অন্য দিকে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ওমপ্রকাশ মিশ্র আগামী ভোটে সিপিএমের সঙ্গে জোট চেয়ে রাহুলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। একই ভাবে প্রদেশ সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীও তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার ঘোর বিরোধী। তাঁর মতে, তৃণমূলের সঙ্গে জোট আত্মহত্যার শামিল। অতীতে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে আদতে কংগ্রেসের ক্ষতিই হয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেসের তৃণমূল-বিরোধী অংশের যুক্তি, গত বিধানসভা ভোটের পর থেকে তাদের ১১ জন বিধায়ককে দলে টেনে নিয়েছে তৃণমূল। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। সরকার গঠন করার জায়গায় পৌঁছোতে না পারলেও ওই বিশাল অংশের জনসমর্থন সম্ভব হয়েছিল বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধেই। আগামী ২০২১-এ ওই জোট আরও কার্যকর ভূমিকা নেবে।

কিন্তু আবু হাসেমদের দাবি, বিজেপি-কে রুখতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট ছাড়া আর অন্য কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here