Bharati Ghosh IPS

কলকাতা: ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে চন্দন মাজি নামের জনৈক সোনা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ পেয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। এরপরই বিজেপির তরফে অভিযোগ করে বলা হয়, পুলিশ সুপার থাকাকালীন ভারতীদেবী তৃণমূলের হয়ে কাজ করতেন। সে সব প্রকাশ্যে চলে আসার ভয়েই তাঁকে জেলে পুরে মুখ বন্ধ করতে চাইছে সরকার। কিন্তু ভারতীদেবীর একের পর এক বাড়িতে তল্লাশি অভিযান থেকে জোরাল তথ্যপ্রমাণ উঠে আসার পর খোদ তৃণমূলের তরফেই দাবি করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ঠিক কী কী কাজ তৃণমূলের হয়ে করেছেন, তা বিস্তারিত জানানো হোক।

পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতীদেবীর বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি অভিযান এখন প্রায় রুটিনে পরিণত হয়েছে। টানা এক সপ্তাহ ধরে এই তল্লাশি অভিযানে সিআইডি-কে কখনো খালি হাতে ফিরতে হয়নি বলেই রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই তল্লাশি প্রক্রিয়া যে এতটাই দীর্ঘায়িত হবে, তা জানতেন না খোদ সিআইডি কর্তারাও।

কিন্তু এরই মাঝে ভারতীদেবী প্রসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের ঊষ্মাপ্রকাশ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বাংলার বিজেপি নেতারা রাতারাতি দিল্লি উড়ে যাচ্ছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় পর্যন্ত ভারতীদেবীকে নির্দোষ প্রমাণে উঠেপড়ে লেগেছেন। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রীতি মতো সাংবাদিক ডেকে জানান, ‘ভারতীদেবী এক সময় তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় এখন তিনি ওই দলেরই বড়ো শত্রু হয়ে উঠেছেন। সিআইডি তাঁকে সমন পাঠানোয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। আসলে জেলে পুরে দিয়ে তৃণমূল তাঁর মুখ বন্ধ করে দিতে চাইছে।’

এত দিন এ বিষয়ে মুখ বুজে থাকলেও ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের উচ্চনেতৃত্বের একাংশ দাবি করছেন, ‘ওঁকে (ভারতীদেবীকে) আমরা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তবে সবটাই প্রশাসনিক কাজে। দলীয় স্বার্থসিদ্ধিতে তৃণমূল যদি ওঁকে সত্যিই ব্যবহার করে থাকে, তাহলে সে সব বিস্তারিত ভাবে উনি জানান। ভারতী ঘোষের পক্ষে যদি জানানো সম্ভব না হয়, বিজেপি জানালেও হবে। এখন তো শোনা যাচ্ছে, উনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে না কি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য অনেক কিছুই জানাচ্ছেন। তা হলে তৃণমূলের হয়ে কী কাজ করেছেন, সে সব জানাতে অসুবিধা কোথায়?’

এক নেতা বলেন, তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে কাজ করাকেই বিজেপি এখন তৃণমূলের হয়ে কাজ বলে চালাতে চাইছে। একের পর এক সিআইডি তল্লাশিতে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে ভারতীদেবী কার হয়ে কাজ করতেন!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here