আমি না জিতলে অন্য কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন, আমাকে রাখতে ভোট দিন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

0

কলকাতা: ভবানীপুর উপনির্বাচনের প্রচারে বুধবার চেতলায় সভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনও চেনা মেজাজেই ধরা দিলেন মমতা। তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও এই লড়াইকে মোটেই দায়সারা ভাবে নিচ্ছেন না তিনি।

ভবানীপুর থেকে প্রার্থী হওয়া নিয়ে মমতা বলেন, “আমি দক্ষিণ কলকাতা থেকে যত বার দাঁড়িয়েছি, আপনারা আমাকে সব সময়ই সমর্থন করেছেন। সাত বার আমি সাংসদ হয়েছি। এর মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা থেকেই ছ’বার জিতেছি। সমর্থন পেয়েছি। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মস্থান এবং কর্মস্থানও এটাই। মাতৃস্থান, পিতৃস্থান, পীঠস্থান। ২০১১ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে আমি এখান থেকে দাঁড়িয়ে জিতেছিলাম। আবার ২০২১-এ উপনির্বাচন। হতে পারে এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা ছিল। আল্লার ইচ্ছেও তাই। এটাই নিয়তি। আমার মা-বোনেদের ইচ্ছে ছিল। তাঁরা চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী হোক। আমরা বাইরে যেতে দেব না”।

এ বারের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়া নিয়ে মমতা বলেন, “২০২১-এর নির্বাচনে কৃষক আন্দোলনে জায়গা নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। তাই দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু ওখানে যে কী ভাবে হারানো হয়েছে তা প্রকাশ্যে আসবে। আদালতে মামলা চলছে। জানা যাবে, আমার বিরুদ্ধে সেখানে কী করা হয়নি”!

ভবানীপুরের ভোটারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের প্রত্যেকটা ভোট গুরুত্বপূর্ণ। একটা ভোট না পেলেও আমার ক্ষতি হয়ে যাবে। অনেকে ভাবছেন, দিদি এমনিই জিতে যাবেন। আবার বৃষ্টির মধ্যে ভোট দিতে যাব কেন। কিন্তু, দোহাই ওই কাজটি করবেন না। আপনাদের প্রতিটা ভোট আমার দরকার। ভোট না দিলে আমাকে পাবেন না। আমি না জিতলে তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী, অন্য কেউ হবে, আমি নয়”।

অতীতে মানবাধিকারের জন্য নিজের লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন মমতা। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথাও নিজের বক্তৃতায় তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি মোদী-শাহকে দাদা-ভাই বলতে পারি। এটা সৌজন্য। কিন্তু তাই বলে দেশে তালিবানি শাসন মেনে নেব না। দেশে সকলে থাকবে। দেশকে টুকরো করতে দেব না। রাজ্যকেও টুকরো করতে দেব না। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভাজন আসতে দেব না”।

সম্প্রতি ত্রিপুরায় তৃণমূলকর্মীদের উপর হামলার প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “বাংলা একমাত্র জায়গা সবাই আসতে পারে। একুশের নির্বাচনের আগে বাংলায় ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করত বিজেপি আর ও দিকে ত্রিপুরায় যেতে গেলে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। অভিষেক মিছিল করতে চেয়েছে বলে ওকে আটকাতে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ওখানে। অর্থাৎ পুজোতেও জারি ১৪৪ ধারা। প্রয়োজনে ত্রিপুরায় খেলা হবে। আমরা খেলব, জিতব, বিজেপি-কে দেশ থেকে তাড়াব”।

আজকের উল্লেখযোগ্য আরও কিছু খবর পড়তে পারেন এখানে:

১২ বছর পর পেনশন চালু হল ইরা বসুর, মমতা-অভিষেককে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘বিশেষ লোকের নামে চলাফেরা’র অপবাদ নিয়েও সরব

স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের তলবে বিধানসভায় হাজিরা এড়াল ইডি, সিবিআই

স্বীকৃতি মিললেও কোভিশিল্ডের দু’টি ডোজ নেওয়া ভারতীয়দের নিভৃতবাসেই থাকতে হবে, জানাল ব্রিটেন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় গিয়ে বাধা, পুলিশকে ‘পিসি সার্ভিস’ বললেন বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি

প্রাথমিকের নিয়োগ মামলায় হাইকোর্টে তালিকা জমা দিল সংসদ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন