brigade parade groind kolkata

কলকাতা:  আগামী ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় বসতে চলেছে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন দিনের বৈঠক। মূলত দলের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ বা আরও স্পষ্ট করে বললে, আগামী ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের রূপরেখা রচনার যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে ওই বৈঠকে। ইতিমধ্যেই বাম মনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নিয়ে যৌথ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও অ-বাম কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এক জোট হয়ে লড়াই করার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে ওই বৈঠক। পাশাপাশি থাকছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গটিও। সম্ভবত আগামী এপ্রিল-মে মাসেই পঞ্চায়েত ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে এ রাজ্যে। সে দিকে তাকিয়েই সংগঠনের শক্তি পুনরুদ্ধারে ব্রিগেডের মতো বড়োসড়ো জনসভার দাবি তুলছেন জেলা নেতৃত্ব।

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে যে ক’টি লোকসভা বা বিধানসভার উপনির্বাচন এ রাজ্যে হয়েছে তার কোনোটিতেই আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি বামফ্রন্টের কোনো শরিক দল। উলটে তমলুক বা কোচবিহার লোকসভা কিংবা মন্তেশ্বর অথবা সবং বিধানসভার উপনির্বাচনে তাদের ভোটে বড়োসড়ো থাবা বসিয়েছে বিজেপি। স্বাভাবিক ভাবে আগত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি সিপিএমকে আলাদা লড়াই দিতে হবে বিজেপির সঙ্গেও। ইতিমধ্যেই সিপিএম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েও পদ আঁকড়ে থাকা পার্টি সদস্যদের দল থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। পরিবর্তে দলে নবীন কর্মীদের সেই জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের বাম মনোভাবাপন্ন যুব সমাজকে আকৃষ্ট করতে যে ধরনের সংগাঠনিক সক্রিয়তার প্রয়োজন, তা যেন ক্রমহ্রাসমান হয়ে পড়ছে।

দলের উত্তর ২৪ পরগনার এক জেলা নেতা বলেন, হাতের কাছে ইস্যু থাকলেও কোনো এক কারণে এলাকায় মিটিং-মিছিল আয়োজনে অসুবিধা দেখা দিচ্ছে। এর জন্য জেলা বা রাজ্য স্তরে থেকে কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ থাকলেও এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পালন করা সব সময় সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই অবস্থার পরিবর্তনে রাজ্য স্তরের কোনো জনসভাই পথ দেখাতে পারে। এমনকি প্রায় দু’বছর হতে চলল সিপিএম ব্রিগেডের মতো কোনো বড়োসড়ো সভা করেনি। তার উপর কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। সব মিলিয়ে দল যদি হাতে সামান্য সময় রেখেও ব্রিগেডের ডাক দেয়, তা হলেও জন সমাগমে ঘাটতি হবে না। তাঁর সঙ্গে এক মত হুগলি জেলা নেতৃত্বও।

রাজ্য কমিটি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সে দিকেই তাকিয়ে আছেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা।

‌- নিজস্ব ফাইল চিত্র

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here