derjeeling

শিলিগুড়ি : দার্জিলিং পর্যটন উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজির করানোর যাবতীয় চেষ্টা চালাচ্ছে আয়োজক গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে এই উৎসব।

গত জুন মাস থেকে মোর্চার জঙ্গি আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শৈল শহর। একদিকে মোর্চার আক্রমণাত্মক বিক্ষোভ-আন্দোলন অন্যদিক তা ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয়তা, পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল পাহাড়ের স্নিগ্ধ-শীতল পরিবেশকে। উত্তেজনার আঁচে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। অনেকেই তাঁদের ভ্রমণ-গন্তব্য বদল করতে বাতিল করেছেন ট্রেনের টিকিট, হোটেল বুকিং। আসছে বড়োদিনের উৎসবে পর্যটকরা যাতে পাহাড়ে না আসেন তার জন্য আগাম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং। ফলে পাহাড়ের প্রিয় উৎসবে বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতির হার নিয়েই একটা সংশয় রয়েই গিয়েছে।

এই অবস্থার অবশ্য কিছুটা হলেও পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই পর্যটকদের আশ্বস্ত করতে এবারের উৎসবের ভূমিকা থাকবেই। যে কারণে জিটিএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিনয় তামাং সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মমতা যাতে ওই উৎসবে উপস্থিত থাকেন তার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানাতে তিনি কলকাতায় গিয়েছেন গত কাল। জানা গিয়েছে, নেতাজির জন্মদিনে আগামী ২৩ জানুয়ারী উত্তরবঙ্গ উৎসবের উদ্বোধন করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানের আগে তিনি যাতে পর্যটন উৎসবেও অংশ নেন, সেই আবেদন জানিয়েছেন বিনয়। বড়োদিনের উৎসবের সময় থেকেই বিদেশি পর্যটকরা পাহাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উদ্যেশে। মোর্চার হুমকিতে ভীত বিদেশি পর্যটকরা যাতে নিরাপত্তা দিক থেকে আশ্বস্ত হতে পারেন, সে কারণেই আগাম কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জিটিএ-র তরফে জানানো হয়েছে।

পাহাড়ের মানুষ অবশ্য বলছেন, শুধুমাত্র পর্যটকদের আশ্বস্ত করতেই নয়, স্থানীয় মানুষের মন থেকে বিমল গুরুংকে মুছে দিতেই বিনয়-ব্রিগেড মরিয়া হয়ে উঠেছে। এক সময়ে বিমল-ঘনিষ্ট, বহিষ্কৃত গোর্খা জনমুক্তি নেতা বিনয় চাইছেন পাহাড়কে শান্ত করে তুলতে হলে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিতিই যথেষ্ট।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here