bidhan chandra krishi viswavidyalaya
বুধবারের মিছিল

ওয়েবডেস্ক: বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল পড়ুয়া অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন গত বেশ কয়েকদিন ধরে। গত শনিবার তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ধরণীধর পাত্রের ঘরের সামনে অবস্থান করেন। ধরণীধরবাবু অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পড়ুয়াদের অবস্থান চলছে এখনও। বুধবার তাঁদের তরফে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে জানানো হয়, দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি না মানা হলে তাঁরা অনির্দিষ্টকালীন অনশনে বসবেন। কী সেই দাবি?

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক কালে পুলিশ ঢোকানো-সহ বেশ কয়েক মাস ধরেই কর্তৃপক্ষের একাংশের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের অভিযোগ বহুবিধ। যেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, কর্তৃপক্ষের একাংশের মদতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ‘দালাল-রাজ’। জোর করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগের নিশানায় স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ারের ডিন গৌতম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। মেস কমিটির বেনিয়ম, ছাত্র-ছাত্রীদের একে অপরের সঙ্গে কথা বলায় ফতোয়া, পক্ষপাতিত্ব-সহ একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারী ওই পড়ুয়ারা। তৃতীয়বৰ্ষের কিছু ছাত্রকে দিয়ে হেনস্থা করানোর অভিযোগও তুলেছেন অবস্থানকারীরা।

একই ভাবে অভিযোগ উঠেছে কৃষি শাখার ডিন শ্রীকান্ত দাসের বিরুদ্ধে। ওই পড়ুয়াদের দাবি, আট মাস অতিক্রান্ত হলেও সেমেস্টারের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। যে কারণে আটকে রয়েছে স্কলারশিপ। এ ছাড়া গ্রেড নির্ণয়ের সঠিক পদ্ধতিও অজানা থেকে গিয়েছে পড়ুয়াদের কাছে। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও তিন বার শ্রীকান্তবাবুর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

bidhan chandra krishi viswavidyalaya
অবস্থানরত পড়ুয়ারা

এরই মধ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা, তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ায়, তাদেরকে তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের একাংশ মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসে অশান্তি সৃষ্টি হয়। তারপরই উপাচার্যের অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকেন কৃষি শাখার ডিন শ্রীকান্ত দাস ও স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিন গৌতম চক্রবর্তী। পুলিশ ঢোকার প্রতিবাদে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে অবস্থানে বসেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, দুই আধিকারিকের সিদ্ধান্তেই ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।

এ দিন অবস্থানরত পড়ুয়াদের তরফে জানানো হয়, উপাচার্যকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তাঁদের দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালীন অনশনে বসবেন তাঁরা।

অন্য দিকে উপাচার্য ধরণীধর পাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি”।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন