gajan
Samir mahat
সমীর মাহাত

লোক সংস্কৃতির রোমহর্ষক আচারে জঙ্গলমহল জুড়ে পালিত হচ্ছে “বুঢ়া বাবা”র পুজো ও গাজন মেলা।

এটা তথাকথিত শিব পুজো নয়, লোক সংস্কৃতির আদলে শিবজ্ঞানে “বুঢ়া বাবা”র পুজো ও গাজন মেলা। এই গাজনের ঢাকের বুলি সামনের পঞ্চায়েতের দামামাকে তলানিতে ফেলে দিয়েছে।

লেখক সুমন গুপ্ত তাঁর বিশেষ রচনা”জাগ্রত শৈবতীর্থ শ্রীসোমনাথ”-এ দাবি করেছেন,”প্রধানত অনার্য দেবতা হলেও নানা পুরাণে শিব বৈদিক দেবতা রূপে মান্যতা পেয়েছেন”। তাঁর এই উক্তির যথার্থতা মেলে এই লোক গাজনে। গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো কিছু আচার পরম্পরায় ভাবে পালিত হয়ে আসছে। তার মধ্যে রয়েছে ‘রঁজনি ফোঁড়া’ (এ ক্ষেত্রে উপাসকের দুই বাহুতে মোটা সূঁচ গেঁথে সরু দড়ি পরানো হয়)। ‘জিভ ফোঁড়া’ (লোহার শিক এ পার-ও পার গেঁথে দেওয়া হয়)। ‘ভগতা’ ও ‘পাটভগতা’ (এ ক্ষেত্রে উপাসকদের পিঠে লোহার বাঁকানো ফলা গেঁথে শূন্যে ঘোরানো হয় বা মন্দির প্রাঙ্গণে ফলার সঙ্গে মই বেঁধে লাঙল চালানোর মতো তাদের ছোটানো হয়। সব ক’টি ক্ষেত্রে মাংস ছিড়ে দড়ি ও বাঁকানো ফলা না খসে পড়া পর্যন্ত চলে ঢাক-সানাইয়ের বাজনা ও নাচ।

gajan9

 

রাজনৈতিক দলাদলি ভুলে এই গাজনে গ্রামবাসীরা মিলে মিশে একাকার। ঝাড়গ্রাম জেলার অধিকাংশ গ্রামে বুঢ়াবাবার (শিব) থান ও মন্দির রয়েছে। এক-একটি গ্রামের গাজনের দিন নির্ঘন্ট আছে। একই দিনে এলাকার একাধিক গ্রামে গাজন হয় না। ঝাড়গ্রামের মুড়াবনি, দামোদরপুর, শিরসি গ্রামের গাজন ইতি মধ্যে শেষ হয়েছে। নয়াগ্রামের বিখ্যাত রামেশ্বরের গাজনও সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার প্রাচীন ও বিখ্যাত সাঁকরাইলের বড়দার গাজন হয় বৈশাখের শেষে। এটিই শেষ গাজন ।

gajan7

শিবের এই পুজার্চনায় এত ‘রক্তারক্তি’, ‘নিষ্ঠুর’ লোকাচার কেন! আদিবাসী কুড়মি সমাজের অন্যতম কর্মী তথা শিক্ষক তরুণ মাহাত বলেন, “বীরত্ব প্রকাশে এই লোকাচার মানা হয়। বুঢ়াবাবা তথা শিব আরাধনায় এই মানতকারী উপাসকেরা যন্ত্রণা সহ্যের মাধ্যমে কে কত বড় ভক্ত তার প্রমাণ রাখেন। গনগনে আগুনের উপর হেঁটে পার হন উপাসকেরা। এখানে জাদু বা ছলনার কোন স্থান নেই। একনিষ্ঠ ভক্ত ছাড়া সবাই এ সব পারেন না”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here