ভারতীর বাড়িতে অব্যাহত সিআইডি তল্লাশি, কী করা যায়? ভাবছে বিজেপি

0

কলকাতা: গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা সিআইডি তল্লাশি চলছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার আইপিএস ভারতী ঘোষের একাধিক বাড়িতে। রবিবার সকালেও সিআইডির একটি তদন্তকারী দল সটান পৌঁছে যান ভারতীদেবীর মুকুন্দপুরের বাড়িতে। তবে সেখানে গিয়ে তদন্তকারীরা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা অবলম্বন করায় ঘটনা সম্পর্কে বিশদ কিছু জানা যায়নি।

এ দিকে ভারতীদেবীর একের পর এক বাড়িতে সিআইডি অভিযান ভাবিয়ে তুলেছে বাংলার বিজেপি-কে। আরও স্পষ্ট করে বললে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া মুকুল রায়কে। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘ভারতীর কাছে নিশ্চয় এমন কিছু দুর্লভ ফাইল আছে, যা প্রকাশ্যে এলে রাজ্য সরকারকে অস্বস্তিতে পড়তে হবে। সে কারণেই হয়তো ভারতীর বাড়িতে হানা দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়েন্দারা।’

মুকুলবাবুর এহেন মন্তব্য যথেষ্ট বিতর্কের ইন্ধন জুগিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। দিল্লি থেকেই ভারতীদেবী জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামীর বাড়িতে সিআইডি হানার সময় তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়নি। সম্ভবত সেই ঘটনা থেকেই রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এই মামলার জল আরও অনেক দূর গড়াবে। তখনও হয়তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ভারতীদেবীকে পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

সূত্রের খবর, সেই কারণেই গত শনিবার সুদূর দিল্লিতে গিয়ে এ ব্যাপারে আগাম বন্দোবস্থ সেরে এসেছেন বিজেপির এক নেতা। কোন আইনজীবীকে দিয়ে ভারতী-মামলা সমাধান করা যায়, এই বিষয়টিই এখন ভাবিয়ে তুলেছে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ নেতৃত্বকে। দল যদি নিজস্ব লিগ্যাল সেলকে দিয়ে মামলা লড়ে তা হলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে পারে। যে কারণে আপাতত স্থির হয়েছে, কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে দিয়েই একটি জনস্বার্থ মামলা করানো হতে পারে। একজন আইপিএস অফিসার এবং তাঁর পরিবারকে কেন এ ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তেমন প্রশ্ন তুলেই আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। প্রকাশ্যে না এলেও নেপথ্যে থেকে বিজেপি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারে।

পাশাপাশি দাসপুরের এক ব্যবসায়ীর যে অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য তদন্ত অভিযানে নেমেছে, সেই বিষয়টিরও আইনি নিষ্পত্তির কথা চিন্তা করা হচ্ছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন