ওয়েব ডেস্ক: বিকেল সন্ধেয় রাস্তায় অল্প খিদে পেলে এগ রোল খান?  পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বা এমনিই আড্ডা মারার সময় এগ রোল খাবেন তো? কী বলছেন?  সে তো বরাবরই খান, এ আবার জিজ্ঞাসা করার কী আছে!

আছে। আছে। পরিস্থিতি আর চিরকাল এক রকম থাকে? বাঙালির চিরকালের স্ট্রিট ফুড এগরোলের ওপরও এ বার নজর পড়েছে উত্তর ভারতের ‘হিন্দু’দের। তাঁদের দাবি, ওই সময় নবরাত্রি উৎসব চলে, তাই তখন আমিষ খাওয়া পাপ। ‘বাতাসে আত্মারা ঘুরে বেড়ায়’ কিনা। আর এই কারণে বাঙালির ধর্মীয় আচার এবং সংস্কৃতির ওপর তীব্র আক্রমণ নামিয়ে আনছে তাঁরা।

হ্যাঁ সম্প্রতি এমনটাই ঘটেছে একটি ইউটিউবের চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ‘বং ইটস’ নামে ওই ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত কলকাতা তথা বাংলার নানা খাবার নিয়ে ভিডিও আপলোড করা হয়। কিছু দিন ধরে সেখানে আপলোড করা হচ্ছে বিভিন্ন পুজো স্পেশাল ভিডিও। তার মধ্যেই আপলোড করা হয় এগ রোল তৈরির ওই ভিডিওটি। ওই ভিডিও-র কমেন্ট সেকশনে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে ট্রোল করা শুরু করেন উত্তর ভারতের ‘হিন্দু’রা। তাঁরা বলতে থাকেন নবরাত্রির সময় যখন গোটা দেশ উপোস করে, তখন বাঙালিরা চড়ুইভাতি করে। এটা মোটেই ঠিক নয়। বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধকেও তীব্র আক্রমণ করেন তাঁরা।

এই ভিডিওটিই বিতর্ক তৈরি করে:

কিছু মন্তব্য:

পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।

বাঙালিদের আক্রমণ করতে আরও লোক যোগ দেয়।

বাঙালিরা নিজেদের পক্ষে কথা বলা শুরু করলে হেনস্থা করা শুরু হয় তাঁদের।

আক্রমণ চলতেই থাকে।

আরও খারাপ হয়ে যায় পরিস্থিতি।

গোটা ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত ইউটিউব চ্যানেলটির অন্যতম কর্ণধার সপ্তর্ষি চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “কলকাতার খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরার জন্যই আমরা ‘বং ইটস’ চালু করেছি। এখানে শুধু হিন্দু বাঙালির খাবারের ভিডিও থাকে না। কলকাতায় সবার জন্যই রোল পাওয়া যায়”।

তাঁর ব্লগে সপ্তর্ষি লিখেছেন, “আমরা এবং ভারতের অন্যান্য অংশের মানুষ, যারা হিন্দিতে কথা বলি না এবং যাদের ধর্মীয় আচার এবং সংস্কৃতি উত্তর ভারতের মূল স্রোতের হিন্দুদের সঙ্গে মেলে না, তাঁদেরকে সন্দেহ এবং ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে”। বাংলা ও বাঙালির সম্পর্কে যে ভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি অসহিষ্ণুতা যে ভাবে বাড়ছে, তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।

এখানেই না থেমে সপ্তর্ষি লিখেছেন, “সরকার এক বিশেষ ধরনের জঙ্গি হিন্দুত্ববাদকে দেশবাসীকে গেলানোর চেষ্টা করছে, এর ফলে কাপুরুষ, মূর্খ এবং বুদ্ধিচর্চার বিরোধীরা গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে দেশের কণ্ঠ হয়ে উঠছে”। এবং শেষে অবধি ওই ব্লগার বলেছেন, “আমাদের মা কোনো অবলা গরু নন! তিনি একজন আগুনখোর, দানবঘাতক, সাহসী নারী, যিনি আনন্দ করতে জানেন”।

সৌজন্য: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here