purulia1

শুভদীপ চৌধুরী, আদ্রা: পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত বেকো গ্রাম পঞ্চায়েত নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে আজ এক আলাদা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মনোনয়ন নিয়ে আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও বেকো গ্রাম পঞ্চায়েত সে সবের বাইরে। রাজ্য জুড়ে শাসক দলের প্রবল প্রভাবকে উপেক্ষা করেই সিপিএম পরিচালিত পঞ্চায়েত পুনর্নিবাচিত হওয়ার ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত। কারণটা অবশ্যই পঞ্চায়েতের পরিষেবার বহর।

নজরে পুরুলিয়া বেকো গ্রাম পঞ্চায়েত

পঞ্চায়েত প্রধান কাজল ভট্টাচার্য জানান, পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়ো দু’টি গ্রামে ৯৫ শতাংশ রাস্তা পাকা করা হয়েছে ও প্রায় সমস্ত ছোট গ্রামে সব রাস্তাই পাকা করেছে বেকো গ্রাম পঞ্চায়েত । প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে আশাকর্মী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত জলের ব্যবস্থা ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে। যে কারণে ইতি মধ্যেই নিয়মিত আবর্জনা সাফাই অভিযানে বেকো গ্রাম পঞ্চায়েত জেলার মধ্যে একটি স্বচ্ছ গ্রাম পঞ্চায়েত হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলার ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পে স্বীকৃতিপ্রাপ্তি এই গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজে থাকারই সুফল ।

জেলায় এটিই প্রথম পঞ্চায়েত, যা জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের প্রকল্পের হস্তান্তর নিয়েছে। এলাকায় ঘুরে দেখা গেল, গণ উদ্যোগে  রাস্তায় বাতিস্তম্ভের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেও নজির গড়েছে এই পঞ্চায়েত। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বেঞ্চ ও ডেস্কবিহীন স্কুলগুলিতে বেঞ্চ ও ডেস্কের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্কুলের দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে বই-খাতার ব্যবস্থাও করেছে পঞ্চায়েত। এমনকী বেকো উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে ।

তবে সাময়িক সমস্য কিছু আছেই। যেমন, নদীতে পাম্পের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহের ব্যবস্থা তেমন ভাবে এখনও চালু করা যায়নি। কিন্তু খুব দ্রুত এই ব্যবস্থা যে চালু করা হবে, তা জানিয়েছে পঞ্চায়েত ।

বাসিন্দা বাসুদেব মুখোপাধ্যায়, মার্শাল কিস্কু-সহ আরও অনেকের দাবি, গত পাঁচ বছরে এলাকায় ৫৯৫টি ইন্দিরা আবাসন প্রদান করা হয়েছে । একশো দিনের কাজেও এই পঞ্চায়েত এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে । বেকার যুবক-যুবতীরা কাজ পেয়েছেন বিভিন্ন প্রকল্পে। গ্রামের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পঞ্চায়েত থেকে বিনামূল্যে ৭৫ জনকে কোচিং ও খেলাধুলার সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সেলাই, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিউটিশিয়ান ও আরও অন্যান্য ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে। তাহলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি কী বলছে?

এই এলাকায় তৃণমূলের প্রভাব যথেষ্ট থাকলেও পঞ্চায়েতের পরিষেবার কাছে তা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে। এক তৃণমূল নেতা বলেন, পঞ্চায়েতের পরিষেবা নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। কিন্তু বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে।

তবে কাজলবাবু বলেন, “মানুষের মন আমরা জয় করেছি। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে ফল সিপিএমের পক্ষেই যাবে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here