কলকাতা: এটিএম পরিষেবায় বিপ্লব আনছেন বাঙালি প্রযুক্তিবিদ। আসছে ‘বায়ো-সোলার এটিএম’। ২০১৮-এর মধ্যেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাবে এই পরিষেবা। দু’টি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ বছরেই পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হবে এই পরিষেবা। এই পরিষেবার স্রষ্টা সৌরশক্তি বিশেষজ্ঞ ড. এসপি গন চৌধুরী। কেন্দ্রীয় সরকার ড. গন চৌধুরীর এই সৃষ্টিকে মান্যতা দিচ্ছে।

ভারতে এটিএম পরিষেবা শুধুমাত্র শহর ও মফস্‌সল এলাকাতেই সীমাবদ্ধ, বেশির ভাগ গ্রামই এই পরিষেবার আওতার বাইরে। যার ফলে এই একুশ শতকেও দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ এই পরিষেবা পায় না। এটিএম পরিষেবা গ্রামাঞ্চলে না পৌঁছনোর ব্যাপারটা ভাবাচ্ছিল শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক, ত্রিপুরা রাজ্যের সোলার পাওয়ার কমিটির সভাপতি, সৌরশক্তি বিশেষজ্ঞ ড. গন চৌধুরীকে। তিনি জানেন, গ্রামাঞ্চলে এটিএম পরিষেবা না পৌঁছনোর মূল কারণ দু’টি, বিদ্যুৎ না থাকা এবং শিক্ষার অভাব। কী ভাবে এই দু’টি সমস্যার মোকাবিলা করে গ্রামাঞ্চলে এটিএম পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ড. গন চৌধুরী। এটিএম-এর জন্য প্রয়োজন হয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘণ্টায় ৭০০ থেকে ৮০০ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। দেশের বহু গ্রামে এই ব্যবস্থা নেই। তার ওপর রয়েছে শিক্ষার অভাব। এর জন্য এটিএম মেশিনের সামনে গিয়ে অনেকেই ইংরেজি বুঝতে পারেন না, পিন দিতে পারেন না। সারা দেশে ৩৩ কোটি মানুষ নিরক্ষর, শতাংশের হিসাবে ২৫। এঁরা এটিএম ব্যবহারে অপারগ। দেশের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ এই পরিষেবার সুবিধা পায় না। ড. গন চৌধুরীর ‘বায়ো-সোলার এটিএম’ সমস্ত মানুষকে এই সুবিধা দেবে। এই এটিএম হচ্ছে বাংলা ও হিন্দি ভাষায়।

কী এই ‘বায়ো-সোলার এটিএম’? দেখতে সাধারণ এটিএম-এর মতো, শুধু বিদ্যুৎ আসে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে। দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ এটিএম ব্যবহার করতে না পারলেও মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন। এমন এক এটিএম মেশিন যেখানে যে কেউ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বুড়ো আঙুলের সাহায্যে ব্যাঙ্ক আধার লিঙ্কের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। ড. গন চৌধুরী বলেন, “৩৩ কোটি নিরক্ষর মানুষ মোবাইল ব্যবহার করতে পারে। তাই তাদের সামনে সহজ পদ্ধতি তুলে ধরতে পারলে তারা এটিএম পরিষেবা ব্যবহার করতে পারে। তাই ছবি বেসড্‌ বায়োমেট্রিক টাচ বেসড্‌ মেশিন আবিষ্কার করলাম। যাতে পড়তে হবে না। ৫০০, ২০০০ টাকার নোটের ছবিতে টাচ করলেই টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকরা।”

এই এটিএম মেশিনের সামনে গেলে স্ক্রিনে ক্লিক করে কানে হেডফোন লাগাতে বলবে। তার পর যে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট তার লোগো দেখাবে। সেখানে টাচ করলেই ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হবে। তার পর স্ক্রিনে ৫০০ আর ২০০০ টাকার নোট দেখালে সেখানে টাচ করতে হবে। তার পর ব্যাপারটা সুনিশ্চিত করতে গ্রাহকরা বুড়ো আঙুল ঠেকালেই টাকা পেয়ে যাবেন।

এই মেশিনটির কার্যকারিতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এর কার্যকারিতা দেখে অনুমোদন দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here