binay

ওয়েবডেস্ক: এক সময়ে তাঁর কথাতেই পাহাড়ে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত। তিনিই ছিলেন পাহাড়ের সর্বাধিনায়ক। তাঁর কথাতেই কার্যত উঠত-বসত পাহাড়। সেই বিমল গুরুংকে এ বার দল থেকে বহিষ্কার করল তাঁর নিজেরই দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।

সোমবার ঘুমে মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। গুরুং-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আশা এবং তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী রোশন গিরি-সহ মোট চোদ্দো জনকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আপাতত ছ’মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁদের।

সোমবার মোর্চার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন বিনয় তামাং, অনীত থাপা হলেন সাধারণ সম্পাদক। পাহাড়ে গুরুং-এর কর্তৃত্ব যে ক্রমশ কমছিল সেটা বেশ কয়েক মাস ধরেই প্রমাণিত হচ্ছিল। গত জুনে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন গুরুং। তখন থেকেই অনির্দিষ্টকালের বন্‌ধে অচল হয়ে উঠেছিল পাহাড়। পর্যটকভরা মরসুমে এ ভাবে বন্‌ধ মেনে নিতে পারেনি পাহাড়বাসী। তাই গুরুং-এর পরিবর্তে যখন আলোচনাপন্থী নেতা হিসেবে বিনয় তামাঙের নাম উঠে আসে, পাহাড়বাসী তা মেনে নেন।

এরই মধ্যে দলীয় কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে গত মাসে বন্‌ধের ডাক দেন গুরুং। তবে সেই বন্‌ধের প্রভাব পড়েনি। অন্য দিকে ইউএপিএতে অভিযুক্ত গুরুং গ্রেফতারে এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁকে খুজতে গিয়েই গুরুংপন্থীদের গুলিতে নিহত হন রাজ্য পুলিসের এসআই অমিতাভ মল্লিক।

গুরুং-এর কর্তৃত্বের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা হয় রবিবার, যখন বিনয় তামাঙের ডাকা সভাতেই হাজির হন হাজার হাজার মোর্চা সমর্থক। তার পর আর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দেরি হয়নি বিনয়-অনীতদের।

এ দিকে মঙ্গলবার শিলিগুড়ির পিনেটেল ভিলেজে রাজ্যের সঙ্গে ফের একদফা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে মোর্চার। সেই বৈঠকে উপস্থিত হতে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠক থেকে পাহাড় সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান বেরোয় কি না সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here