ওয়েবডেস্ক: ২০১৫-র বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ঢঙে বাংলায়ও বিজেপি বিরোধিতার পৃথক মঞ্চ গঠনের কাজে নামল কয়েকটি সংখ্যালঘু, দলিত এবং উপজাতি সংগঠন। এই সংগঠনগুলির দাবি, পৃথক ফোরাম গঠন করে তাদের আন্দোলন চললেও যে কোনো বিজেপি-বিরোধী দলকে স্বাগত জানানো হবে।

হাতে আর এক বছরও সময় নেই রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের। ২০১৮-এর পঞ্চায়েতের পরেই আসছে সাধারণ নির্বাচন। স্বাভাবিক ভাবেই এ রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটকে লোকসভা নির্বাচনের মহড়া হিসাবে দেখছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সে দিকে তাকিয়েই এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ঘর গোছানোর কাজ।

শান্তি, সংহতি সম্প্রীতি মোর্চা নামে প্রস্তাবিত ওই মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরোধিতায় সুর চড়ানো হবে বলেই ফোরামের প্রধান দুই সংগঠন জানিয়েছে। অল বেঙ্গল মাইনরিটি ইয়ুথ ফেডারেশন এবং অল ইন্ডিয়া সুন্নত আল জামায়েত নামের এই দুই সংগঠনে বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষ সদস্য রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে কথা চলছে রাজ্যের বেশ কয়েকটি দলিত এবং উপজাতি সংগঠনেরও।

বিহারের গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, জনতা দল (ইউনাইটেড) যে ভাবে মহাজোট রচনা করে ময়দানে নেমেছিল, কতকটা একই ঢঙে বিজেপি বিরোধিতার পথে নামছে ওই ফোরাম। কিন্তু বিহারে তো মহাজোটের শেষ পরিণতি সুখকর হয়নি। নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর মহাজোট উধাও হয়ে গিয়েছে। যে নীতিশ নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলিম এবং যাদব ভোট একত্রিত করতে মাঠে নেমেছিলেন, সেই তিনিই এখন বিজেপি শিবিরে। ফলে এমন একটা সাময়িক ধারণাকে সম্বল করে আন্দোলনের অস্তিত্ব কত দিন টিকবে? মাইনরিটি ইউথ ফেডারেশনের এক সদস্য রাকিবুল হক জানান, “আন্দোলনে নামার আগে জল মাপা সম্ভব নয়। আমরা আশা করছি এমন একটা মঞ্চ তৈরি হওয়ার পর রাজ্যের বিজেপি-বিরোধী সব ক’টি রাজনৈতিক দলের সাহায্য পাব।” সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ কামারুজ্জামান বলেছেন, “সামনে পঞ্চাযেত নির্বাচন থাকলেও আমাদের মূল লক্ষ্য লোকসভা নির্বাচন।”

শান্তি, সংহতি এবং সম্প্রীতি মোর্চা সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলির দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?

সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, এই ধরনের উদ্যোগ খুবই ভালো। রাজনৈতিক ভাবে কোনো সহযোগিতার আর্জি এলে তাঁরা ভেবে দেখবেন।

অন্য দিকে তৃণমূলের পক্ষে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, এটার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে দল এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তিনি জানিয়ে দেবেন।

একেবারে অন্য সুরে কথা বলছে রাজ্য বিজেপি। দলের জাতীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রাহুল সিনহা বলেন, এটা তৃণমূল আর সিপিএমের সম্মিলিত একটা চক্রান্ত। তবে সারা দেশে বিজেপি যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে এ সব করে কোনো কাজ হবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here