ভাঙড়-কাণ্ডে ধৃত গ্রামবাসীদের জামিন মঞ্জুরের দাবি জেলাশাসককে

0

অর্ণব দত্ত :

ভাঙড়ে শান্তি ফেরাতে রাজ্য সরকারকে রবিবারের রাতটা সময় দিল জমি-জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি। প্ৰশাসনিক সূত্রে্র খবর, ভাঙড়-কাণ্ডে ধৃতদের সোমবার বারুইপুর আদালতে তোলার কথা। ঢিবঢিবে বাজারের কাছে শ্মশানমাঠে রবিবার জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খামারআইটে পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত যে ১১ জন গ্রামবাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে আদালতে তাঁদের জামিন মঞ্জুর না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ দিন কমিটির পক্ষে শর্মিষ্ঠা চৌধুরী বলেছেন, প্রশাসন আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছে না। তবে আলোচনা ছাড়া সদর্থক কোনো ফল মিলবে না, এ-ও আমরা প্রথম থেকেই বলছি।

সূত্রের খবর, এ দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের সঙ্গে টেলিফোনে ফের এক দফা কথাবার্তা হয়েছে জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির প্রতিনিধিদের। কমিটির তরফে জেলাশাসককে জানানো হয়েছে, সোমবার বারুইপুর আদালতে ধৃতেরা জামিন পেলেই তাঁরা ধরে নেবেন সরকারের মনোভাব ইতিবাচক। তবে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর না হলে আন্দোলন ‌আরও জোরদার করা হবে। ঘোষিত হবে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি। এ ব্যাপারে জেলাশাসকের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেল করে একই দাবিদাওয়া পেশ করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেও এখনও তাঁদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি বলে জানান কমিটির নেতারা।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের গোড়ায় খামারআইটে পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিলের দাবিতে হাড়োয়া রোড অবরোধের যে দিনভর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, সেই দিনও বিতর্কিত ওই পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পটি নিয়ে প্রশাসনকে আলোচনায় বসার দাবি জানিয়েছিল কমিটি। চলতি মাসেই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক আলোচনায় বসবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর পরেই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে।

এ ব্যাপারে কমিটির পক্ষ থেকে শর্মিষ্ঠা বলেছেন, গুলি চালানোর ঘটনার পরে স্বভাবতই আলোচনার রাস্তাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এখন যা পরিস্থিতি তাতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাতেই শান্তি ফিরতে পারে।

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফে উপস্থিত ছিলেন অলীক চক্রবর্তী, মহাদেব মণ্ডল, চঞ্চল চক্রবর্তী প্রমুখ। ‘সেভ দ্য ডেমোক্রেসি’র তরফে চঞ্চলবাবু অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করছেন পাওয়ার গ্রিডের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের তাতাচ্ছেন বহিরাগতরা। অথচ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে তিনি নিজে বহিরাগত হিসাবেই অভিযুক্ত ছিলেন।   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.